গ্রীষ্মটা তুলনামূলক মন্দায় গেল হলিউডের। উল্লেখ্য, কোনো বড় সিনেমা মুক্তি পায়নি। পুরনো সিনেমাই তাই এখনো চলছে থিয়েটারে। টম ক্রুজের সিনেমাটি দর্শক ও বাজার বিশ্লেষকদের প্রতিদিনই অবাক করে চলেছে। তবে বাদ নেই স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোম। হলিউডের সাম্প্রতিক সিনেমার মধ্যে এ দুটোই বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। মন্দার বাজারে টপ গান যে ব্যবসা করেছে তা সম্ভবত প্যারামাউন্টও ভাবেনি। অন্যদিকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোম এখনো দর্শককে আনছে থিয়েটারে।
লেবার ডে উপলক্ষে স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোমের ‘এক্সটেন্ডেড ভার্সন’ মুক্তি দেয়ার খবর পুরনো। নতুন খবর হলো ১১ মিনিট বাড়ানো এ সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহের অন্ত নেই। পুনরায় মুক্তি দেয়ার পর এ সিনেমার মোট আয় সপ্তাহান্তে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭৫ লাখ ডলার এবং চারদিন পর আয় দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৫ লাখ ডলার। প্রথমে মনে হয়েছিল স্পাইডার ম্যানই শীর্ষে থাকবে কিন্তু জেট বিমানের গতিতেই এগিয়ে গেলেন টম ক্রুজ। টপ গান: ম্যাভেরিক ৬০ লাখ ডলার আয় করার অনুমান করা হয়েছিল কিন্তু দেখা গেল সোমবারের ছুটির কারণে দর্শক আগমন বেড়ে সিনেমার আয় হয়েছে ৭৯ লাখ ডলার।
টপ গান ম্যাভেরিকের ১৫তম সপ্তাহ চলছে। এ সময়ে এসেও সিনেমাটি চলছে ৩ হাজার ১১৩টি ভেন্যুতে। ব্লকবাস্টার সিনেমাটি
মুক্তির পর থেকে মোট আয় করেছে ৭০ কোটি ডলারেরও বেশি। বক্স অফিসে অভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্রে সিনেমাটি ব্ল্যাক প্যান্থারের আয় থেকে সামান্য পিছিয়ে আছে কেবল। রেকর্ড ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে চলা ম্যাভেরিক আরেকটি রেকর্ড করেছে। মেমোরিয়াল ও লেবার ডেতে শীর্ষস্থানে থাকা একমাত্র সিনেমা এটি। টপ গানের সাফল্য নিয়ে প্যারামাউন্টের কর্তারা দর্শকের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের জন্যই সিনেমাটা এতটা এগিয়েছে বলে মনে করেন ব্রায়ান রবিন্স।
বড় কোনো সিনেমা মুক্তি না পাওয়ার কারণে বক্স অফিস ও হলিউড দুশ্চিন্তায় ছিল। কিন্তু এর মধ্যে সিনেমা দুটি নতুন করে বক্স অফিসকে স্বস্তি দিয়েছে। উত্তর আমেরিকায় স্পাইডার ম্যান: নো ওয়ে হোমের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ২ কোটি ডলার। গত সপ্তাহের আয় যে হলিউডে খুব বেশি মুনাফা যোগ করবে এমন নয়, কিন্তু সিনেমাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো চলমান থাকার দরুন বক্স অফিস ও ব্যবসার ধারাটি নিরবচ্ছিন্ন থাকে।
হলিউডে মন্দার গ্রীষ্মকাল যাওয়ার পর এ আয় কিছুটা চাঙ্গা করেছে বাজারকে। এজন্য অবশ্য কিছুটা কৌশলও অবলম্বন করতে হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল সিনেমা ডে উপলক্ষে সব ধরনের সিনেমার টিকিটের দাম কমানো হয়। মাত্র ৩ ডলারে যেকোনো সিনেমা দেখা গিয়েছে। কম দামের কারণে অনেকে সিনেমা দেখতে এসেছে, তবে হিসাব অনুসারে নিয়মিত দামে টিকিট বিক্রি করলেও দর্শক আগমন কম হতো না। অর্থাৎ আয়ের পরিমাণে খুব বেশি পরিবর্তন আসত না। আপাতত হলিউড তাকিয়ে আছে সামনের মাসগুলোর দিকে। বেশকিছু বড় বাজেট ও দর্শকের আগ্রহের সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে এ মৌসুমে।
সুত্র: ভ্যারাইটি










