ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে ‘দেয়ালের দেশ’। তরুণ নির্মাতা মিশুক মনি সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন। এ সিনেমা মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় ছিল এবং মুক্তির পর পেয়েছে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা। সিনেমাটির নির্মাণ ও নিজের পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন মিশুক মনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান
মুক্তির পর প্রায় দুই সপ্তাহ পার করল দেয়ালের দেশ। এখন কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?
দর্শক প্রতিক্রিয়া আমার আশার চেয়েও বেশি। এটা বলতেই হবে। কারণ নতুন নির্মাতা হিসেবে আমি আশা করিনি যে দর্শকরা এত ভালোভাবে গ্রহণ করবে। বিশেষত ভাবনা ছিল ঈদের আমেজে দেয়ালের দেশের মতো শান্ত মেজাজের একটা সিনেমা কীভাবে গ্রহণ করবেন দর্শক। প্রথম সিনেমা হিসেবে সন্দেহ ছিল একরকম। সেখান থেকে অনেকগুলো শো হাউজফুল যাওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সবখানেই সিনেমা নিয়ে যে প্রতিক্রিয়াগুলো পেয়েছি ও পাচ্ছি, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।
দেয়ালের দেশের গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ, পরিচালনা সবই আপনার। তো আইডিয়াটা কবে এল? গল্পটা কবে ভাবলেন?
২০১৬ সালে আমি এ শহরের একটা হাসপাতালে যাই একজন রোগীকে দেখতে। রোগীটি মারা যান। তার আত্মীয়রা বাইরে থাকতেন, তাই মরদেহটা ফ্রিজিং করতে হয়েছিল। সে কাজ করতে গিয়ে ওই হিমাগারের গার্ডের সঙ্গে আমার কথা হয়। আমি দেখেছিলাম তার মন খারাপ। একপর্যায়ে জানতে পারলাম ২৫ বছর আগে তার একটা প্রেম ছিল। অনেক কারণে তা পরিণতি পায়নি। তার ওই প্রেমিকার মরদেহও সেদিনই হিমাগারে এসেছিল। ঘটনাটা আমার মাথায় থেকে যায়। আমি ভেতর থেকে একটা তাগিদ অনুভব করছিলাম এ ঘটনাকে নিয়ে একটা গল্প তৈরির।
এরপর ২০১৬ সালের শেষের দিকে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করি। ২০১৯ সালে শেষ করি সেটা। ২০২০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিই এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে অনুদান পাই।
সিনেমার কাজ যখন শুরু করেন, কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল?
প্রথম নির্মাতা হিসেবে কিছু চ্যালেঞ্জ তো থাকেই। কারণ এ অঙ্গনে আমার নিজের কোনো পরিচিতি ছিল না। আমি কাউকে চিনতাম না। আমি শরিফুল রাজ ও শবনম বুবলীকে কাস্ট করব, কিন্তু তারা কেন আমার সিনেমায় আসবেন? বিষয়গুলো কঠিন ছিল, কিন্তু চিত্রনাট্যটা তাদের আকর্ষণ করেছিল।
সেটা কি গল্পের কারণে?
সেটা একটা কারণ, তবে আমি চিত্রনাট্য খুব বিস্তারে লিখি। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে শুরু করে একজন অভিনেতা যখন সংলাপ বলবেন, তখন অন্যজনের ভঙ্গি কেমন হবে তাও আমি চিত্রনাট্যে রাখি। লাইট, ফ্রেম সবই থাকে সেখানে। একটু সাহিত্যরস রাখার চেষ্টা করেছিলাম। আমার ধারণা বিষয়টা তাদের বেশ ভালো লেগেছিল।
দুই প্রধান কাস্টের ক্ষেত্রে বিষয়টা কেমন ছিল?
একটা চ্যালেঞ্জ ছিল বুবলীর ক্ষেত্রে। আমরা ‘টান’ বা ‘প্রহেলিকা’র মতো সিনেমায় তাকে দেখেছি নতুন রূপে। কিন্তু দেয়ালের দেশ মূলত তারও আগের। সম্ভবত গল্পনির্ভর সিনেমার ক্ষেত্রে আমার সঙ্গেই তার প্রথম সিনেমা সাইন করা। অনেকে বলেছিলেন কাজটা কঠিন হবে, কিন্তু আমার মনে হয়েছিল কাজটা আমি বের করে নিতে পারলে ভালো হবে এবং তিনি আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন।
শুটিংয়ের প্রসেসটা...
হ্যাঁ, সেটাও একটা অভিজ্ঞতা। কারণ আমাদের এখানে শুটিংয়ের বিষয়টা খুব একটা সহজ না। সবাই যে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেন এমন না। কারণ আমাদেরও কিছু ভুল থাকে। আর এমনিতে ঢাকার নাগরিক জীবনটাকে সিনেমায় তুলে আনতে চেয়েছিলাম। সেটা করতে পুরো ঢাকা শহর ঘুরতে হয়েছে। নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়েছে। এটা বড় একটা অভিজ্ঞতা।
এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। মিশুক মনি সিনেমা নির্মাণ করবেন, সেটা তিনি কবে ভেবেছিলেন?
আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি তখন থেকেই ইচ্ছাটা হয়। এর আগে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ওই জীবনটা আমার ভালো লেগেছিল। আমি জীবনে কখনো চাকরি করতে চাইনি। তো ওই কলেজ জীবন থেকেই ইচ্ছা ছিল।
তার মানে আরো সিনেমা পাব। নতুন কোনো সিনেমা নিয়েও কাজ করছেন বোধ করি।
সিনেমাটাই করতে চাই। ওটিটির জন্য অনেকে ডাকছেন কাজ করতে, তবে সেটা এখনই করতে চাচ্ছি না। নতুন সিনেমা নিয়ে এটুকুই বলতে পারি যে চিত্রনাট্য তৈরি। প্রি-প্রডাকশনের কাজও চলছে।










