কিরণ রাওয়ের অনেক পরিচয়। তিনি একাধারে চলচ্চিত্র প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক। তবে একটা বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। ১৪ বছর পর আবার পরিচালনায় ফিরলেন। তার পরিচালিত সিনেমা লাপাতা লেডিস মুক্তি পেয়েছে গতকাল। এর আগেও কিরণ রাওকে বেশকিছু সিনেমা প্রযোজনায় যুক্ত হতে দেখা গেছে। তবে ২০১০ সালে আমির খান অভিনীত ধোবি ঘাট সিনেমা পরিচালনার মধ্য দিয়ে পুরোদমে কিরণ রাও পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি জানালেন পরিচালনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।  

সিনেমা লাপাতা লেডিস স্যাটায়ারধর্মী সিনেমা। সিনেমাটি নিয়ে কিরণ বলেন, ‘এ সিনেমায় দেখা মিলবে ঘটনাক্রমে একটি ভারতীয় ট্রেনে দুটি মেয়ের অদলবদল হওয়ার গল্প। ভারতীয় সিনেমার জন্য এটি একটি পরিচিত দৃশ্য। এ ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই আমাদের গল্পকে এগিয়ে নেয়া হয়েছে। সিনেমায় বেশকিছু নতুন ধারণাকে উন্মুক্ত করা এবং নিজেদের চিন্তাগুলো হাস্যরসের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা একটি আলাদা চ্যালেঞ্জ ছিল। দুটি অল্পবয়সী মেয়ে যারা জীবন নিয়ে খুব বেশ সচেতন নয়, এমন দুজনের হারিয়ে যাওয়া বেশ উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়।’

এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, পিতৃতন্ত্র সমাজে কীভাবে কাজ করছে লাপাতা লেডিসে সে বিষয়গুলো দেখানো হয়েছে। তবে কিছুটা সহজভাবে। এ সিনেমায় বেশকিছু চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের দেখা মিলবে। সিনেমার মুখ্য চরিত্রগুলোয় দেখা যাবে প্রতিভা রত্ন, নিতাশি গোয়েল, স্পর্শ শ্রীবাস্তব, রবি কিষাণ, ছায়া কদমসহ আরো কয়েকজন অভিনয় শিল্পীকে। লাপাতা লেডিস কিরণ রাওয়ের নিজস্ব প্রযোজনা ব্যানার কিন্ডলিং পিকচার্সের অধীনে নির্মিত তার প্রথম চলচ্চিত্র। সিনেমাটি নিয়ে কিরণ রাও বেশ আশাবাদী। সিনেমাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে কিরণ বলেন, ‘আমি মনে করি সিনেমাটির মাধ্যমে দর্শককে একটি বার্তা দিতে পারব। সিনেমায় একটি প্লট তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দর্শকের নিজেদের মতো করে ভাবার সুযোগ আছে।’

স্যাটায়ার সিনেমাটিকে আরো মজাদার করে তুলেছে কিনা এ বিষয়ে কিরণ বলেন, ‘হাস্যরস আমাদের আরো বেশি মোহিত করে তোলে। মজার ছলে সংলাপে অনেক বার্তা দর্শককে পৌঁছে দেয়া যায়।’

লাপাতা লেডিস সিনেমার গল্প লিখেছেন বিপ্লব গোস্বামী। কিরণ রাও এ গল্প নিয়ে কেন কাজ করেছেন সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গল্পটিতে অনেক নাটকীয়তার পাশাপাশি বাস্তব কিছু বিষয়ও ছিল। তবে অনেক কিছু আমরা যা বলতে চাই বা সমাজকে কোনো বার্তা দিতে চাই তা হাস্যরসের মধ্য দিয়ে অনেকাংশেই সহজ হয়েছে। আমরা বিপ্লবের অনুমতি নিয়েই ২০২০ সালে গল্পের কিছু জিনিস পুনরায় লিখেছি। এর পরই আমরা স্নেহা দেশাইকে সিনেমায় যুক্ত করেছি। তিনি একজন দুর্দান্ত চিত্রনাট্যকার। এ সিনেমার জন্য আমরা ভিন্ন ভিন্ন নারীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আলাপ ছিল। তবে আমরা বেশ সহজভাবেই সিনেমায় সেগুলো তুলে ধরেছি।’

প্রথম সিনেমার পর এত দীর্ঘ অনুপস্থিতির পেছনে কারণ ছিল কিরণ রাওয়ের তখন মা হতে চাওয়া। ধোবি ঘাট মুক্তির পর কিরণ কি আর কাজ করতে চায়নি! এমন প্রশ্নের জবাবে কিরণ বলেন, ‘আমি আরো কাজ করতে চেয়েছিলাম এবং সিনেমা নিয়ে বেশ লোভেই পড়েছিলাম তখন। তবে এর মাঝেই আমি ২০১১ সালেই পুত্রসন্তানের মা হয়েছি। যেহেতু অনেক চেষ্টা ও চ্যালেঞ্জের পর মা হয়েছিলাম, তাই আমি লেখালেখি নিয়ে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। তখন পুত্র আজাদই ছিল প্রথম গুরুত্ব।’ সিনেমা নির্মাণের চেয়ে সন্তানকে সময় দেয়া বেশি প্রয়োজন মনে করেছিলেন কিরণ।

নিজেকে কোন পরিচয়ে দেখতে বা প্রকাশ করতে বেশি ভালোবাসেন—পরিচালক, প্রযোজক নাকি চিত্রনাট্যকার, এমন প্রশ্নের জবাবে কিরণ বলেন, ‘পরিচালনা আমার প্রথম প্রেম। প্রযোজনা বেশ সহজভাবেই আমার কাছে এসেছিল। যেহেতু আমি শুরু করেছিলাম একজন সহপরিচালক হিসেবে। তবে আমি সৃজনশীল কাজে বেশি মনোযোগী।’

স্ক্রলডটইন অবলম্বনে 

ফারিহা আজমিন