গত শুক্রবার ছিল থ্যাংকস গিভিং। সাধারণত এ সপ্তাহে হলিউডের বক্স অফিস তুলনামূলক চাঙ্গা থাকে। এবারো ব্যতিক্রম হয়নি। ‘জুটোপিয়া টু’ থ্যাংকস গিভিং সপ্তাহে বক্স অফিসে শীর্ষে রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার একদিনেই সিনেমাটি আয় করেছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। মঙ্গলবার রাতে মুক্তির পর থেকে ডিজনির এ অ্যানিমেটেড সিকুয়ালটি যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার আয় করেছে। ছুটির এ সপ্তাহের দৈর্ঘ্য পাঁচদিন এবং এ সময় সিনেমাটি ১৪-১৫ কোটি ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দর্শক এলফাবা ও গ্লিন্দার জাদুতে মুগ্ধ হয়েই চলেছেন। বৃহস্পতিবার ১ কোটি ২৬ লাখ ডলার আয় করে ‘উইকেড: ফর গুড’ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মুক্তির এক সপ্তাহ আগেই সিনেমাটি ২০ কোটি ৭২ লাখ ডলার আয় করেছে। পাঁচদিনের ছুটিতে আরো নয় কোটি ডলারের বেশি আয় করার সম্ভাবনা আছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমাটির আয় হতে পারে ২৭ লাখ ডলার।

হলিউডের বক্স অফিস বেশ কিছুদিন ধরেই সাফল্যের খোঁজে ছিল। এ দুই সিনেমার মাধ্যমে তা কিছুটা পেয়েছে বলা যায়। অক্টোবরের টিকিট বিক্রি গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, কারণ ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’, ‘ট্রন: অ্যারেস’ ও ‘কিস অব দ্য স্পাইডার ওম্যান’-এর মতো সিনেমা ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমাগুলো সে অনুপাতে আয় করতে পারেনি।

‘জুটোপিয়া টু’ ভালো করেছে সন্দেহ নেই। সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফল প্রমাণ হচ্ছে। কিন্তু তবুও এর আয় ডিজনির ‘মোয়ানা টু’র নাগালে পৌঁছবে না। সিনেমাটি প্রথম সপ্তাহ শেষে ১৩ কোটি ডলার আয় করেছিল। অতীতের উল্লেখযোগ্য থ্যাংকস গিভিং মুক্তির মধ্যে রয়েছে ডিজনির ২০১৯ সালের ‘ফ্রোজেন টু’ (পাঁচদিনে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার) এবং ২০১৩ সালের ‘দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার’ (পাঁচদিনে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার)।

আন্তর্জাতিক বক্স অফিসেও আধিপত্য দেখাচ্ছে জুটোপিয়া টু, ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে এর বৈশ্বিক মোট আয় ১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। মুক্তির প্রথম পাঁচদিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজার থেকে আরো ১৩-১৪ কোটি ডলারের বেশি আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনে সিনেমাটি বিশেষভাবে ভালো করছে। সাংহাই ডিজনিল্যান্ড সম্প্রতি উদ্বোধন করেছে জুটোপিয়া ল্যান্ড। মুক্তির প্রথম দুই দিনেই সিনেমাটি ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছে। অতিমারী-পরবর্তী সময়ে চীনে খুব কম হলিউড সিনেমা এত ভালো সাড়া পেয়েছে।

জারেড বুশ ও বায়রন হাওয়ার্ড পরিচালনা করেছেন জুটোপিয়া টু। এছাড়া বক্স অফিসে চলমান স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রের মধ্যে, এ২৪-এর ‘ইটারনিটি’ আছে। রম-কম ঘরানার সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন এলিজাবেথ অলসেন, মাইলস টেলার ও ক্যালাম টার্নার। সিনেমাটি ১ হাজার ৩৪৮ স্ক্রিন থেকে ৬ লাখ ১৬ হাজার ২৭২ ডলার আয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মোট আয় করেছে ২১ লাখ ডলার।

অন্যদিকে ফোকাস ফিচারসের ‘হ্যামনেট’ নির্মাণ হয়েছে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের মৃত ছেলেকে কেন্দ্র করে। ১৬০টি থিয়েটার থেকে সিনেমাটি ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার আয় করেছে। মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার। হ্যামনেটকে অস্কারের অন্যতম ফ্রন্টরানার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সিনেমাটি অস্কার দৌড়ে এগিয়ে আছে। পরিচালক ক্লোয়ি ঝাও ও অভিনয়শিল্পী জেসি বাকলি ও পল মেসকালের কাজের ব্যাপক প্রশংসা করছেন সমালোচকরা। তবে এ ধারার সিনেমা বক্স অফিসে খুব বেশি আয় করে না।

হলিউডের বক্স অফিস তুলনামূলক খারাপ সময় পার করছে। এ বছর তেমন কোনো সিনেমাই বক্স অফিসে খুব বেশি আয় করতে পারেনি। ১০০ কোটি ডলারের সিনেমা আসেনি কোনো। এর মধ্যেই কিছু সিনেমা ৫০ কোটি ডলারের মতো আয় করেছে। এসব নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে হলিউড বক্স অফিস।

সূত্র: ভ্যারাইটি