মৈমনসিংহ গীতিকার কাজলরেখা অবলম্বনে ‘কাজলরেখা’ সিনেমা নির্মাণ করেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। কাজলরেখা ৪০০ বছরের পুরনো গল্প। শুটিং পর্ব শেষ। মুক্তি অপেক্ষায় সিনেমাটি। প্রচারণাও শুরু করেছে কাজলরেখা টিম। সে ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে কাজলরেখা সিনেমার প্রথম গান ‘কইন্ন্যা আঁকে গো আলপনা’। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। কণ্ঠ দিয়েছেন অবন্তী সিঁথি, অন্তরা মণ্ডল ও হুমায়ারা ইশিকা। লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। এ গানের মধ্য দিয়ে নজর কেড়েছেন কাজলরেখার কলাকুশলীরা। ৪০০ বছর আগের রূপে দেখা মিলেছে রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, মন্দিরা চক্রবর্তী ও শরিফুল রাজের।

ইমন চৌধুরী গানটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত কাজলরেখা আমাদের স্বপ্নের সিনেমা। আমার সুর ও সংগীতে এ সিনেমায় মোট ২৪টি গান আছে। কইন্ন্যা আঁকে গো আলপনা গানটি দিয়ে শুরু হলো আমাদের নতুন গানের পথচলা। বাংলার গানগুলো বেঁচে থাকুক যুগ থেকে যুগান্তরে।’

কাজলরেখা মূলত একটি রূপকথার গল্প। রূপকথার গল্প নিয়ে এ সিনেমায় গান ও আবহ সংগীতের ব্যবহারে ভিন্নতা থাকছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, ‘‌কাজলরেখা মিউজিক্যাল ফিল্ম। ২০টির বেশি গান আছে এ সিনেমায়। এতে মানুষ যেমন গান করে আবার পাখিও গান করে। মৈমনসিংহ গীতিকার কাজলরেখা পালার পরিবর্তন না করেই আমরা কাজ করছি।’

প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে শুটিং পর্ব চলেছে কাজলরেখা সিনেমার। কাজলরেখার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ ও নবাগত চিত্রনায়িকা মন্দিরা চক্রবর্তী। বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, ইরেশ যাকের, আজাদ আবুল কালাম, খায়রুল বাসার, সাদিয়া আয়মানসহ অনেকে। এ সিনেমায় কাজলরেখা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী, কঙ্কণ দাসী চরিত্রে মিথিলা আর সুচ কুমার চরিত্রে শরিফুল রাজ। কাজলরেখার গানের মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে কয়েকটি চরিত্র। কাজলরেখার চরিত্রগুলো সিনেমাটি ঘিরে দর্শকের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। কবে প্রেক্ষাগৃহে আসবে কাজলরেখা এ নিয়ে জানতে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমাদের সিনেমার শুটিং আগেই শেষ হয়েছিল। পোস্ট-প্রডাকশনের কাজ শেষ। এখন অপেক্ষা সিনেমা মুক্তির। কাজলরেখা অনুদানের সিনেমা, তাই অনুদান কমিটি আগে সিনেমাটা দেখবে, এরপর এটি সেন্সরে যাবে। আমরা আগামী ফেব্রুয়ারিতেই সিনেমাটা মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের মানুষকে কাজলরেখা দেখানোর অপেক্ষায় আছি আমি। দর্শক যাতে আমাদের সিনেমাটা নিয়ে জানতে পারে তার জন্য এর ফেসবুক পেজ করেছি। কাজলরেখার মুক্তিসহ এর অন্যান্য খবর আমরা এখানে পোস্ট করব দর্শকের সঙ্গে আমাদের সংযোগ স্থাপন করতে।’

এ বছর মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশের শতবর্ষ পূর্ণ হয়েছে। ১৯২৩ সালে দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা এবং এর ইংরেজি তর্জমা ইস্টার্ন বেঙ্গল ব্যালাডস প্রথম খণ্ড—দুটি বই প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর পরই এটি দেশী-বিদেশী সাহিত্যিক মহলে আলোড়ন তোলে। বাংলা লোকসাহিত্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারের পরিচয় পেয়ে সবাই বিস্মিত হন। মৈমনসিংহ গীতিকার অন্যতম গল্প কাজলরেখা। সিনেমা নির্মাণে এ গল্প বেছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘ষোড়শ শতাব্দীতে যত গীতিকবিতা লেখা হয়েছে তার সব কেন্দ্রীয় চরিত্রে বীর না হলে দেবতা। একমাত্র মৈমনসিংহ গীতিকার সব কেন্দ্রীয় চরিত্রে নারী। আমাদের এ অঞ্চলে মাতৃপ্রধান সমাজ ছিল, এটা তারই আভাস। মোগল আমলে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী জাতি ছিলাম। ইংরেজরা আসার পর আমাদের অবস্থানের পরিবর্তন আসে। আমরা যে বলি সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশ, এটা মূলত মোগল আমলে ঠিক ছিল। ইংরেজরা আসার পর রাজধানী নিয়ে গেছে কলকাতায়; তারা এদিকে নজর দেয়নি। ঐতিহ্যগতভাবে যে আমরা একটি সমৃদ্ধিশালী জাতি এটা দেখানোর জন্যই কাজলরেখা নির্মাণ করা।’