আমেরিকায় নতুন এক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই জম্বিতে পরিণত হচ্ছে মানুষ। অনেকগুলো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। তাদের মধ্যে একজন ম্যাগি ভোগেল। পরিবারকে রক্ষায় সে বাড়ি থেকে পালায়। তারপর সে তার বাবাকে ফোন করে বলে, তার বাবা যেন তাকে আর না খোঁজে। জম্বিতে পরিণত হওয়ার আগে তার হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহ আছে। কিন্তু মেয়েকে অগাধ ভালোবাসেন বাবা। কীভাবে অজানার হাতে ছেড়ে দেবেন তাকে?

মেয়ের প্রতি এমন ভালোবাসার গল্প নিয়েই গড়ে উঠেছে হরর জনরার ছবি ‘ম্যাগি’র কাহিনী। বাবার চরিত্রে আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগারের অভিনয় ছিল চোখে পড়ার মতো। চলচ্চিত্র সমালোচকরাও তার দারুণ প্রশংসা করেছেন। শোয়ার্জেনেগার মূলত অ্যাকশন ছবির নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও এই ছবিতে তা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ নতুন একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, যা প্রত্যেক চলচ্চিত্র সমালোচকই আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন।

মেয়ের এভাবে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন বাবা। অবশেষে একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে আসেন এবং বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিপদ যখন আসে তখন চারদিক থেকেই আসে। বাড়িতে একজন অসুস্থকে রাখলে অন্য সবার সমস্যা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। তার ওপর তাদের প্রতিবেশী দুজন আক্রান্তকে বাড়িতে গোপন করে রাখার ফলে তারা জম্বিতে পরিণত হয়ে ম্যাগিকে আক্রমণ করে বসে। যদিও ম্যাগির বাবা জম্বিদের সঙ্গে লড়ে তাকে উদ্ধার করে।

ব্যাপারটা যখন জানাজানি হয় তখন পুলিশ এসে তিনটি অপশন দেয় ম্যাগির বাবাকে, প্রথমত, ম্যাগিকে সরকারি কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে হবে, যেটা সঙ্গে সঙ্গেই না করে দেয় সে। দ্বিতীয়ত, বাসায় থেকেই ইনজেকশনসহ অন্যান্য চিকিৎসা করানো, যেসব গ্রহণ করা ম্যাগির জন্য প্রচণ্ড কষ্টকর হবে। আর তৃতীয়ত, ম্যাগিকে চিরতরে বিদায় দেয়া। তবে বাবা হয়ে নিশ্চয় মেয়ের মৃত্যু দেখা সম্ভব নয়। তাই তিনি মেয়েকে বাসায় রেখেই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন।

কিন্তু ধীরে ধীরে ম্যাগির অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। একটি দুর্ঘটনায় তার হাতের আঙুল ভেঙে যায়। কিন্তু সে কোনো ব্যথাই অনুভব করে না। এরপর সে ঘোরের মধ্যে চলে যায়। এ অবস্থায় নিজেই তার একটি আঙুল কেটে ফেলে। অবস্থা চূড়ান্ত পর্যায়ে মোড় নেয় যখন ম্যাগি চারপাশে খাবারের গন্ধ পাওয়া শুরু করে দেয়। মূলত খাবার নয় সেগুলো, মানুষের মাংসের গন্ধ পেতে থাকে ম্যাগি। কারণ সে এরই মধ্যে জম্বিতে পরিণত হওয়া শুরু করেছে। এবার ম্যাগির বাবাকে আবারো যুদ্ধে নামতে হবে মেয়েকে বাঁচাতে।

৯৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ ছবিটি মূলত ২০১৪ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার করার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে ত্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর মে মাসে খুবই স্বল্প পরিসরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয় ছবিটি। হেনরি হবসনের পরিচালনায় ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন আর্নল শোয়ার্জেনেগার (ওয়েড), অ্যাবিগেল ব্রেসলিন (ম্যাগি), জলি রিচার্ডসন, ডগলাস গ্রিফিন, জে ডি এভারমোর প্রমুখ। ছবিটি দর্শক সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়।