পুরো পৃথিবীতে এক মারাত্মক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জম্বিতে পরিণত করে ফেলছে। এমন এক ভয়ানক পৃথিবীতে শিশুসন্তান রোজিকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করে যাচ্ছে এক দম্পতি—অ্যান্ডি এবং কে। অস্ট্রেলিয়ার একটি গ্রামে নিরাপদেই বাস করছিল তারা। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন কে জম্বিতে পরিণত হয়। এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে অ্যান্ডিও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ভয়ংকর এ ভাইরাস থেকে রোজিকে বাঁচাতে হবে। আর তাকে নিরাপদ কোনো স্থানে রেখে আসার জন্য অ্যান্ডির হাতে আছে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। সন্তানকে বাঁচাতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয় বাবাকে। অথচ হাতে বেশি সময় নেই। এ রকম টান টান কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে ‘কার্গো’
ছবিটি।
ঘটনার শুরুতে দেখা যাবে, অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে জম্বির প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। অ্যান্ডি এবং কে দম্পতি একধরনের ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তারা তাদের সন্তান রোজিকে সুরক্ষিত রাখতে একটি হাউজবোটে রেখে দিয়েছে। এ দম্পতি জানে না পরবর্তী সময়ে তারা কোথায় যাবে? এ বিষয়ে কেউই একমত হতে পারছে না। অ্যান্ডি নদীর পাশ দিয়ে সামরিক ঘাটের উদ্দেশে রওনা হতে চায়। কিন্তু বাদ সাধে কে। অবশ্য পরে দুজনেই একটি সিদ্ধান্তে আসে। এর মধ্যেই কে জম্বিতে পরিণত হয়ে যায়।
তারপর একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে, যখন অ্যান্ডি রোজিকে পিঠের মধ্যে চাপিয়ে ওভারল্যান্ডের দিকে যাত্রা শুরু করে। পথে জম্বিরা তাদের আক্রমণের চেষ্টা করে। একসময় অ্যান্ডি একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পায়। যেখানে থুমি নামে এক আদিবাসী নারীও অবস্থান করছিল। সে ভাইরাসে আক্রান্ত তার বাবাকে বাঁচানোর চেষ্টায় সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। কাহিনীর এক পর্যায়ে দেখা যাবে, অ্যান্ডি ও থুমি একে অন্যের পথ অতিক্রম করতে শুরু করে এবং একে অন্যের গল্পটাও বদলাতে শুরু করে। একসময় অ্যান্ডিকেও জম্বি আক্রমণ করে। জম্বিতে পরিণত হওয়ার আগেই সে তার মেয়েকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। কাজটি মোটেও সহজ নয়। এভাবেই ছবির কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে।
জম্বিদের নিয়ে নির্মিত হলেও এটি সাধারণ জম্বি ঘরানার চলচ্চিত্র থেকে আলাদা। সর্বদা নিজের সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাওয়া এক পিতার সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে।
পুরো ছবিতে দেখা যাবে, মারাত্মক ভাইরাসে সংক্রমিত বাবা কীভাবে তার ছোট্ট মেয়েকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। অন্যান্য জম্বি চলচ্চিত্রের মতো বন্দুক বা ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার, জম্বি হত্যা বা হিংস্রতা দেখানো হয়নি ছবিটিতে। জম্বি ছবি সম্পর্কে একটি নতুন অভিজ্ঞতা দেবে ‘কার্গো’। এ ছবির সঙ্গে অনেকখানি মিল খুঁজে পাওয়া যায় জম্বি ঘরানার আরেক ছবি ট্রেন টু বুসানের।
প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ছবিটির সবকিছু প্রায় নিখুঁত ছিল। সিনেমাটোগ্রাফি থেকে শুরু করে সাউন্ড মিক্সিং, সবই দুর্দান্ত ছিল। ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর অ্যাডিলেড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়েছিল কার্গোর। ২০১৮ সালের ১৮ মে এটি মুক্তি পায়। বেন হাওলিং এবং ইওলান্দা রামকে পরিচালিত এ ছবিতে অ্যান্ডির চরিত্রে অভিনয় করেন মার্টিন ফ্রিম্যান। এছাড়া সিমোন ল্যান্ডার্স, অ্যান্টনি হেইস, সুসি পোর্টার ও ক্যারেন পিস্টোরিয়াসকেও দেখা যাবে ছবিটিতে।










