ফিলিপিনো-মার্কিন সংগীতশিল্পী গ্যাব্রিয়েলা সারমিয়েনতো উইলসন পরিচিত ‘হার’ নামে।
মাত্র ২৩ বছর বয়সেই জিতেছেন গ্র্যামি ও অস্কার।
দুটোই এ বছরের অর্জন।
এর মধ্যে গ্র্যামি জিতেছেন তার ‘আই কান্ট ব্রিদ’
গানের জন্য।
গত বছর মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাঁটুর চাপে মারা যান কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড।
সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় তোলে এ ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার।
সে বছর ১৯ জুন প্রকাশিত হয় হারের গান আই কান্ট ব্রিদ শিরোনামের গান।
গানটির কথাও লিখেছেন হার।
গানটি ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এ গান এ বছর ৬৩তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এর সম্মান জিতেছে।
এখানেই শেষ নয় হারের জয়যাত্রা।
এ বছর মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মাসিহা ছবিতে তার গাওয়া ফাইট ফর ইউ গানের জন্য পেয়েছেন বেস্ট অরিজিনাল সংয়ের অস্কার।
২৩ বছর বয়সী হার নিজেকে ‘একই সঙ্গে ফিলিপিনো ও কৃষ্ণাঙ্গ’
হিসেবে পরিচয় দেন।
‘আই কান্ট ব্রিদ’ গানের কথা, গায়কির জন্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন হার। বলা হয় হার তার গলায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের ক্ষোভ, দৃঢ়তাকে একই সঙ্গে ধারণ করেছেন। অন্যদিকে তার এশীয় পরিচয়, গায়ের রঙ ও নারী পরিচয় হারকে প্রতিষ্ঠিত করেছে আর দশজন শ্বেতাঙ্গ তারকার চেয়ে ভিন্ন আসনে।
অন্যদিকে এপ্রিল যে গানের জন্য অস্কার পেয়েছেন হার, সেটিও এক অনবদ্য রাজনৈতিক তাত্পর্য বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ব্ল্যাক প্যান্থার আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা ফ্রেড হ্যাম্পটনের জীবনী নিয়ে নির্মিত জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মাসিহা ছবিতে গাওয়া ফাইট ফর ইউ গানটিও বর্ণবাদের ক্ষত নিয়ে।
এ গানের জন্য অস্কার নেয়ার সময় হার তার ভাষণে বলেন, ‘সংগীতশিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতারা, আমি বিশ্বাস করি আমাদের সুযোগ আছে সত্য বলার এবং এটা আমাদের দায়িত্বও।
আমাদের উচিত সত্য ইতিহাস ও বর্তমানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে লিখে রাখা।
জ্ঞান শক্তি, সংগীত শক্তি।
আমি যতদিন দাঁড়িয়ে থাকব ততদিন নিজেদের জন্য লড়ে যাব।
আমার জনগণ এবং ন্যায়ের জন্য আমি সবসময় সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
সংগীত তা-ই করে।’
ব্ল্যাক মিউজিক অ্যাকশন কোয়ালিশনের কো-চেয়ারম্যান বিনতা নিয়ামবি ব্রাউন বলেছেন, ‘আমি আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে হারকে শক্তিশালী কণ্ঠস্বরদের একজন হিসেবে বিবেচনা করি।
তার গান এবং কাজ এমন স্পষ্ট ও জরুরি যে এটা পরিষ্কার তিনি এসব তার হূদয়ের তাগিদ থেকে করেন।’
২৩ বছরেই হার জিতেছেন চারটি গ্র্যামি ও একটি অস্কার।
অর্থাৎ একজন ‘এগোট-ইজিওটি’
হওয়া থেকে তিনি সামান্য দূরে।
ইজিওটি বলা হয় তাদের যারা এমি, গ্র্যামি, অস্কার ও টনি—চারটি অ্যাওয়ার্ডসই ঝুলিতে পুরেছেন।
ইতিহাসে এমন কৃতিত্ব এখন আছে ১৬ জনের।
হার নিজের বয়স ত্রিশের আগেই ‘এগোট’ হতে চান।
হারের আশা আরো কৃষ্ণাঙ্গ-এশীয় মেয়েরা তার সফল্যে প্রাণিত হবে এবং ভাববে, ‘আমিও এমনটা পারব।’
হারের জন্ম ১৯৯৭ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়।
তার মা ফিলিপাইনের মানুষ আর বাবা আফ্রো-আমেরিকান।
মা-বাবার উৎসাহে কিন্ডারগার্টেন স্কুল থেকেই গান গাওয়া শুরু হারের।
সাত বছর বয়সেই সহপাঠীদের নিয়ে একটা গানের দল বানিয়ে ফেলেছিলেন হার।
তখন পরিবারের সবাই জানত হার হবেন একজন ডেন্টিস্ট নয়তো মায়ের মতো নার্স।
কিন্তু তারপর তার ইচ্ছারই জয় হয়, সংগীতকেই জীবনের অংশ করে নেন তিনি।
সূত্র: ভ্যারাইটি










