তাজমহল রোডের যে বাড়িটায় আজ গেলাম সাদি ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে, সে বাড়িটাকে ঘিরেই আমাদের অনেক স্মৃতি! আমরা তো ওই বাড়িতেই গান শিখতে গেছি দিনের পর দিন। তাই পারিবারিক একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কত অনুষ্ঠানে আমরা একসঙ্গে গেছি!

খুব ছোটবেলা থেকেই যোগাযোগটা ছিল বলে কাজের বাইরেও সাদি মহম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বেশ গভীর ছিল। আমরা যখন ছোট, তখন তিনি প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। 

সাদি ভাইয়ের কাছে আমরা কয়েকজন বন্ধু একত্রে গান শিখতে যেতাম। তখন আমি অষ্টম বা নবম শ্রেণীতে পড়ি। বছর দুয়েক আমার তার কাছে গান শেখা হয়। তখন থেকেই সাদি ভাইকে চিনতে ও জানতে শেখার শুরু আমার। পরবর্তী সময়ে আমি শান্তিনিকেতনে চলে যাই। সেখান থেকে ফিরে আসার পর কাজের সূত্রে নানা সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা হতো, কথা হতো। এর বাইরেও তিনি ফোন করতেন মাঝেমধ্যে। হয়তো কোনো টেলিভিশনে অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন, সেখানে গাওয়ার জন্য ফোন করতেন। একসঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা কাজ করেছি। 

সাদি ভাইয়ের এই যে চলে যাওয়াটা, বিশেষ করে এভাবে চলে যাওয়াটা মেনে নেয়া আমার জন্য খুব কষ্টের। কারণ, সত্যি বলতে আমরা তো তাকে সে সময়টুকু দিতে পারিনি। সবসময় তাকে ঘিরে থাকার সুযোগ পাইনি। জীবনের ব্যস্ততায়, বাস্তবতায় আমরা সবসময় একে অন্যের খোঁজটা নিতে পারি না। তাই আমাকে খুব বিস্মিত করেছে সাদি ভাইয়ের মৃত্যু। 

একজন শিল্পী মাত্রই তার মান অভিমান থাকবে। সেটা সাদি ভাইয়েরও হয়তো ছিল। এক দিনের কোনো ঘটনায় তো তিনি আত্মহত্যা করেননি। অনেক দিনের অনেক ব্যাপার মিলেই হয়তো তিনি একটু বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন, যেটা তাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। তো এটাই আমাদের খুব কষ্টের জায়গা যে আমরা তার জন্য তেমন কোনো কিছু করতে পারলাম না। 

সাদি ভাই তো খুব নম্র, ভদ্র, বিনয়ী ও খুব স্নেহশীল একজন মানুষ ছিলেন। কখনো দেখিনি তিনি কারো ওপর রাগ হয়েছেন, কাউকে বকেছেন! শুনেছি গতকালও তিনি রেওয়াজ করেছেন। যতটুকু দেখেছি তা হলো, তার মায়ের মৃত্যুর পর খুব মন খারাপ করে থাকতেন। এটা স্বাভাবিকও। মাতৃবিয়োগ সবার জন্যই খুব কষ্টের। কিন্তু যেহেতু তিনি একা মানুষ, তার জন্য এটা আরো বেশি কষ্টের ছিল। তাই বলে এতটা বুক ভরা কষ্ট ছিল যে একেবারে জীবনবিমুখ হয়ে গিয়েছিলেন, সেটা আমি কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি। 

অনুলিখন: শাকেরা তাসনীম ইরা