বলিউডের নবাব খ্যাত সাইফ আলি খান পরিবার নিয়ে পতৌদি প্যালেসে ফিরতে চান কি? এমন প্রশ্ন সম্প্রতি সাইফকে করেছিল মুম্বাই মিরর। জবাবে ছোট নবাব বলেন, ‘আমি ফিরতে পারব এবং সেটা মনে হয় দারুণ একটা জীবন হবে। আমার একটা আস্ত বাগান রয়েছে, আমি সাঁতার কাটব, রান্না করব, বই পড়ব এবং সঙ্গে থাকবে পরিবার, মাঝেমধ্যে বন্ধুরা আসবে গল্প হবে, আড্ডা জমবে। আমি এটাই করে আসছি দীর্ঘ সময় ধরে, আমাদের মুম্বাইতেও একটা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, তাই কাজের প্রয়োজনে আমরা সহজেই আসতে পারব এখানে। তবে আমাদের একটা ভালো স্কুল প্রয়োজন (পতৌদি প্যালেসের) আশপাশে।’

উল্লেখ্য হরিয়ানার গুরুগ্রামে অবস্থিত পাতৌদি প্যালেস। সাইফের পূর্বপুরুষ সেখানকার নবাব ছিলেন। নবাবী আমল না থাকলেও সাইফরা সেখানে নবাব হিসেবেই পরিচিত। অনেকেই সাইফদের প্রাসাদকে ইব্রাইম কুঠি হিসেবেও উল্লেখ করে থাকেন। ১০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এ প্রাসাদে রয়েছে ১৫০টি কক্ষ।

সাইফ আলি খান আরো যোগ করেন তাদের পরিবারের ট্রাস্ট থেকে অনেক জমি স্থানীয় কৃষকদের দেয়া হয়েছে চাষের জন্য। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পতৌদির স্থানীয়দের জন্য কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। মেয়ে শিশুদের শিক্ষা, অ্যাসিড আক্রমণের শিকার মেয়েদের সাহায্য করে দ্য পতৌদি ট্রাস্ট। এসব উদ্যোগ আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন সাইফ।


সম্প্রতি এক মাস ছেলে তৈমুরকে নিয়ে পতৌদি প্যালেসে কাটিয়ে মুম্বাই ফিরেছেন সাইফ। এত সময় তিনি আগে কখনো এ প্রাসাদে কাটাননি। অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘তৈমুর এখন বেশ বড় হয়ে গিয়েছে, সে প্রকৃতির সঙ্গে এখন অনেকটা একাত্ম। ভয় পাওয়া তো দূরের কথা পতৌদিতে পৌঁছালে সেখানে সে পোকামাকড় কিংবা প্রজাপতির পিছু ধাওয়া করে। গাছের আড়ালে লুকোচুরি খেলে। কাঠাবিড়ালিকে বিস্কুট খাওয়ায়। গ্রামের অনেক বিষয়ে সে এখন অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।’

অন্যদিকে সাইফ ও কারিনা তাদের দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায়। দ্বিতীয়বার বাবা হওয়ার বিষয়ে সাইফ জানান, ‘ছেলেমেয়ে মানুষ করার জন্য এটা একদম পারফেক্ট বয়স। আপনার যখন বয়স কম থাকে, তখন আপনি নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকবেন ক্যারিয়ার নিয়ে। তবে এখন এ বয়সে এসে অনেক বেশি স্থির, আর্থিকভাবে সচ্ছল, আপনার হাতে সময় অনেক বেশি সঙ্গে ধৈর্য। ভালোবাসার পাশাপাশি সন্তানের জন্য এগুলো থাকাও খুব জরুরি। আর নিজের জন্মভিটার চেয়ে ভালো জায়গা আর কিইবা হতে পারে এ মুহূর্তগুলো উপভোগ করার জন্য! রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে বড় বিছানায় বই পড়ার আনন্দ আর আপনাকে ঘিরে থাকবে তোমার স্ত্রী, সন্তানরা ও তোমার প্রিয় সারমেয়।’


অন্যদিকে ৮০০ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি হোটেল চেনের কাছ থেকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি পতৌদি প্যালেস নতুন করে কেনার খবর অস্বীকার করেছেন সাইফ আলি খান। তার কথায় পতৌদি প্যালেসের মূল্যনির্ধারণ সম্ভব নয়, কারণ ওটি ‘দুর্লভ’ এবং ৮০০ কোটি টাকার বিষয়টি ‘অতিরঞ্জিত’। ‘বাবা যখন ওই প্যালেস লিজে দিয়েছিল তখন অমন (নাথ) ও ফ্রান্সিস (ওয়াকজিরাং) সেই হোটেল চালাত। ওরা একেবারেই আমাদের পরিবারের মতো। আমার মায়ের সেখানে আলাদা কটেজ ছিল, উনি যেকোনো সময় সেখানে যেতে পারতেন’— জানান সাইফ আলি খান। উল্লেখ্য, ফ্রান্সিস ওয়াকজিরাং ও অমন নাথ যৌথভাবে মনসুর আলি খান পতৌদির (সাইফের পিতা) কাছ থেকে ১৭ বছরের জন্য লিজে পতৌদির প্যালেসটি নিয়েছিলেন হোটেল ব্যবসার জন্য। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দ্য পতৌদি প্যালেস হোটেল হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। এরপর সেটি সাইফ পুনরুদ্ধার করে নেন।

সাক্ষাৎকারে সাইফ আরো জানান, তিনি আগে থেকেই ওই সম্পত্তির মালিক ছিলেন, তাই নতুন করে সেটি নীমরানা গ্রুপের কাছ থেকে কেনার প্রশ্ন ওঠে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেন করতে হয়েছিল এটা সত্যি।

 

সূত্র: মুম্বাই মিরর