আশা ভোঁসলে বুঝি এখনো তরুণী। গতকাল ৯০ হলো তার, কিন্তু তাতে কি আসে যায়। আশা তো আশাই। তাই জন্মদিন উপলক্ষে দুবাইয়ে আয়োজিত হয় একটি স্টেজ শোয়ের। ব্রডওয়ে ধারার শো নিয়ে আশা নিজেও উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘আমি সবকিছু বড় মাপে করতে পছন্দ করি। বড় মাপে করতে চাই। তাই চেয়েছিলাম ৯০ পূর্তিতে একটি বড়সড় আয়োজন করব। আমার মনে হয় না বিশ্বে আর কেউ এমন কিছু করেছে।’ ৯০ পূর্তি নিয়ে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আশা। সেখানে তিনি নিজের জীবন, সংগীত ও এখনকার ভাবনা নিয়ে নানা কথা বলেন। সংগীত প্রসঙ্গে আশা বলেন, ‘সংগীত আমার জীবন। সংগীত আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে।’
নিজের জন্মদিন সাধারণত পরিবারের সঙ্গেই পালন করেন আশা। কিন্তু এবার তিনি আলাদা করে নিজের মতো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এবারের জন্মদিনটা আলাদা। আমার মনে হলো, একটা কনসার্ট করা উচিত।’ সে চিন্তা থেকেই দুবাইয়ের কোকা-কোলা এরেনায় আশা অ্যাট নাইন্টি নামের অনুষ্ঠানটি করা হয়েছে।
আশা ভোঁসলের সংগীত ক্যারিয়ার আট দশকের। খুব ছোটবেলা থেকেই গাইছেন তিনি। মাত্র ১০ বছর বয়সে সংগীতে তার অভিষেক হয়। ১৫ বছর বয়সে রেকর্ড হয় প্রথম সলো গান। তারপর আর থামেনি কণ্ঠ। ফলে গান মিশে গেছে তার রক্তে। আশা নিজেও সে কথাই বলেন। দীননাথ মঙ্গেশকরের এ কন্যা বলেন, ‘আমি এখন আর কোনো সুরে গাই না। আমার মনে হয় নোটগুলো আমার ধমনিতে নাচতে থাকে। ব্যাপারটা অনেকটাই এমন যে সংগীত আমি দেখতে পাই। ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা কঠিন, কিন্তু সংগীত যে বোঝে সে অনুভব করতে পারবে।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে আশাকে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ১৯৪৯ সালে ‘রাত কি রানি’ সিনেমার জন্য প্লেব্যাক করেন। সে সময় তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর ‘মহল’ সিনেমায় ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গেয়ে প্রশংসায় ভাসতে শুরু করেছেন। গীতা দত্ত ও শমসাদ বেগম তখন তাদের ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে। আশা বলেন, ‘শুরুতে আমাকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে। কিন্তু সেটাই তো জীবন। একটু একটু করে সব পার করেছি। এখন আমি বলতে পারি, সেসবই আমার ভালো সময়কে তৈরি করে দিয়েছিল আর আমি তা উপভোগও করেছি।’
আট দশকে বহু সংগীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন আশা। এদের মধ্যে আছেন ওপি নায়ার, শঙ্কর-জয়কৃষ্ণ, আরডি বর্মণ, খৈয়াম, বাপ্পি লাহিড়ী, এআর রহমান। সবই বড় বড় নাম। এদের সঙ্গে কাজ করে আশা ভোঁসলে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখেছেন। নিজেকে আবিষ্কার করেছেন নতুন করে। আর সেখান থেকেই নিজেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল নিজের একটা পরিচয় তৈরি করা। আমি কারো নকল করতে চাইনি। আমার মধ্যে কারো ছাপ থাকুক তাও চাইনি। আজ আমি আনন্দিত যে আশা ভোঁসলেকে তার নিজস্ব গায়কি দিয়েই লোকে চেনে।’
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










