আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় আয়োজিত হচ্ছে বিশেষ এক প্রদর্শনী। গাজার শিশুদের সহায়তায় হোপওয়েভ ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে ‘ইকোস অব হোপ-চিলড্রেন ফর চিলড্রেন’। এটি মূলত নিরাময়কেন্দ্রিক তহবিল সংগ্রহ প্রদর্শনী। আগামীকাল আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ধানমন্ডির লা গ্যালারিতে বিকাল ৫টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে।
প্রদর্শনীতে শিশুদের চিত্রকর্ম, হাতে লেখা চিঠি, ফটোগ্রাফ ও উখিয়ায় পরিচালিত চারদিনের আর্ট ও মনোসামাজিক কর্মসূচির নথিপত্র উপস্থাপন করা হবে। এসব কাজের মাধ্যমে শিশুরা ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা, ধৈর্য ও সংহতির বার্তা প্রেরণ করেছে। আয়োজনটি সীমান্ত পেরিয়ে মানবিকতার এক অসাধারণ সংযোগ তৈরি করে।

প্রদর্শনীর সব কাজ চারদিনের একটি মনস্তাত্ত্বিক শিল্প কর্মশালার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। এ সময় শিশুদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজনটি ছিল আরো প্রাণবন্ত। উদ্যোগটির মাধ্যমে শেখানো হয় কীভাবে সৃজনশীল সম্পৃক্ততা মানসিক নিরাময়ের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেই সঙ্গে এটি বাস্তুচ্যুতি ও মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও শিশুদের সহানুভূতিশীল ও আশাবাদী হতে শেখায়।
শিল্প ও মানসিক সুস্থতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ প্রদর্শনী একই সঙ্গে গাজার শিশুদের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ। পিএসিএসওসির সহযোগিতায় পরিচালিত এ আয়োজন থেকে প্রাপ্ত সব অনুদান ওউনেহ ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে গাজার শিশুদের সহায়তায় প্রদান করা হবে।
হোপওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, কবি ও সমাজকর্মী মুনিমাহ মাহরিন বলেন, ‘অদৃশ্য ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকা শিশুরাও যে নীরবতার পরিবর্তে সহমর্মিতা ও হতাশার পরিবর্তে আশা বেছে নিতে পারে, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা সেটিই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।’
হোপওয়েভ ফাউন্ডেশন শিল্পভিত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক উদ্যোগের মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা পুনরুদ্ধার, যুব অংশগ্রহণ ও বৈশ্বিক সংহতির জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ভিত্তিশীল পরিসর তৈরিতে কাজ করে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হোপওয়েভ ফাউন্ডেশনে একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে ধারাবাহিকতায়ই এ প্রদর্শনীর আয়োজন। আগামীকাল শুরু হয়ে প্রদর্শনীটি চলবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।










