বর্তমান সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী নায়মা আলম মাহা। একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার প্রথম সিনেমা কানামাছি। অভিনয় আর ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী

নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে আপনার দূরদর্শিতার রহস্য কী? 

সবার আগে আমি নাটকের পরিচালককে দেখি। যখন একজন গুণী নির্মাতা নাটক নির্মাণ করেন, অভিনেতাদের জন্য সেটা খুশির খবর হয়। কারণ ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করলে অনেক শেখার সুযোগ থাকে। যেমন সালাউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের সিরিয়াল এলে আমি অবশ্যই করব, কারণ তিনি একজন সুদক্ষ নির্মাতা। প্রথমে চ্যানেল থেকে নাটকের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়, আবার অনেক সময় পরিচালক জানান। তারপর নাটকে যুক্ত হই। গল্প ও চরিত্রও দেখি। 

অনেক তারকা ধারাবাহিক নাটকে অনীহা দেখান শিডিউলের কারণে। আপনি ধারাবাহিক নাটকের শিডিউল চ্যালেঞ্জটা নিয়ে কীভাবে কাজ করছেন?

এটা যে আমি কীভাবে করি, নিজেও জানি না। গত এক বছর এমন হয়েছে যে আমার প্রতিদিন শুটিং থাকত। এমন হতো আমি ভাবতাম, মাসে ৩০ দিন না হয়ে আরো বেশি হলে আমি আরো কাজ করতে পারতাম। বলা যায়, এক বছর আমি কোনো বিশ্রাম না নিয়ে নিয়মিত কাজ করে গেছি। সব মিলিয়ে শিডিউল মিলিয়ে কাজ করেছি। 

নিজের নাটকগুলো দেখার সময় হয়?

সত্যি বলতে আমার নিজের নাটক দেখার সুযোগ কম। অনেক সময় দেখা যায় আমাকে নক দিয়ে অনেকেই বলেন, ওই নাটকটা দেখেছি কিনা। তখন ইউটিউব থেকে টেনে টেনে তাড়াতাড়ি দেখে ফেলি। কারণ আমাকে ঘুমাতেও হয়। 

নতুন সিনেমায় কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন?

শুরু থেকেই সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছিলাম। তবে আমি বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা করতে চাই না। সবসময়ই আর্টফিল্ম করতে চাই। এখনো ওই ধারার সিনেমার প্রস্তাব আসেনি, এলে অবশ্যই করব। দর্শককে বলতে চাই, এরই মাঝে আমি একটি সিনেমা করেছি। অঞ্জন আইচের ‘‌কানামাছি’। আশা করছি, এটি শিগগির মুক্তি পেতে পারে। তবে এখনি আমি এর মুক্তি নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।

ওটিটি প্লাটফর্মে অভিনয় নিয়ে ভাবছেন?

অবশ্যই, আমারো পরিকল্পনা আছে কাজ করার। ভালো গল্প, ভালো নির্মাতা ও চরিত্র এলে দর্শক আমাকে ওটিটিতেও দেখতে পাবে। আমি অপেক্ষায় আছি। আমার নিয়মিত ওটিটি কনটেন্ট দেখা হয়।

মিডিয়ায় আসার ক্ষেত্রে পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছেন?

না, একদমই পাইনি। নিজের জোর আর জেদ নিয়ে মাঠে নেমেছি। এগুলোই ছিল আমার পুঁজি। আমার পরিবারের সদস্যরা বিনোদনজগতের একদম বাইরে। আমার মনে হয় না, আমার বাসায় আমি কখনো জোরে ভলিউম দিয়ে গান শুনেছি। ছোট থেকেই পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা আমাকে নায়িকা বলে ডাকত। সেই থেকে এটা শুনে শুনে মাথায় গেঁথে যায়। একসময় আয়নায় দাঁড়িয়ে অভিনয়ের চেষ্টা করতাম, ধরা খেলে মারও পাওনা হয়ে যেত।

সেখান থেকে এ অবস্থায় আসা কী করে?

শুরুতে যখন কাজের প্রস্তাব আসে, তখন সবাই না করে দেয়। আমি লুকিয়ে শুটিং করতাম। একদিন শুটিং শেষ করে বাসায় আসতে রাত হয়ে যায়। আব্বু এ নিয়ে প্রশ্ন করতেই বলেছিলাম শুটিংয়ের কথা। তখন অনেক রাগারাগি হলেও নাটক অনইয়ারের পর আব্বুর কানে ইতিবাচক মন্তব্য আসে। এরপর থেকে আব্বু মেনে নিয়েছে। এখন আমার পারিবারিক কোনো প্রগ্রাম থাকলে আব্বুই বলে, ওর শুটিং আছে ও আসতে পারবে না; আগে কাজ। 

এ বছর ঘিরে কোনো পরিকল্পনা আছে?

এখন পরিকল্পনা কীভাবে নিজের ক্যারিয়ারটা আরো গুছাব। কীভাবে শিডিউলগুলো আমি সাজাব। মাসে কয়দিন কাজ করব, কয়দিন করব না, এটাই এখন ভাবনা হয়ে গেছে। ক্যারিয়ারের এমন একটা সময়ে আছি, যেখানে দৌড়ানো থেকে বিরতি নেয়া যাবে না। আপাতত আগামী তিন-চার বছরে বিরতি নেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। 

তাহলে কি বলা যায়, আপনি অনেক বেশি ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড?

আমার কাছে আমার ক্যারিয়ার মানেই অভিনয়। আমার ধ্যান-জ্ঞান সব অভিনয়। আমার মনে হয় না অভিনয় থেকে অন্য কোনো কাজে যেতে পারব। আমার নিশ্বাসের সঙ্গে অভিনয় মিশে আছে। 

এখনকার কাজের ব্যস্ততা নিয়ে বলুন

একসঙ্গে অনেকগুলো ধারাবাহিকে কাজ করছি আমি। এর মাঝে তিনটি নাটকের কাজ ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে, তাই ব্যস্ততা ছিল অনেক বেশি। আর নতুন কোনো সিরিয়ালের সঙ্গে এখনই যুক্ত হচ্ছি না। আপাতত যে সিরিয়ালগুলো করছি, সেটা নিয়েই আছি। সামনে নতুন কাজ করব।