চ্যানেল আইতে আজ বেলা ৩টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে টেলিফিল্ম প্রতিবিম্ব। মুনতাহার বৃত্তার রচনা এবং তুহিন হোসেনের পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন মীম মানতাশা, মিশু সাব্বির, শহীদুজ্জামান সেলিম, মনিরা ইউসুফ মেমী প্রমুখ।
নাটকের গল্পে দেখা যাবে মিজানের পৃথিবীটা সাদা ও কালো—এ দুই ভাগে বিভক্ত। ধূসর কিছুই তার জগতে নেই। মিজানকে ছোটবেলায় আব্বা বলেছিলেন, সবসময় সাদা দিকে থাকতে, না হলে আয়নায় মুখ দেখা যাবে না। সেই যে মিজানের সততার পথচলা শুরু হয়েছে, তা আজও থামেনি। মিজান এখন প্রবীণ ইঞ্জিনিয়ার। স্ত্রী রিমা, সদ্য ১৮ ছোঁয়া ছেলে তমাল আর মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে তিন্নিকে নিয়ে তার সংসার। সংসার কি তার সুখের! না। মিজানদের সরকারি কোয়ার্টারের আশপাশে সবাই যখন বাড়ি, গাড়ি, এসি হাঁকিয়ে ভাব দেখিয়ে চলাফেলা করেন, তখন মিজান মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকাকেই সান্ত্বনা বলে মনে করেন। আসলে তারা এসব সুখই উপহার পান। ঘুষ খাওয়া কালো হতে পারে, উপহার পাওয়া তো ধূসর অবস্থান। কিন্তু মিজান ধূসর হতে পারে না। তাই রিমা, তমাল আর তিন্নির সঙ্গে মিজান মোকাবেলাও করতে পারে না। পৃথিবী যত এগোচ্ছে, চাহিদা তত বাড়ছে। সংসারে টানাপোড়েন চলছেই। এসব নিয়ে স্ত্রী রিমা ও ছেলে তমাল মিজানকে নানা কথা শোনায়। কিন্তু তিন্নি কথা শোনাতে পারে না, সে সময়ে অসময়ে হাততালি দিয়ে ওঠে। এ হাততালি কি বিদ্রুপের না ভালোবাসার! মিজান বোঝে না। একপর্যায়ে ছেলে তমালেরও সেকেন্ড স্টেজ ক্যান্সার ধরা পড়ে। চিকিৎসায় ভালো হওয়া সম্ভব কিন্তু খরচ! মিজান সারা রাত জেগে থাকে কালো কালো অন্ধকারে আলো খোঁজে।
মিজান এখন উপহার পায়। তার ঘরে নতুন ফ্রিজ, বড় টিভি, এসি সবই এসেছে। স্ত্রী রিমা মাঝে মাঝে জানতে চায়, মিজান কোনো অন্যায় করছে না তো! মিজান হাসে, কী দরকার জেনে। সবাই ভালো আছে তো। তমালের চিকিৎসাও চলছে জোরকদমে। সামনের মাসে তাকে সিঙ্গাপুরেও নিয়ে যাওয়া হবে। তমাল এর মাঝেই বায়না ধরে তাকে লেটেস্ট মডেলের মোটরসাইকেল কিনে দিতে হবে। মিজান হাসিমুখে মেনে নেয়। এখন শুধু কাগজে সই করে দিলেই সবকিছু উপহার পাওয়া যায়। সাদা-কালো নয় ধূসর জগতের সন্ধান পেয়েছে মিজান।
উল্লেখ্য, টেলিফিল্মটি ২০১৮ সালের ঈদুল আজহায় চ্যানেল আইতে প্রচারিত হয়েছিল।










