বক্স অফিস নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাতামাতিকে বিরক্তিকর আখ্যা দিয়েছেন হলিউড দুনিয়ার চিরচেনা মুখ মার্টিন স্করসেসি। সম্প্রতি নিউইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তার মতে, এ প্রবণতা দিয়ে দিন শেষে চলচ্চিত্রকে অবমূল্যায়ন, হেয় ও তাচ্ছিল্য করা হয়। এ সময়ে এসে সাধারণত সিনেমার বক্স অফিস সাফল্যকেই সিনেমার সাফল্য বা ব্যর্থতার মাপকাঠি ধরা হয়। সে জায়গা থেকে সিনেমার বাজার ও সিনেমা নিয়ে দর্শক সমালোচক ও বাণিজ্যিক মহলের চলমান মানসিকতা নিয়ে তিনি এরূপ মন্তব্য করেছেন।

নিউইয়র্ক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে মার্টিন স্করসেসি তার ডকুমেন্টারি ‘পার্সোনালিটি ক্রাইসিস: ওয়ান নাইট অনলি’ সম্পর্কে কথা বলেন। উৎসবের সবাইকে উদ্দেশ্য করে তার বক্তব্য ছিল বেশ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘আশির দশক থেকে মানুষ সংখ্যার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এটা বিরক্তিকর। চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনে অর্থ ব্যয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। সে ব্যয় তুলে আনতে চাওয়া স্বাভাবিক। তাই বলে সংখ্যা নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকতে হবে? আজকাল সবাই হরেক রকম সংখ্যা নিয়ে মগ্ন। নির্মাণে কত খরচ হয়েছিল, প্রথম সপ্তাহে ব্যবসা কেমন হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আয় কত হলো, ইংল্যান্ডে কত কামিয়েছে, এশিয়ায় কত লাভ, মোট আয় কত কিংবা কেমন দর্শক পেল-এমন সব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেই বলি আর ব্যক্তি হিসেবে, চলচ্চিত্র ছাড়া জীবনকে কল্পনা করা যায় না। ফলে শিল্পকে এসব দিয়ে বিচার করাটা শিল্পের জন্যই অপমানজনক।’

১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করা স্করসেসির পাঁচ দশক ধরে চলচ্চিত্র জগতে পদচারণা। নামের পাশে একাধিক বার যোগ হয়েছে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড কান, গোল্ডেন গ্লোব ও বাফটা অ্যাওয়ার্ডের মতো সম্মাননা। তার নির্মিত চলচ্চিত্র ট্যাক্সি ড্রাইভার, রেইজিং বুল ও গুডফেলাস রয়েছে সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রের তালিকায়। এ সিনেমাগুলো হলিউড ও সিনেমার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমা নিয়ে তাই তার মন্তব্য গুরুত্ববহ।

সবকিছু দেখে মার্টিন স্করসেসি দর্শকদের প্রতি আহবান জানান, তারা যেন চলচ্চিত্রকে ভালোবাসেন। কেননা চলচ্চিত্রের ভালো-মন্দের সঙ্গে দর্শকের রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। একটি সিনেমাকে তারাই ভালো বা মন্দের তকমা দিতে পারেন। কিন্তু সেখানে একই ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দর্শক ও সিনেমা নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরাও সিনেমার শিল্প বা অন্যান্য বিষয় না দেখে ব্যবসার বিষয়টিই দেখেন। সুপারহিরো সিনেমা এক্ষেত্রে এক ধরনের প্রভাব রেখেছে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্টিন সুপারহিরো মুভিকে থিম পার্ক রাইডের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু এ সময়ে দর্শরা এ ধরনের সিনেমাই দেখছেন। যথার্থ শিল্প বা সিনেমার শিল্প হয়ে ওঠার জন্য সময়টাকে প্রতিকূল বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান