একটি নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনেমার বক্স অফিসের আয় ৮৮ শতাংশ কমে গেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অনুমান করছে যে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ অঞ্চলে মাত্র ৫২৮ মিলিয়ন ডলারের টিকিট বিক্রি হয়েছে।

চীনে জানুয়ারির প্রথম দিক থেকেই সিনেমা হলগুলো বন্ধ থাকায় টিকিটের বিক্রি প্রায় ৯৭.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে অল্প কিছু সিনেমা হল পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় খোলা হলেও শিগগিরই আবার বন্ধ করে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। চীনে মুক্তি পাওয়া সর্বশেষ বড় হলিউড সিনেমা ছিল ডিজনির স্টার ওয়ার্স: দ্য রাইজ অব স্কাইওয়াকার, যা কিনা ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছিল।

এশিয়া-প্যাসিফিক থেকে পুরো বিশ্বের চলচ্চিত্র শিল্পের উপার্জনের এক বৃহৎ অংশ আসে। কারণ চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বক্স অফিস, তৃতীয় হচ্ছে জাপান এবং চতুর্থ অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়া। এছাড়া ধারাবাহিক উপার্জন কেন্দ্র অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং উদীয়মান পাওয়ার হাউজ হিসেবে পরিচিত ইন্দোনেশিয়ার নামও উল্লেখ করা যায়।

করোনাভাইরাসের প্রভাব এসব অঞ্চলেই পড়েছে এবং তার ফলে সিনেমার আয়ের এই নিম্নগতি।

দক্ষিণ কোরিয়া সফলভাবে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা চালালেও তারা দেশব্যাপী সিনেমা হলগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি। বরং সিনেমা হলগুলোর মালিকদের সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। দেশটির বক্স অফিসের আয় প্রথম প্রান্তিকে ৬৫.৩ শতাংশ কমে গিয়ে ১৩৯.৫ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

জাপানের আয় ৪৬.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৯০.৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভাইরাসের মহামারী মোকাবেলায় দেশটি এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।

অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশের সিনেমা হলগুলো মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল এবং প্রথম ত্রৈমাসিকে আয় ৩১.৫ শতাংশ কমে ১১০.৩ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

প্রথম ত্রৈমাসিকে উত্তর আমেরিকায় বক্স অফিসের আয় ২৫  শতাংশ কমেছে, যা কিনা ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলগুলো মার্চের শেষের দিকে বন্ধ হওয়া শুরু হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে বক্স অফিসের আয় আরো খারাপ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সূত্র: হলিউড রিপোর্টার