‘এ কেমন নববর্ষ? সমবেত কণ্ঠে একটাবারও কোথাও বেজে উঠল না চিরচেনা সেই সুর। এ কেমন উৎসবের প্রস্তুতি? এ রোজায় জমে উঠছে না ইফতার বা ঈদের বাজার। আবার কি ফিরে আসবে সেই দিনগুলো? আবার কি জমে উঠবে বাঙালির মিলনমেলা?’যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশী মানুষের মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা অপরিসীম। এ দুর্দমনীয়তা আর আত্মবিশ্বাসের পালে নতুন হাওয়া লাগাতেই ‘আবার জমবে মেলা’ গানটি নতুন করে গাওয়া হয়েছে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের আশার সঙ্গে গানটির প্রাসঙ্গিকতার সুতোটি দেখাতে শুরুতে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে এ কথাগুলো।

মহামারী করোনার এমন দুর্যোগময় সময়ে সুন্দর আগামীর আশাজাগানিয়া এ গানটি নিয়ে হাজির হয়েছে ‘জি ফাইভ গ্লোবাল’। দেশের জনপ্রিয় তরুণ কণ্ঠশিল্পীদের নিয়ে নতুন আঙ্গিকে চিরচেনা সেই কথাগুলো ‘আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা’ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‘বিশ্ব অবাক চেয়ে রবে’ উদ্যোগের আওতায় তৈরি করা এ গানটি জি ফাইভের সব প্লাটফর্মে ১৩ মে মুক্তি পেয়েছে।


বাউল সংগীত শিল্পী লোকমান ফকিরের লেখা ও সুর করা জনপ্রিয় এ গানটিতে যেন ফুটে উঠেছে মানুষের অদম্য মানসিকতার কথা। খারাপ সময় শেষ হলে আবার মেলা জমে উঠবে। আবার উল্লাসের বার্তায় মুখরিত হবে প্রতিটি উৎসব। বিশ্ব অবাক চোখে তাকিয়ে দেখবে বাংলার জয়গান। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিকে জয় করতে এখন তো অদম্য মানসিকতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

জি ইন্টারন্যাশনাল ও জি ফাইভ গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত গোয়েনকা বলেন, ‘আমাদের জন্য বাংলাদেশের দর্শক-শ্রোতাদের গুরুত্ব অনেক। বাংলাদেশের মানুষ যে দৃঢ় মনোবল ও সহনশীলতার মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে সেই শক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে উদযাপন করতেই এ আশাজাগানিয়া গান।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আমাদের একটি অবস্থান তৈরি হয়েছে। সেই আস্থাকে আরো দৃঢ় করতে দেশটিতে শিগগিরই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার প্রত্যাশায় রয়েছি আমরা।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে বৈশ্বিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম ‘জি ফাইভ’। তখনই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল স্থানীয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বাজারে জি ফাইভের প্রসারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে। গত কয়েক মাসের পরিস্থিতিতে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের পথচলার বিষয়টি সারা দুনিয়ায় আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

জি ফাইভ গ্লোবালের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা অর্চনা আনন্দ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে লকডাউনের এ কঠিন সময়ে আমরা বাংলাদেশী মানুষের মধ্যে একটু আশার আলো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। বাংলাদেশী সংস্কৃতিতে গান সব সময়ই একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। আর এ গানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহাসিক তাত্পর্য। হারানো দিনের এ গানের মাধ্যমেই এই পবিত্র রমজানে বাংলাদেশী মানুষের মধ্যে আমরা এক আশার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। এ কঠিন সময় একদিন শেষ হবে; শিগগিরই আমরা এগিয়ে যাব এক উজ্জ্বল আগামীতে।’

এশিয়াটিক ৩৫০ কনটেন্ট ইনিশিয়েটিভ—‘গুড কোম্পানি’র সহযোগিতা এবং ডেটল ও নেসেলর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করা ‘আবার জমবে মেলা’ গানটি তৈরির সব কার্যক্রম ঘরে বসেই সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশের অন্যতম গীতিকার ও গায়ক রায়েফ আল হাসান রাফা’র হাতে নতুন মাত্রা পেয়েছে গানটি। রাফা বলেন, ‘আমার দেশ ও দেশের মানুষের কাছে অনেকখানি অর্থবহ একটি গান নিয়ে বাংলাদেশের সেরা শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমার জন্য এক অনন্য সম্মান। বছরের পর বছর ধরে যে গানের আবেদন একটুও ম্লান হয়নি, এমন একটি গানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ অনেক গর্বের।’

গানটিতে আরো কণ্ঠ দিয়েছেন জোহাদ রেজা চৌধুরী, এলিটা করিম ও কারিশমা সানু সভ্যতা। গানের দৃশ্যায়নে অংশ নিয়েছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, জাকিয়া বারী মম, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, ইয়াশ রোহান ও নাজিফা তুশি। ভিডিও চিত্রটি পরিচালনা করেছেন কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। পরিচালক কৃষ্ণেন্দু বলেন, ‘এমন সময়ে মানুষের মধ্যে আশা ও বিশ্বাস জাগানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজ নিজ বাসা থেকেই যারা এ গানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং কাজ করেছেন তাদের সবাইকে আমি অভিবাদন জানাই।’

জি ফাইভ মিডিয়া ও বিনোদন জগতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান জি এন্টারটেইনমেন্ট এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড (জিল) পরিচালিত একটি বিনোদন প্লাটফর্ম। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ১৯০টির বেশি দেশে কার্যক্রম শুরু করে জি ফাইভ। তবে বাংলাদেশে কাজ শুরু করে চলতি বছরের শুরু থেকে। তারা হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা, মালয়ালম, তামিল ও তেলেগুসহ কয়েকটি ভাষারও কনটেন্ট তৈরি করছে নিয়মিত।

বর্তমান মহামারীজনিত পরিস্থিতির কারণে থমকে আছে ‘বাংলাদেশ ট্যালেন্ট হান্ট’ ও ‘জি ফাইভ অরিজিনালস’-এর শুটিং। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই জি ফাইভ গ্লোবাল সেগুলো চালুর পরিকল্পনা করছে। করোনা মহামারীর কারণে পহেলা বৈশাখ ও রমজান উপলক্ষে যে যৌথ কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল তাও ব্যাহত হয়েছে। তবে এর মাঝেও আঁধার কেটে দেখা দেবে আলো, আবারো জমবে উৎসব—গানটির এমনই আশাজাগানিয়া কথা হয়তো সাহস জোগাবে শ্রোতাদের।