কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিষাক্ত প্রেম’ ও ‘সুবালা’ ছোটগল্প দুটি নিশ্চয় অনেকেই পড়েছেন। তবে গল্প দুটিকে যে একটি বিন্দুতে মিলিয়ে দেয়া সম্ভব সেটা হয়তো কেউ ভাবেননি। আলাদা কাহিনী হলেও মূল কয়েকটি বিষয়কে নিয়ে সাজানো হয়েছে চমত্কার এক চিত্রনাট্য। দুই বাংলার যৌথ চলচ্চিত্র ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ বা ‘মায়ার জঞ্জাল’ নির্মাণ করা হয়েছে এ দুই গল্পের আলোকে। ছবির একদম শেষে গিয়ে ছোট গল্প দুটিকে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে একই বিন্দুতে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির আন্তর্জাতিক সংগঠন (এফআইএপি) কর্তৃক ‘এ ক্যাটাগরির’ যে ১৫টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রয়েছে, তারই একটি সাংহাই চলচ্চিত্র উৎসব। গত ১৩-২২ জুন আসরটির ২৩তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে ২৫ জুলাই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে উৎসবটির। আর প্রথম দিনেই প্রদর্শিত হবে ‘মায়ার জঞ্জাল’।

চীনের মর্যাদাসম্পন্ন এ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা পেয়েছে ছবিটি। এসএফসি সাংহাই ফিল্ম আর্ট সেন্টারে প্রদর্শিত হবে এটি। এছাড়াও ২৯ জুলাই ও ১ আগস্ট ছবিটির আরো দুটি প্রদর্শনী হবে ভিন্ন ভিন্ন ভেনুতে। চিংহাই প্রদেশের শিনাংয়ে এ চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। সেখানে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা চীনের অন্যান্য জায়গার তুলনায় কম।

মায়ার জঞ্জাল ছবিটির প্রযোজক জসীম আহমেদ বলেন, ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড বিভাগের প্রধান ইমেইলে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এরপর ছবিটি পাঠানোর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার পেছনে বেশ ব্যস্ততা গেছে। তবে আমরা খুব আনন্দিত যে এ-গ্রেডের তালিকাভুক্ত একটি উৎসবে আমাদের ছবিটির প্রিমিয়ার প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। এবার দর্শককে আবারও সিনেমায় ফিরিয়ে নেয়ার পালা!’


করোনাভাইরাসের কারণে চলচ্চিত্র উৎসবের বেশকিছু বিষয়ের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত যেকোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নির্বাচিত ছবি চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনা করেন বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা। কিন্তু মহামারীর এ অবস্থার কারণে সাংহাইয়ের এবারের আসরে কোনো আন্তর্জাতিক জুরিকে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হয়নি। তাই এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ছবিগুলোই এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড অফিশিয়াল সিলেকশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এমনকি পুরস্কারের ক্ষেত্রেও বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছে চলচ্চিত্র উৎসবটি। সাধারণত এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা চিত্রনাট্যকার ও সেরা চিত্রগ্রাহক বিভাগে পুরস্কার দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এবার আর তা সম্ভব হচ্ছে না। সেজন্য অফিশিয়াল সিলেকশন হিসেবে সম্মান জানানো হচ্ছে নির্বাচিত প্রতিটি ছবিকে। কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’-এর প্রযোজক-পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীদের সাংহাইতে আমন্ত্রণ জানাতে পারছেন না আয়োজকরা। তবে উৎসব চলাকালীন ছবিটির প্রচারণা চালাবেন তারা।

‘মায়ার জঞ্জাল’-এর মাধ্যমে ১৫ বছর পর বড় পর্দার জন্য কাজ করলেন অপি করিম। ছবিটিতে তার চরিত্রের নাম সোমা। বিবাহিত সোমা স্বামী আর সন্তানকে নিয়ে কলকাতায় থাকেন। তবে স্বামী বেকার হওয়ায় আর সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ানোর জন্য চাকরি করতে থাকেন সোমা। তার স্বামী চাঁদু চরিত্রে আছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। অপি করিম সর্বশেষ ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

বাংলাদেশী নির্মাতা জসীম আহমেদের প্রযোজনা ও ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ফ্লিপবুকের সহপ্রযোজনায় ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। ছবিটিতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের নাট্যদল প্রাচ্যনাটের সোহেল রানা, কলকাতার অভিনেত্রী চান্দ্রেয়ী ঘোষ, পশ্চিমবঙ্গের তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ছবিটির শুটিং হয়েছে ঢাকা ও কলকাতায়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সৃজনশীলতা, নবীনদের তুলে ধরা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণে বানানো এশীয় তরুণ নির্মাতাদের নতুন কাজকে উৎসাহ দেয়াই এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডের লক্ষ্য।