দক্ষিণ কোরিয়ার প্রত্যেক সমর্থ তরুণকে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক কাজ করতে হয়। এটি চালু রাখা নিয়ে তরুণদের মধ্যে একটি আপত্তি অনেক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল। বিশেষত বিটিএস সদস্যদের ক্ষেত্রে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলেছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত তারা দাবি করেছিলেন দুই বছরের পরিবর্তে বিটিএস সদস্যদের তিন সপ্তাহ সার্ভিসের সুযোগ দেয়া হোক। এ পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন এখন থেকে মিলিটারি সার্ভিসে থাকা অবস্থায় বিদেশে পারফর্ম করতে পারবে বিটিএস সদস্যরা।

বিটিএস সদস্যদের মিলিটারি সার্ভিসের প্রসঙ্গটি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষত বিটিএস সদস্য জিন আগামী বছর ৩০ পূর্ণ করছেন। ২০১৯ সালের সংশোধিত আইন অনুসারে, ৩০-এর আগ পর্যন্ত বিটিএস সদস্যরা তাদের মিলিটারি সার্ভিস বন্ধ রাখতে পারেন। ১৮-২৮ বছর বয়সের মধ্যে বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিসের বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিককালে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বহুদিন ধরে চলে আসা এ নিয়ম বর্তমান তরুণরা মানতে চান না। কয়েক বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার বহু তরুণ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে দেশকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করেছে। তাদের জন্য সামরিক সার্ভিসের সময়কাল কমানো কিংবা পূর্ণ অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে দেশটির আইনসভায়ও কথা উঠেছে।

আইনসভার একটি অধিবেশনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি-জং সুপ বলেন, মিলিটারি সার্ভিসের সময়কালে ব্যান্ড সদস্যদের পারফর্ম করতে দিলে তাদের ক্যারিয়ার ও দেশের নীতি দুটোই ঠিক থাকে। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘যদি তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়, সেক্ষেত্রে তাদের একত্রে অনুশীলন ও পারফর্ম করার সুযোগ দেয়া হবে। সবার একই সময়ে বিদেশে পারফরম্যান্স থাকলেও তারা এ সুযোগ পাবেন। যেহেতু বহু নাগরিক সেনাবাহিনীকে পছন্দ করে, এতে তাদের (বিটিএস) জনপ্রিয়তা আরো বাড়তে পারে।’

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশটির তরুণদের মধ্যে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটির একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান অনুমান করেছিল ২০১৪-২৩ সালের মধ্যে বিটিএস ৪ হাজার কোটি ডলারের মুনাফা করবে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর বিশ্বের প্রথম এশিয়ান ব্যান্ড হিসেবে আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড পায় বিটিএস।

 

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস