রুপালি পর্দায় বিশাল ভরদ্বাজ কাজ করছেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে। তার পরও অধিকাংশ সময় তার উপস্থিতি বোঝা যায়নি সে অর্থে। ভক্তদের অধিকাংশই তাকে চেনে মূলত ‘মাকবুল’ ও ‘ওঙ্কার’ নির্মাণের পর থেকে। তবে সত্যিকার অর্থেই তার নির্মাণ একবিংশ শতাব্দীর সেরা হিন্দি চলচ্চিত্রের তকমা কুড়িয়েছে। সিনেমায় শাবানাকে দেখা যায় এক ডাইনির চরিত্রে, যে কিনা শিশুদের অপহরণ করে তার জাদুকরী শক্তির মাধ্যমে অন্য প্রাণীতে রূপান্তর করে। শিশুতোষ এ সিনেমার নাম ‘মাকড়ি’। এটি মুক্তি পায় ২০০২ সালে। শিশুদের জন্য নির্মিত হলেও চলচ্চিত্রটি গড়পড়তা শিশুতোষ নয়। অনেকটা থ্রিলারধর্মী। এমন ভিন্নধর্মী শিশুতোষ সিনেমা নির্মাণের পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন বিশাল ভরদ্বাজ। 

ভারতে এখনো শিশুতোষ চলচ্চিত্রকে উচ্চতর অবস্থানে দেখা হয় না। বিষয়টি বিশালকে বেশ ভুগিয়েছে। স্রোতের বিপরীতে গিয়ে তিনি যখন মাকড়ি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন তখন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছিলেন, নিয়েছিলেন একটি থ্রিলার হিসেবে। মাকড়ি সিনেমায় দেখা যায়, চুন্নি নামের এক বালিকার যমজ বোনকে ডাইনি অপহরণ করে। তারপর চুন্নি নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে তার বোন ও গ্রামকে উদ্ধার করে ডাইনির হাত থেকে। 

বিশাল প্রথম মাকড়ির কাজ শুরু করেছিলেন চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত শিশুতোষ চলচ্চিত্র সহযোগিতা দিয়ে থাকে। কিন্তু মাকড়ি ভারতের গতানুগতিক শিশুতোষ চলচ্চিত্রের মতো না হওয়ায় নানা অজুহাত শুরু হয়। বিশাল জানান, তারা মূলত চেয়েছিল গতানুগতিক ধারার কোনো শিশুতোষ সিনেমা। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির পরিচালক সাই পারানজপে। তিনি ‘কথা’ ও ‘চাশমে বাদ্দুর’ সিনেমার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনিই স্পষ্টভাবে বিশালকে আধুনিক সময়ের থ্রিলারের মতো একটা শিশুতোষ সিনেমা তৈরি করায় আপত্তি জানিয়েছিলেন। সে প্রসঙ্গে বিশাল বলেন, ‘আমি শিশুদের বুদ্ধিমান হিসেবে বিবেচনা করতে চেয়েছি’। 

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সাই তার সিনেমাকে এডিট করতে চান। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। শাবানা আজমি আগে সাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে তাকে নিয়ে কাজ করার ব্যাপারেও কিছুটা টানাপড়েনের শঙ্কা ছিল। অনেকটা মনে করা হচ্ছিল, বিশালকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া টাকা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু সবকিছুই কাজ করে তার অনুকূলে। সিনেমাটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হলে মুক্তি পায়। 

সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্বেতা বসু প্রসাদ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। এখন শ্বেতা পরিণত তারকা। তিনি তার শৈশবের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন সম্প্রতি। তিনি জানান, যদিও তিনি সেটে হাজির থাকতেন, কিন্তু সিনেমার বিষয়ে বলতে গেলে তেমন কিছুই বুঝতেন না। কেবল নিয়মিত যাতায়াতকারী হিসেবেই যেন ছিলেন। তবে সে সময়টুকুতে অভিনয় সম্পর্কে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। মাকড়িতে তার ও বিশেষ করে শাবানা আজমির চরিত্র চিত্রায়ণ ছিল অন্য মাত্রার। সিনেমাটি পরবর্তী বলিউডের জন্য নতুন পদচিহ্ন রেখে গেছে। 

মাকড়ি তৈরির কয়েক বছরের মধ্যেই বিশাল ভরদ্বাজ নতুন আরেকটি শিশুতোষ সিনেমা তৈরি করেন, যার নাম ‘দ্য ব্লু আমব্রেলা’। সেটাও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় বিশ্লেষক মহলে। তাছাড়া ‘হায়দার’, ‘কামিনে’ ও ‘সাত খুন মাফ’ তার জন্য স্বতন্ত্র আসন নিশ্চিত করেছে বলিউডে। অবশ্য মাকড়ি এখনো ওটিটি প্লাটফর্মে পাওয়া যায় না।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস