কোনো পরিকল্পনা, পদক্ষেপই ওয়ার্নার ব্রোসকে লাভের দিকে নিতে পারছে না। একের পর এক ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। একদিকে তাদের প্রযোজিত সিনেমা, সিরিজ দর্শকের মন জয় করতে পারছে না। অন্যদিকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘার মতো হাজির হয়েছেন হলিউডের লেখক ও অন্যান্য ক্রর ধর্মঘট। এটিও অতিরিক্ত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি এবার জানাল তাদের সম্ভাব্য ক্ষতির কথা। এ বছর ধর্মঘটের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি হতে পারে ৩০-৫০ কোটি ডলার। 

ডেভিড জাসলাভের নেতৃত্বে চলা প্রতিষ্ঠানটি বছরের শুরুতে ধারণা করেছিল, এ বছর তাদের আয় হবে ১ হাজার ৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। কিন্তু হলিউডে চিত্রনাট্যকার ও রেডিও-টেলিভিশন আর্টিস্টদের ধর্মঘটের কারণে কোম্পানি ক্ষতির মুখে পড়ছে। নানা কাজ বন্ধ থাকার কারণে এ ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে ৩০-৫০ কোটি ডলার। চলমান এ ধর্মঘট শেষ করার ব্যাপারে ডেভিড চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু স্টুডিও প্রধানদের দেয়া শর্ত ও রাইটার্স গিল্ড, রেডিও-টেলিভিশন আর্টিস্টদের দেয়া দাবি সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে কোনো সমাধান আসছে না। সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে ওয়ার্নার ব্রোস বলেছে, ‌ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি আশা করে ধর্মঘট খুব দ্রুতই শেষ হবে, কিন্তু কবে শেষ হবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। দুটো সংস্থার সঙ্গেই আমাদের কথা হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান মনে করে এর রেশ থাকবে বছরের শেষ পর্যন্ত।

ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি নিয়মিত বিরতিতে তাদের আর্থিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর আগে ডেভিড জাসলাভ বলেছিলেন, ‘‌ধর্মঘটের কারণে ওয়ার্নার ব্রোসের ব্যয় সংকুচিত হয়েছে।’ এক্ষেত্রে তিনি জানিয়েছিলেন, স্টুডিও বন্ধ থাকায় খরচ কমেছে, যা ওয়ার্নার ব্রোস লাভ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। লাভের পরিমাণ হিসেবে তারা ১০ কোটি ডলারের উল্লেখ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল মনকে প্রবোধ দেয়া। গত কয়েক বছর প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রযোজিত সিনেমা থেকে যথেষ্ট আয় করতে পারেনি। এদিকে সিনেমা ও সিরিজ পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্ষতির পরিমাণ কমছে না।

কিন্তু এবার ওয়ার্নার ব্রোসের সুর নরম হচ্ছে। কেননা ধর্মঘট আদতে কোনো সুবিধা দিচ্ছে না। সে কারণেই ব্রোস বলছে, আমরা অন্যান্য স্টুডিওর পাশাপাশি ক্রুদের সংগঠনের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আশা করি, দ্রুতই একটি সমাধানে আসা যাবে।

সূত্র: ভ্যারাইটি