এ প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান। সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয় যেমন ছুঁয়ে গেছেন, ঠিক তেমনি নাটকেও। রায়হান রাফির ‘পরাণ’ সিনেমায় ইয়াশ ও বিদ্যা সিনহা মিমের অভিনয়ের রসায়নে মুগ্ধ হয়েছিলেন দর্শক। নাটকেও নিয়মিত রোহান। মূলত অভিনেতা বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা তার মধ্যে কাজ করে। ইয়াশ রোহানের পরিবারে অভিনয়ই প্রাণ।

তারকা দম্পতি নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান ইয়াশ। ছোটবেলা থেকেই তাই অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয়। বাবা-মায়ের অভিনয় দেখার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অভিনয় শিখেছেন। হয়ে উঠেছেন একজন অভিনেতা। পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। এখন ইয়াশকে মাসজুড়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। নাটকের কাজেই মূলত ব্যস্ত থাকেন। কেবল তিনি না, তার বাবা-মাকেও বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে তাদের পরিবারে একটি বিশেষ ব্যাপার আছে। কে, কখন, কোথায় ও কার নির্দেশনায় কাজ করছেন পরস্পর অবগত থাকেন।

ইয়াশ দর্শকের ভীষণ পছন্দের একজন অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন, এটা তার বাবা-মায়ের জন্যও একটা বড় বিষয়। এ নিয়ে নরেশ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা ভীষণ সত্যি যে যখন অনেকেই বলেন যে, ইয়াশ কিন্তু আপনার চেয়েও ভালো অভিনয় করে, তখন সত্যিই ভীষণ ভালো লাগে। আর আমি ইয়াশকে অনেক বড় স্টার নয়, একজন বড় অভিনেতা হিসেবেই দেখতে চাই। আমি খুশি হব ইয়াশ নায়ক হিসেবে নয়, স্টার হিসেবে নয়, অভিনেতা হিসেবেই যদি স্বীকৃত হয়।’

শিল্পী সরকার অপু বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম ইয়াশ নায়ক হোক, ডাক্তার হোক। নায়ক হয়েছে ঠিকই কিন্তু ডাক্তার হয়নি, ফাঁকি দিয়েছে আমাকে। তবে ইয়াশের মা—এটা শুনতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।’

বাবা-মায়ের পরিচিতি ছেলেবেলা থেকেই রোহান দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি—ও আচ্ছা তুমি নরেশ দার ছেলে, অপু দির ছেলে। কিন্তু এ সময়ে এসে অনেকেই যখন বলেন, ‌“তুমি ইয়াশ রোহান”, তখন আরো ভালো লাগে।’ তবে এ পরিচিতির পেছনে বাবা-মায়ের অবদান আছে তাও বলেন ইয়াশ। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা এ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন বলেই আমি একটি প্লাটফর্ম পেয়েছি এবং অভিনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ ছিল। তবে এটাও ভীষণ সত্যি আমি যার ছেলেই হই না কেন, যদি ভালো অভিনয় করতে না পারি, তাহলে কেউই কাজ দেবে না। তাই শুরুটা সহজ থাকলেও এরপর বাকিটা পথচলা কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।’

অভিনয় তিনজনই করছেন কিন্তু একত্রে কাজ করার সুযোগ খুব বেশি হয়নি। নরেশ ভূঁইয়া, শিল্পী সরকার ও ইয়াশ একমাত্র ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায়ই একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু নিজেদের কাজ নিয়ে সবাই ব্যস্ত। এর মধ্যে ইয়াশ রোহান শেষ করেছেন ভিকি জাহেদের নির্দেশনায় ‘চিহ্ন’ নামের একটি নাটকের কাজ। ইয়াশকে গত বছর দেখা গিয়েছিল চরকির ‘প্রচলিত’র একটি পর্বে। এছাড়া মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘সে বসে একা’য় অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন।