বলা হচ্ছে আশির দশকের পর বলিউডে এমন খারাপ সময় কখনো আসেনি। ভারতে আরো অনেক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আছে, কিন্তু এ মুহূর্তে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে বলিউড। জানুয়ারিতে মাস্টার ছবির মাধ্যমে তামিল ইন্ডাস্ট্রি ভালো সূচনা করে। বছরের প্রথম চার মাসে উপহার দিয়েছে একাধিক ব্লকবাস্টার। মলয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতেও দেখা গেছে মহামারীর সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষণ। কিন্তু বলিউডই কেন যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। বছরের প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলতে জাহ্নবী কাপুর, রাজকুমার রাওয়ের রুহি। সেটা আহামরি কিছু নয়। তবে ছবিটির টিকিট বিক্রি বড় ছবিগুলোকে আশা দেখিয়েছিল।

জন আব্রাহাম ও ইমরান হাশমির মুম্বাই সাগা তেমন কিছুই করতে পারেনি। আয়ের হিসেবে ছবিটি রুহিরও পেছনে ছিল। পরিণীতি চোপড়ার সাইনা মুক্তি পেয়ে বিভিন্ন রাজ্যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় লকডাউনের মুখে পড়ে। বক্স অফিস যথারীতি হতাশ। গত এক বছরে বলিউড নির্ভর সিনেমা হলের আয় একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। এক বছরে পুরো বলিউডের আয় ১০০ কোটি রুপির কম। এ অংক থেকেই ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি সহজেই বোধগম্য। অনেকে আশা করছেন অক্ষয় কুমারের সূর্যবংশী মুক্তির পর বলিউড কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করতে পারে।

সালমান খানের বড় ছবি রাধে পে পার ভিউ নীতিতে ডিজিটাল দুনিয়ায় মুক্তি দেয়া হলেও তা আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। বলিউড পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা সত্যিই বেশ খারাপ। এমনকি দর্শকদের সিনেমা দেখার রীতিতেও পরিবর্তন আসবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন। বলিউডের ছবির কন্টেন্ট নিয়েও সমালোচনা একটু একটু করে শুরু হয়েছে। মহামারীর চেয়ে ছবির দুর্বল প্লটকে আরো শঙ্কার বলে বিবেচনা করছেন। দর্শকরা হয়তো সিনেমা হলে না গেলেও ওটিটি প্লাটফর্মে ভালো কন্টেন্ট আশা করছেন, কিন্তু সেখানেও হতাশ করছে বলিউড। সমালোচকরা বলছেন, বলিউডের এখনকার ছবির কাহিনী গোঁজামিলে ভরা, কমেডির তো রীতিমতো অকেজো অবস্থা। আশির দশকে যখন বলিউডের খারাপ সময় যাচ্ছিল, তখন সংশ্লিষ্টরা সেটা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন নানা কারণে বলিউডের সমালোচনা উঠলে সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করা হয়। নেপোটিজম থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে বলিউডের ভেতরে থাকা ফল্টলাইনগুলো কিছু কিছু দেখা গেছে। হিন্দি গানও এখন আগের মতো শ্রোতা টানছে না। অন্য ইন্ডাস্ট্রির কাহিনী নিয়ে একের পর এক ছবি বানানো বলিউডের দুর্বলতাকে আরো উন্মুক্ত করেছে। অন্যদিকে আবেগনির্ভর, পরিচিত গল্পের জাবরকাটা আর দর্শককে আকর্ষণ করছে না।

 

সূত্র: পিংকভিলা