সেতারে আনুশকা শঙ্কর এখন ভারতের অন্যতম সেরা শিল্পী। রবিশঙ্করের উত্তরাধিকার তিনি বহন করছেন সুনামের সঙ্গে। কেবল সেতারের শিল্পী হিসেবেই নয়, তার আছে আরো নানা অর্জন। প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসেবে তিনি গ্র্যামিতে পারফর্ম করেছেন। কনিষ্ঠতম শিল্পী হিসেবে অর্জন করেছেন ব্রিটিশ হাউজ অব কমনস শিল্ড। 

সম্প্রতি প্রকাশ করলেন নতুন অ্যালবাম ‘ফরএভার, ফর নাউ’ অ্যালবামের প্রথম অধ্যায়। আনুশকা তার ‘ফরএভার, ফর নাউ’ অ্যালবামে কাজ করেছেন মানুষের অনুভূতি নিয়ে। অনুভূতিকে সংগীতের মধ্য দিয়ে প্রকাশের চেষ্টা আছে এ অ্যালবামে। লোলাপালুজা উৎসবের পর তিনি ভারতে তার ট্যুরের দিকে এখন মনোযোগ দিচ্ছেন। তার সাম্প্রতিক কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ভারতীয় গণমাধ্যম ইয়নের সঙ্গে।

আনুশকার পরিবারের সবাই সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। এমন একটি পরিবারে বেড়ে ওঠা নিয়ে তার কাছে জানতে চায় ইয়ন। আনুশকা বলেন, ‘আমার জন্য এটা খুবই স্বাভাবিক। সবাই শিল্প ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আমার আশপাশে সংগীতের মানুষ ছিল আর সংগীতময় ছিল পরিবেশ। আমার সংগীতের যাত্রাও সেখানেই।’

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে আনুশকার পরিবার অন্যতম প্রধান। তিনি সেখান থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আনুশকা বলেন, ‘আমার সবটা যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের এমন নয়। তবে আমি এটা শিখতে কয়েক যুগ সময় নিয়েছি। যেকোনো শাস্ত্রীয় সংগীতের ক্ষেত্রেই এ সময়, নিবেদন ও অনুশীলন প্রয়োজন। তরুণদের জন্য এটা বেশ কঠিন হতে পারে, তবে নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া রাখতে হবে।’

সংগীতের দুনিয়া বিস্তৃত। আর এর মধ্যে নানা ধরন ও ঘরানা আছে। ভারতের শাস্ত্রীয় সংগীত নানা সময় সংগীতের দুনিয়াকে প্রভাবিত করেছে। এ নিয়ে আনুশকা বলেন, ‘এ সংগীতের বিস্তৃতি অনেক বেশি। আছে বৈচিত্র্য। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে জুড়ে আছে আধ্যাত্মিকতা। এ কারণেই সারা বিশ্ব থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের কাছে ফিরে আসে।’

এ তো গেল সংগীত নিয়ে সবার বিষয়ে কথা। আনুশকার নিজেরও কিছু পছন্দ আছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নানা ধরনের সংগীত শুনেছি। ডার্ক মিউজিক, ডান্স মিউজিক, আত্মাকে জাগিয়ে তোলে এমন গভীর সংগীতও শুনি। আমার মনে হয় ভিন্ন ভিন্ন সংগীতের ধারায় মানুষের এক একটা অংশ ফুটে ওঠে।’

আনুশকা সংগীতকার এবং কখনো তিনি লিখেও থাকেন। কিন্তু আনুশকা কি রাইটার্স বা ক্রিয়েটিভ ব্লকে ভোগেন? এ প্রশ্ন করলে আনুশকা বলেন, ‘এমন হয়েছে যে লিখব লিখব করে লিখতে বসা হয়নি। কিন্তু লিখতে বসলে সেটা করতে আর কোনো সমস্যা হয়নি। আমার মনে হয় ঠিক পরিবেশের মধ্যে গেলে কাজ করা সহজ। তখন আর কোনো বাধা থাকে না।’

পণ্ডিত রবিশঙ্করের সংগীত সম্পর্কে আনুশকা বলেন, ‘তার সংগীত ও বাজনার ধরন একেবারেই স্বতন্ত্র। তার কাছ থেকে সংগীত শেখাও আমার জন্য ভিন্ন একটি অভিজ্ঞতা। আমি নিজেকে তার উত্তরাধিকারী এবং শিষ্য মনে করি। তাকে পারফর্ম করতে দেখা আমার জন্য সৌভাগ্যের। যে সুন্দরতম সংগীত তিনি তৈরি করেছেন তার মধ্য দিয়েই আমি শিখেছি, যা কিছু আমি আজ পারি।’

স্বাভাবিকভাবেই এ সাক্ষাৎকারের শেষে এসেছিল সংগীতের মাধ্যম বদলে যাওয়ার প্রসঙ্গ। ক্যাসেট থেকে সিডিতে যাওয়ার পর এখন স্ট্রিমিংয়ের যুগ। আনুশকা পুরোটা দেখেছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় সৃষ্টিশীলতাকে উন্মুক্ত করে দেয়ার সময়ে এসে পৌঁছেছি আমরা। আমি ক্যাসেট যুগে কাজ শুরু করি। এখন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে চাইলে একক গান বা ইনস্ট্রুমেন্টালও দিতে পারি। প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি আমাদের সে সুযোগ দিয়েছে। প্রযুক্তি তো বদলাতেই থাকবে।’ 

ইয়নে প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান