ওয়েব সিরিজ ‘শাটিকাপ’ ২০২২ সালে দর্শকের মন জয় করেছিল। এ সিরিজে স্বল্প সময়ের জন্য দেখা মিলেছিল ফাজু চরিত্রটির। আর এ বছর শাটিকাপ নির্মাতা নিয়ে আসেন ওয়েব সিরিজ ‘সিনপাট’। এ সিরিজের অন্যতম চরিত্র ফাজু। চরিত্রটিতে অভিনয় করে দর্শক মহলে প্রশংসা পেয়েছেন মোহাম্মদ রিফাত বিন মানিক। অভিনয় ও ক্যারিয়ারের জার্নি নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিহা জামান শশী
সিনপাটে ফাজু হয়ে ওঠার গল্পের শুরু কীভাবে?
এটা আমার জন্য অসাধারণ একটা জার্নি। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার ওভাবে কেউ পরিচিত ছিল না প্রথম দিকে। অন্যদিকে আমার ফেস ভ্যালু ছিল না, অ্যাক্টিং এক্সপেরিয়েন্স নেই। পাশাপাশি ফিল্মের যে বেসিক ধারণা সেটাও আমার ছিল না। খালি এটাই মাথায় ছিল, যা-ই করি না কেন আমাকে অভিনয় করতে হবে। কারণ আমি মনে করি, এই একটা জিনিস আমি পারি।
তবে কীভাবে যুক্ত হলেন অভিনয়ের জগতে?
অনেক দিন ধরে বসে থেকে আমার দেখা হলো আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদের সঙ্গে। রিয়াদ শাটিকাপে জয়নাল চরিত্র করেছিলেন। সে আমার ছোটবেলার বন্ধু। ওকে জানাই আমার অভিনয় করার আগ্রহের কথা। ওর কাছ থেকেই আমি জানতে পারি, ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রডাকশনের স্ক্রিপ্টের কাজ চলছে আর রিয়াদ জানায় যে স্ক্রিন টেস্টে আমাকে ডাকবে। এর পর থেকেই আমি ওদের স্ক্রিপ্ট শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতাম আর বারবার জিজ্ঞাসা করতাম ওমর মাসুম ভাইকে। স্ক্রিন টেস্টের শেষ দিনের দিন প্রডাকশনের সবাই আলোচনা করছিল ফাজু চরিত্রটা কাকে দিয়ে করানো যায়। এরপর মাসুম ভাই আমার কথা বলেন। রিয়াদ আমাকে ফোন দেয়, আমি অফিসে যাই স্ক্রিন টেস্ট দিতে। ওই দিনই আমার প্রথমবার দেখা হয় শাটিকাপ নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম ভাইয়ের সঙ্গে। এখান থেকেই শুরু হয়েছিল। প্রথম দিনের শুটিং শেষে ফুটপ্রিন্টের অফিসে এসে শুনলাম, তাদের একজন প্রডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট লাগবে। এরপর আমি নিজের আগ্রহ থেকেই ফুটপ্রিন্টের প্রডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করলাম। টানা দেড় থেকে দুই বছর শাটিকাপ আমার সামনে তৈরি হলো। এটাই আমাকে ফাজু হয়ে উঠতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ আমি খুব কাছ থেকে চরিত্রগুলো দেখতে পারতাম।
সিনপাটে তো অনেক দৌড়ঝাঁপ ছিল...
হ্যাঁ, আমাদের যে দৌড়টা পর্দায় দেখা গেছে সেটা মূলত তিনদিন শুটিং করা হয়েছে। আমাদের খালি পায়ে দৌড়াতে হয়েছে, তাই রাস্তার কুচি পাথর, খোয়ায় আমার পায়ের তলার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শেষ দিন আমি হাঁটার অবস্থায়ও ছিলাম না। ডিরেক্টর আমাকে জানালেন যে শেষ একটা সিন আছে, যেখানে দেখা যাবে গায়ে পানি দেয়া হবে আর আমি রেগে যাব। ভাই আমাকে বলেছিল, আমি না পারলে ওইদিন সিনটা করা হবে না, তবে আমিই ভাইকে বলি, করব। সবাই আমাকে নিয়ে এসে দাঁড় করাল, অ্যাকশন বলার পর দৌড় দিলাম। আর কাট বলার সঙ্গে সঙ্গে আমি পড়ে গিয়েছিলাম। আমি ওখানেই পড়ে ছিলাম, দুই-তিন জন এসে আমাকে নিয়ে গেছে। ফাজু তো নিজের কেয়ার করবে না এমন একটা চরিত্র। আর চরিত্রের প্রয়োজনেই নিজেকে গড়তে হয়েছে।
ফাজুর চুল কি আসল ছিল?
ক্যারেক্টারের জন্য আমি চুলে তিন থেকে চার মাস পানি দিইনি। এতে করে কটা ভাবের সঙ্গে চুলে জট পড়েছে স্বাভাবিকভাবেই। আমার চুল আগে থেকেই বড়, তবে ফাজু চরিত্রটার জন্য আমাকে কাটতে হয়েছে। বেশি কষ্ট হয়েছে সিনপাটের পর চুল ঠিক করতে। অনেকেই বলেছিল চুল কাটতে হবে, তবে আমি সেটা করিনি।
দর্শকের কাছে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
বাইরে বের হলে দর্শকের সঙ্গে কথা হয়। অনেকেই বলে যে খুব ভালো অভিনয় করেছি। তবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। আসলে নিজের কাছে সেটিসফেকশনটা আমি পাইনি। তাই আমি সবাইকে বলি যে আমি খুব বাজে অভিনয় করেছি।
নতুন কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, নতুন কাজের বেশকিছু প্রস্তাব পাচ্ছি। তবে আমি অপেক্ষা করছি ভিন্নধর্মী কিছু করার। মূলত একই জনরার কাজ আসছে যেটা আমি করতে চাচ্ছি না। আমি ভিন্ন জনরার ভিন্নধর্মী কাজ করতে যাচ্ছি। আমি খুব অ্যাডভেঞ্চারাস একজন মানুষ। আমাকে যে জনরা দেয়া হোক, আমি সেটা করতে আগ্রহী। তবে কোয়ালিটির বিষয়টা থাকতে হবে।
ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার ভাবনা?
আমি অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। অভিনয় করতে চাই, আবার ক্যামেরার পেছনেও কাজ করার ইচ্ছা আমার। মূল কথা হচ্ছে আমি এখন অভিনয়ের সঙ্গেই টিকে থাকতে চাইছি। আমাদের কাজ, যেখানেই যাব সিনেমাকে খুঁজে বের করব। আমাদের সামনে অনেক ধরনের ঘটনা দেখি, যার অনেক কিছুই পর্দায় উঠে আসে না। আসলে যে গল্প মানুষ পর্দায় দেখেনি সেটাই সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করব, সেটা অভিনয় হোক বা যেভাবেই হোক না কেন।










