পৃথিবীকে বসবাসের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর রাখতে বৈশ্বিক সংহতিকে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া। ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর তিনি। সোমবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে বৈশ্বিক নেতাদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান প্রিয়াংকা।
প্রিয়াংকা চোপড়া বলেন, ‘আমরা আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কভিড-১৯-এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে বের হওয়ার জন্য দেশগুলো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সব শক্তি নিয়ে, গভীর হয়ে উঠছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও বৈষম্য ধ্বংস করে চলছে ন্যায়ভিত্তিক পৃথিবীর ভিত। অথচ সেই পৃথিবীর জন্যই আমাদের সুদীর্ঘ লড়াই। তাই আজ এ সময়ে আরো বেশি দরকার বৈশ্বিক ঐক্য। যদিও পৃথিবীর অনেক কিছুই ঠিকঠাক নেই। তবু অন্তত এ পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) আমাদের সামনে রয়েছে পরিকল্পনা হিসেবে।’
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো ১৭টি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে চলছে ২০১৫ সাল থেকে। মোকাবেলা করছে বিশ্বজুড়ে অনুভূত হওয়া উন্নয়নের পথে বড় বড় চ্যালেঞ্জকে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘের অন্য সংস্থাগুলোও। বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জনসংখ্যা, শিশু ও মাতৃ উন্নয়ন, টিকা কর্মসূচি, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন, আর্থিক অবকাঠামোগত সংস্কার ও সংস্কৃতির উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো এ লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যবস্তুগুলোকেই পৃথিবীর জন্য পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা বলে গণ্য করছেন। তার ভাষায়, ‘লক্ষ্যবস্তুগুলো ২০১৫ সালে তৈরি করেছে পৃথিবীর মানুষ। পৃথিবীকে বদলে দেয়ার দারুণ একটা সুযোগ তুলে দিয়েছে আমাদের হাতে। আমরা এ দায়িত্ব পালনের জন্য মানুষের কাছে দায়বদ্ধ, দায়বদ্ধ এ সবুজ গ্রহের কাছে। আমরা প্রত্যেকেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পৃথিবী প্রত্যাশা করি।’
পরিকল্পনায় দ্রুততার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রিয়াংকা। হাতে নষ্ট করার মতো আর সময় নেই। পৃথিবীকে সবার জন্য বাসযোগ্য করে রাখতে হলে দরকার তড়িৎ পদক্ষেপ। টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সীমারেখা যেহেতু ২০৩০ সাল; সেহেতু সময়ের অর্ধেকটাই প্রায় চলে গিয়েছে। উপস্থিত সব নেতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আজ এখানে সেই সব দেশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন, যারা ২০১৫ সালে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করেছেন। এমন নেতারাও আছেন, যারা আমাদের সবার সঙ্গে মিলে এ পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। তাই এখন সময় শুধু কাজ করার। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করার। সময় ফুরিয়ে আসছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা রূপ দিতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রিয়াংকা চোপড়া সময় কাটান নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই এবং আমেরিকান কবি অ্যামান্ডা গরম্যানের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে তোলা ছবিও আপলোড করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে।
২০০০ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব পাওয়া প্রিয়াংকা চোপড়া এরই মধ্যে দুবার ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং পাঁচবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ২০১৬ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করে; বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান দেয় বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন টাইম ও ফোর্বস।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










