ডিসির নতুন ইউনিভার্স নিয়ে আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সোমবার নিশ্চিত হওয়া গেল দ্য ফ্ল্যাশের হাত ধরে শুরু হচ্ছে ডিসি ইউনিভার্স। সে সিনেমায় ফিরছেন মাইকেল কিটন। তবে ফেরাটা তার আরো আগে হতে পারত। অস্কারে সম্ভাব্য সেরা অভিনেতার তালিকায় আছেন ব্রেন্ডন ফ্রেজার। তাকেও দেখা যেতে পারত ডিসির ইউনিভার্সে। ব্যাটগার্ল সিনেমায় ছিলেন তারা। কিন্তু সিনেমাটি বাতিল হওয়ার কারণে এদের কাউকে আর দেখা গেল না পর্দায়। সম্প্রতি এ সিনেমা নিয়ে কথা বলেছেন ব্যাটগার্ল চরিত্রে অভিনয় করা লেসলি গ্রেস। তার মতে, সিনেমাটি বাতিল না করলেও চলত।
সাত মাস ধরে শুটিং ও অন্যান্য কাজ হয়েছিল এ সিনেমার। পরিচালনায় ছিলেন আদিল এল-আরবি ও বিলাল ফাত্তাহ। ৯ কোটি ডলার খরচ হয়েছিল সিনেমাটি নির্মাণে। তবে ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারির কথা ছিল, মুক্তি দিতে গেলে আরো বেশি খরচ করতে হতো। ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির জন্য তা সম্ভব ছিল না। তবে দুঃখের ব্যাপার হলো বিষয়টি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জানানো পর্যন্ত হয়নি। এইচবিও ম্যাক্সে স্ট্রিম হওয়ার কথা ব্যাটগার্লের। গ্রেস বলেন, ‘আপনাদের মতো আমিও সংবাদপত্র থেকে খবরটি জেনেছি। আর তার পরই আমার কাছে একের পর এক ফোনকল আসতে শুরু করে।’
ফ্রেজারের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। তিনিও জানতেন না এ সিনেমা বাতিল হওয়ার কথা। ফ্রেজারের ভাষায়, ‘ভেবেছিলাম কেউ আমার সঙ্গে মজা করছে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমাকে বোকা বানানো হচ্ছে কিনা।’ সিনেমাটি আরো বড় পরিসরে মুক্তি দেয়ার কথা ভাবছিলেন তারা। কিন্তু এর মধ্যেই আসে দুঃসংবাদটি। ফ্রেজার তখনই ফোন করেন গ্রেসকে। দুজনের কেউই জানতেন না ব্যাপারটা কেন ঘটল। আগস্টে সিনেমাটি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণার পর গ্রেস এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এতদিন পর ভ্যারাইটিকে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু সে আশার বুদবুদ হুট করেই ফেটে গেল।’
সম্প্রতি ডিসির নতুন প্রধান পিটার স্যাফ্রান বলেছেন, সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার উপযুক্ত ছিল না। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে গ্রেস জানান, ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রোসের সঙ্গে আলাদা করে তার বৈঠক হয়েছিল। সেখানে তারা সিনেমার বাজেট ও অন্যান্য খরচের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। গ্রেসের মনে হয়নি, সিনেমার গুণগত মানের কারণে এটিকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি এর একটি ফাইনাল কাটও দেখেছিলেন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছিলাম। কিন্তু তখনো সিনেমাটি পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্পাদনার মধ্য পর্যায়ে ছিল। তবে যেটুকু হয়েছিল তা দেখে আমার মনে হয়েছে, এটা একটা ভালো সিনেমা হতে পারত।’
ডিসি ও ওয়ার্নার ব্রোসের নতুন ব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকেও গ্রেসের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এর একটাই অর্থ হতে পারে—ব্যাটগার্ল নিয়ে জেমস গান ও পিটার স্যাফ্রানের কোনো আগ্রহই নেই। কিন্তু সিনেমাটি ভালো হতে পারত বলে মনে করেন ব্রেন্ডন ফ্রেজারও। তিনি বলেন, ‘আমার একটা বড় আফসোস, এমন একটা সিনেমা তৈরি হলো না, যেটা দেখে এ প্রজন্মের কিশোরী বা তরুণীরা বলবে, আমি ব্যাটগার্লের মতো হতে চাই।’ ফ্রেজারের মতে, লেসলি গ্রেস খুবই ভালো একজন অভিনেত্রী, কিন্তু তার অভিনয় দেখার সুযোগ না হওয়ায় দর্শকেরই ক্ষতি হয়েছে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










