দি অ্যাবোমিনেশনকে ফিরিয়ে আনা হলো এবার। ‘শি হাল্ক: অ্যাটর্নি অ্যাট ল’ সিরিজের তৃতীয় এপিসোডে দেখা পাওয়া গেল তার। প্যারোল বোর্ডের সামনে এমিল ব্রনস্কিকে দেখার পর দর্শকরা নড়েচড়ে বসেছে। বিশেষত কমিকসের পাঠকরা এ আগমনে খুশি। পুরনো পরিচিত চরিত্রে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে মার্ভেলের নতুন করে সাজানো ইউনিভার্স নিয়ে ইতিবাচকতা খুঁজে পাচ্ছেন তারা। অনেকে এমনো বলছেন, শি হাল্ক নিয়ে প্রথমে যে ধরনের সন্দেহের মধ্যে ছিলেন তারা তা অনেকটা কেটেছে। এর আগে অবশ্য সিরিজটি মুক্তির শুরু থেকেই দর্শক ও কমিকপ্রেমীদের ওয়াচলিস্টের শীর্ষে ছিল। তাতিয়ানা ম্যাসলেনি তার চরিত্রটি ঠিকঠাকভাবেই করছেন। সেখানে ক্যাট কায়রোর পরিচালনায় তৃতীয় এপিসোডে ফ্যানসেসকা ও জ্যাকলিন যে জাইলসের চিত্রনাট্য হাল্কের গল্পটা নতুন করে দেখানোর বার্তা দিচ্ছে।

মার্ভেল তাদের ইউনিভার্সকে নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি সিনেমার দৈর্ঘ্য কমাতে হচ্ছে নানা কারণে। ফলে কেবল সিনেমায় মার্ভেলের বিস্তৃত গল্পটা পুরোপুরি আনা সম্ভব হচ্ছে না। মার্ভেল তাদের ইউনিভার্স তাই বড় করছে সিরিজে। জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে সিনেমার বাইরে সিরিজ বা মিনি সিরিজে এনে তাদের গল্পটা বলা হচ্ছে বড় পরিসরে। কেবল গল্প বলাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে নতুন চরিত্র। ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এমন অনেক চরিত্র, যারা কোনো না কোনো কারণে বাদ পড়ে গিয়েছিল।

মার্ভেলের কমিক ও সিনেম্যাটিক দুনিয়ায় অনেকটা ফারাক আছে। কমিকপ্রেমীদের অভিযোগও আছে কমিকের বিস্তৃতি সিনেমায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মূলত অ্যাভেঞ্জার্সের তুমুল জনপ্রিয়তার পর অ্যাভেঞ্জার্স বা মার্ভেলের সব সুপারহিরো একত্র করে গল্প সাজানো ও সিনেমা নির্মাণের দিকেই মার্ভেলের মনোযোগ দেখা যাচ্ছে। ২০১৩ সালের অ্যাভেঞ্জার্সের আগে আয়রন ম্যান ও অন্যান্য একক সিনেমা হতো। এর পরও হয়েছে কিন্তু সেখানে অন্যান্য সুপারহিরোকে আনা হয়েছে। তবে ২০০০ সালের দিকে হাল্কের যে জনপ্রিয়তা ছিল তাতে খানিক ভাটা পড়ে। ২০০৩ সালের হাল্কের কথা যদি বাদও দেয়া হয়, ২০০৮ সালের ‘দি ইনক্রেডিবল হাল্ক’ দর্শকের মনে ছাপ ফেলার মতো হলেও তা আয়রন ম্যানের জনপ্রিয়তার আড়ালে পড়ে যায়। এ সিনেমায়ই অ্যাবোমিনেশন চরিত্রের উপস্থিতি ছিল। অভিনয় করেছিলেন টিম রথ।

এর ১৩ বছর পর ‘শ্যাং চি অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অব দ্য টেন রিংস’ সিনেমায় অ্যবোমিনেশনের ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়া হয়। কিন্তু ১৪ বছর পর ফেরা অ্যাবোমিনেশন তার পুরনো চরিত্র থেকে আলাদা। অবশ্য সেটা হওয়ারই কথা। ১৪ বছরে মার্ভেল তাদের সিনেমার সুর বদলেছে। দি ইনক্রেডিবল হাল্কের মারদাঙ্গা অ্যাবোমিনেশনকে এখানে দেখা যাবে না। তাছাড়া ১৪ বছর বন্দি থাকায় তার গল্পটাও বদলে গিয়েছে। এখানে ব্রনস্কি পুরনো গল্পের তুলনায় কোমল স্বভাবের। কিন্তু তাকে ঠিক কীভাবে সামনের গল্পে আনা হবে তা এখনো অনিশ্চিত। হতেও পারে পরের কোনো গল্পে অ্যাবোমিনেশন ফিরবে আগের মতো বিকটাকারে। কিংবা এভাবেই খানিক কমেডির সুরে অ্যাবোমিনেশনের সঙ্গে হাল্কের গল্পটা সাজানো হবে নতুন করে।

 

সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার