বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত অনুরাগীদের কাছে মাইকেল জ্যাকসন নামটি এক দুর্নিবার আকর্ষণ। কেবল পপসম্রাট নন, কোটি মানুষের হৃদয়ের সম্রাট হয়ে আছেন তিনি। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তা কমেনি। স্পটিফাইয়ে তার মাসিক শ্রোতা প্রায় ৬৫ মিলিয়ন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেমন কৌতুহল ছিল তাকে নিয়ে, মৃত্যুর পরও কৌতুহলের শেষ নেই। যার প্রমাণ মিলে তার জীবনী নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণার পর। যেদিন ঘোষণা আসে তার পর থেকে সেটা দেখার জন্য বিপুল উচ্ছ্বাসে উদগ্রীব হয়ে আছে সবাই। শুধুই অপেক্ষা-কবে আসবে সিনেমাটি। অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটছে। আগামীকাল আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। একই দিনে বাংলাদেশেও মাইকেল মুক্তি পাবে স্টার সিনেপ্লেক্সে।
অ্যান্টনি ফুকোয়া পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাইয়ের ছেলে জাফর জ্যাকসন। আরও অভিনয় করেছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহাম, নিয়ালং, লরা হ্যারিয়ার, কেনড্রিক স্যাম্পসন ও জুলিয়ানো ক্রু ভ্যালদি।
সিনেমাটিতে তুলে ধরা হবে সংগীতের বাইরেও মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প, যেভাবে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের কিশোর প্রতিভা থেকে তিনি হয়ে ওঠেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদনশিল্পী। মঞ্চের বাইরের জীবন ও একক সংগীতজীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো দর্শক দেখবেন একেবারে কাছ থেকে, যেখানে শুরু হয়েছিল তার পথচলা। মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে এখানে।
মাইকেল জ্যাকসনের ভক্তদের জন্য এ সিনেমা নিঃসন্দেহে বড় একটি আয়োজন। ট্রেলার দেখেই বোঝা যায়, নির্মাতা তার সংগীত, নাচ ও তারকাখ্যাতির রূপকথার মতো যাত্রাকে বড় পর্দায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। গত বছরের নভেম্বের মাইকেলের বায়োপিক ‘মাইকেল’-এর টিজার মুক্তির পর ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১১ কোটি ৬২ লাখ ভিউ। এর আগে অন্য কোনো মিউজিক্যাল বায়োপিক সিনেমার টিজার ২৪ ঘণ্টায় এত ভিউ হয়নি। ঝড় উঠেছে ট্রেলার মুক্তির পরও। গেল ফেব্রুয়ারিতে মুক্তির একদিনের মধ্যেই ট্রেলারটি ৫০ লাখের বেশি ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মুক্তির পর ব্যাপক ব্যবসায়িক সাফল্য পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’।
বাংলাদেশেও সিনেমাটি ব্যাপক সাড়া তৈরি করবে বলে মনে করেন স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাইকেল জ্যাকসনের প্রচুর ভক্ত রয়েছেন। সেই আশি-নব্বই দশক থেকে শুরু করে এই সময়েও পপ সংগীত শ্রোতাদের কাছে সম্রাট হয়ে আছেন মাইকেল। তার বায়োপিক দেখার আগ্রহ আছে সবার। এরইমধ্যে অনেক দর্শক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, অগ্রীম টিকেটের খোঁজ নিচ্ছেন। সিনেমাটি সবার মন জয় করবে বলে আমরা আশাবাদী।’










