পুরো শহরের সবাই জম্বিতে পরিণত হয়েছে। তবে একজন মাত্র সুস্থ মানুষ একটি বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু তাতেও ছাড় নেই। বিল্ডিংয়ের চারপাশে জম্বিরা অবস্থান নিয়েছে তাকে হত্যা করার জন্য। দিন, সপ্তাহ, মাস গড়ায়। নিচে জম্বিদের ভয়, রুমে একাকিত্বের ভয় আর বেঁচে থাকার জন্য খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় উপকরণও ফুরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকে না। কিন্তু তাতে নিজের জীবন বাঁচানোর নিশ্চয়তা আর থাকছে না।
এমনই গল্প আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে তৈরি হয়েছে ফরাসি চলচ্চিত্রটি, ইংরেজিতে যেটাকে নামকরণ করা হয়েছে ‘দ্য নাইট ইটস দি ওয়ার্ল্ড’ নামে। ২০১৮ সালে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি মূলত একটি হরর জনরার ছবি। ফরাসি লেখক পিট আগারম্যানের লেখা একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে প্যারিসে ছড়িয়ে পড়া এক অজানা ভাইরাসের কারণে পুরো শহরের মানুষ জম্বিতে পরিণত হয়।
ছবির গল্পে দেখা যায় স্যাম নামে এক সংগীতজ্ঞ প্যারিসে বসবাস করে। তার সাবেক প্রেমিকার কাছে থাকা তার কিছু গানের টেপ আনার জন্য তার বাড়িতে যায়। এ সময় তার সাবেক প্রেমিকা জানায় সেগুলো সবই তার অফিসে। কিন্তু অফিসে যাওয়ার পথে কিছু গুন্ডার মারে প্রচণ্ড আহত হয় সে। এর পরও যখন অফিসে পৌঁছায় তখন সে জ্ঞান হারায়। একদম শেষ মুহূর্তে অফিসের দরজায় প্রচণ্ড হট্টগোলের আওয়াজ শুনতে পায়। সে জানতেই পারে না যে জম্বিরা পিছু নিয়েছে তার।
সকালে যখন জ্ঞান ফেরে তখন দেখতে পায় অফিসে নয় বরং সম্পূর্ণ অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে সে। এর পর একটু দূরেই তার সাবেক প্রেমিকাকে আবিষ্কার করে। যে কিনা এরই মধ্যে জম্বিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সে অ্যাপার্টমেন্টের দরজা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এর পরই আবিষ্কার করতে থাকে পুরো শহরে জম্বিতে পরিণত হয়েছে। একে অন্যকে মেরে ফেলছে। বাইরে বের হলেই বিপদ আর মৃত্যু অপেক্ষা করছে। যেকোনো শব্দের উৎসমুখে আক্রমণ চালাচ্ছে জম্বিরা।
এরপর স্যাম দেখতে পায় অ্যাপার্টমেন্টের নিচতলায় জম্বিতে পরিণত হওয়া স্ত্রীকে তার স্বামী খুন করে নিজেও আত্মহত্যা করে। সেই শর্টগানটি স্যাম নিজের সুরক্ষার জন্য নিয়ে আসে। অ্যাপার্টমেন্টে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি থাকায় আর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। কিন্তু দিন, সপ্তাহ, মাস যেতে থাকলে স্যাম একাকিত্ব অনুভব করতে থাকে। এ সময় একটি বিড়ালকে বন্ধু বানানোর চক্করে পড়ে প্রায় মরতেই বসেছিল জম্বিদের হাতে। তবে সমস্যা হয় যখন পানি শেষ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখতে শুরু করে সে। অনেক দিন পর হঠাৎ একজন সুস্থ মানুষ সেই অ্যাপার্টমেন্টে আসে। কিন্তু রিফ্লেক্সের বশে তাকে হত্যা করে বসে স্যাম। কিন্তু বিষয়টা তাকে আশাবাদীও করে তোলে যে বাইরে এখনো সুস্থ মানুষ আছে। এখন একটাই উপায় আছে তার, কিন্তু তাতে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে প্রচণ্ড।
৯৪ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিটি প্রথম প্রিমিয়ার হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এংগারস চলচ্চিত্র উৎসবে। পরে মার্চ মাসে তা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয়। ডমিনিক রোচারের পরিচালনা ও ক্যারোল স্কটার প্রযোজনায় ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন এন্দ্রেস দানিয়েলসেন লাই (স্যাম), গলশিফতে
ফারাহানি, দানিস লাভান্ত প্রমুখ। দর্শক ও সমালোচক দুয়ের কাছেই বেশ ভালো সাড়া পায় ছবিটি।










