ডুবন্ত ব্যক্তি ছোট খড়কুটো জাপটে ধরেও বাঁচতে চায়। আর ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এক মহামারীর যখন প্রতিষেধক বের হয়েছে শোনা যায়, তখন বাঁচার আশাটাও ঝিলিক দিয়ে ওঠে। কিন্তু সমস্যা একটাই। আক্রান্ত সবাইকে সুস্থ করতে পারছে না প্রতিষেধক। মাত্র ৭৫ ভাগ আক্রান্তকে সুস্থ করছে। কিন্তু বাকি ২৫ ভাগ এখনো আক্রান্ত থাকায় ঝুঁকি না কমে বরং আরো বাড়ছেই। বাধ্য হয়েই সবাইকে আটকে ফেলা হয়, যেন মহামারী আর ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু আক্রান্ত থেকে যারা সুস্থ হয়েছে, তাদের বিপদও পুরোপুরি কাটেনি।
এমনই গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে আইরিশ চলচ্চিত্র ‘দ্য কিওরড’-এর কাহিনী। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি জম্বি কাহিনী নিয়ে গড়ে ওঠা হরর জনরার ছবি। সমালোচকরা অন্যান্য জম্বি ক্যাটাগরির ছবি থেকে এটিকে একটু আলাদা বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে আয়ারল্যান্ডে। পুরো ইউরোপেই এক ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে আক্রান্তরা জম্বির মতো আচরণ করছে এবং একসময় জম্বিতে পরিণত হচ্ছে। মহামারী ছড়িয়ে পড়ার কিছুদিন পরই প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়। কিন্তু আক্রান্তদের ওপর প্রতিষেধক ব্যবহার করে যে ৭৫ ভাগ সুস্থ হচ্ছে তাদের ‘দ্য কিওরড’
আর যারা আক্রান্ত থেকেই যাচ্ছে তাদের ‘দ্য ইনফেকটেড’
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যাকে আপনি প্রচণ্ড বিশ্বাস করেন, যদি জানতে পারেন সেই আপনার আপনজনের খুনি, তখন অবস্থা কেমন হবে? ছবিতে এমন ট্র্যাজিক পরিস্থিতিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটি পরিবারের দুজন আক্রান্ত হলেও তারা প্রতিষেধকের কল্যাণে সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু আক্রান্ত অবস্থায় কে কী করেছে তা কেউ ভুলে যায় না। ফলে অনেকেই ট্রমায় চলে যায়। অ্যাবি আর শ্যানন সিদ্ধান্ত নেয়, এ অবস্থায় তাদের একসঙ্গে থাকাটাই ভালো বুদ্ধি। কিন্তু সমস্যা হয় ছবিটির প্রধান চরিত্র অ্যাবি যখন জানতে পারে তারা যখন রোগে আক্রান্ত ছিল তখন শ্যাননই তার স্বামী কনোরকে হত্যা করেছে।
একদিকে প্রতিষেধক নিয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরাও আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, অন্যদিকে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যারা সুস্থ হচ্ছে না তাদের সবাইকে হত্যা করার। অ্যাবি তার সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাইলেও সমস্যা যেন তার পিছু ছাড়ে না। আক্রান্তদের যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল সে জায়গা থেকে সবাই বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসে। কিন্তু আগে যারা আক্রান্ত ছিল পরে সুস্থ হয়েছে, তাদের কাউকে আক্রমণ করছে না জম্বিরা। এবার অ্যাবির যুদ্ধ শুরু হয় তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য।
৯৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয় ২০১৭ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। ডেভিড ফ্রেইনের পরিচালনায় ছবিতে প্রধান প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলেন পেজ (অ্যাবি), স্যাম
কিলি (শ্যানন), টম
ভগান লউলার (কনোর), স্টুয়ার্ট
গ্রাহাম ও পউলা ম্যালকমসন। ছবিটি খুবই সীমিত পরিসরে বড় পর্দায় মুক্তি দেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী দর্শক ও সমালোচকদের কাছে ভালো সাড়া আদায় করে নিতে সক্ষম হয়।










