রাতারাতিই তারকা বনে গেছেন অনীত পদ্দা। তিনি এখন ভারতীয় সিনেমা, বিশেষত বলিউডের পরিচিত ও আলোচিত অভিনেত্রী। মোহিত সুরির সাইয়ারা তাকে এ সাফল্য দিয়েছে। কেবল সাফল্যই না, তিনি মনে করেন এ সাফল্য তাকে পছন্দের কাজ করার সুযোগও দিয়েছে। শিগগিরই তাকে দেখা যাবে অমর কৌশিকের শক্তিশালিনী সিনেমায়।
তবে অনীত হঠাৎ করেই অভিনয়ে আসেননি। সম্প্রতি গ্রাজিয়া ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার অভিনয়যাত্রার গল্প করেন। অনীত জানান, অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা শুরু হয়েছিল শৈশবে। দ্বিতীয় শ্রেণীতে একটি কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় জিতেছিলেন। সেখান থেকেই সংস্কৃতির নানা বিষয়ে তার আগ্রহ জন্মায়। অনীতের ভাষায়, বিষয়টি ছিল একটা স্ফুলিঙ্গের মতো।
কৈশোরে নামি কিছু ব্র্যান্ডের জন্য মডেলিং করেছেন অনীত। অভিনয়ে তার অভিষেক হয় কাজলের সালাম ভেঙ্কি (২০২২) সিনেমায়। ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনীত। তার প্রথম বড় প্রজেক্ট আসে ২০২৪ সালে, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর বিগ গার্লস ডোন্ট ক্রাই দিয়ে। এর পরের বছর করেন টিভি শো ইউভা: সাপনো কা সফর।
জনপ্রিয়তা পেলেও অনীত ধীরে এগোনোয় বিশ্বাসী। তবে তিনি ছোটবেলায় দিবাস্বপ্ন দেখতেন বলে জানান। শৈশবের কথা বলতে গিয়ে অনীত বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি ছিলাম একেবারে উদাসীন, সবসময় দিবাস্বপ্নে ডুবে থাকা একটা বাচ্চা।’
অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ থেকে নিজে নিজেই অভিনয়ের চেষ্টা করতেন। অনীত বলেন, ‘আমি ঘরে বসে নিজে নিজে অডিশন রেকর্ড করতাম। আর বাবা-মাকে বলতাম দরজা বন্ধ করে পড়াশোনা করছি। আমার প্রিন্সিপ্যাল একবার বলেছিলেন আমি অভিনয়ে ভালো।’
ঘরের ভেতরেই একটা একটা দৃশ্য ধারণ করতেন অনীত। একটা সময় বাবা-মাও বিষয়টি জানতে পারেন। তারা নিশ্চিত ছিলেন না অনীতের এ আগ্রহের বিষয়ে। তবে পরবর্তী সময়ে মেনে নেন এটাই তার গন্তব্য। তখন থেকেই অনীত সিরিয়াসভাবে প্রস্তুতি শুরু করেন। নিয়মিত কাস্টিং ওয়েবসাইট ঘাঁটতেন। প্রায় ৭০টি প্রডাকশন হাউজকে ই-মেইল করেন তিনি। এরপর সুযোগ পান টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে।
তবে ‘সাইআরা’র পর সবকিছু পাল্টে যায়। জনপ্রিয়তার কারণে তৈরি হয়েছে চাপ। জনপ্রিয়তার কারণে নানা মন্তব্যও কানে আসে। তবে অনীত জানেন কোনগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য আমার মা, বাবা, বোন, পরিবার, বন্ধুরা খেয়াল রাখে আমি কী করছি। এটাই আমাকে বাস্তবতার কাছাকাছি রাখে।’
তবে তিনি বুঝতে পারেন, জনসমক্ষে থাকার মধ্যে বেশকিছু জটিল বিষয় আছে। অনীত বলেন, ‘এখন আমার জীবনের একটা পাবলিক আর্কাইভ আছে। মানুষ আমার উত্থান, পতন, মাঝের সবকিছুই দেখবে। কিছু মনে রাখবে, কিছু ভুলে যাবে। তবে তারা একজন মানুষের মানবিক হওয়াটাই কামনা করবে।’
দর্শক গ্ল্যামারে গুরুত্ব দেয় এ কথা স্বীকার করেন অনীত। তবে তাদের ভালোবাসাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার কাছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই দেখি ভক্তরা কিছু না কিছু এডিট করছেন আমাকে নিয়ে। এ ভালোবাসা আমার পথচলার রসদ। মাঝে মাঝে মনে হয় আসলেও এত ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য কিনা আমি। তবে মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করব সবসময়।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










