বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদারদের জুলুম আর নৃশংস হত্যার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে সারা দেশ। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার মিরপুর ও ফরিদপুর জল্লাদখানায় বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় হানাদার বাহিনী। মিরপুর ও ফরিদপুর জল্লাদখানায় এ হত্যাযজ্ঞের কাহিনী নিয়ে পরিবেশ থিয়েটারের অন্যতম নাটক যুদ্ধপুরাণ। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আনিসুর রহমান বরুণ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজনে মিরপুর জল্লাদখানার বধ্যভূমিতে গত সোমবার শুরু হয়েছে। প্রতিদিন তিনটি শো হয়েছে যথাক্রমে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা ও রাত সাড়ে ৮টায়। আগামীকাল শেষ দিনের মতো নাটকটির মঞ্চায়ন হবে।

যুদ্ধপুরাণ নাটকের নির্দেশক আনিসুর রহমান বরুণ বলেন, ‘এ যুদ্ধপুরাণ থিয়েটার ভাবনা ও প্রয়োগের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছি শুধু সম্ভোগের উপাদানেই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপভোগের উপাদানের মধ্যেও পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ছান্দিক প্রবাহের ক্রিয়াশীল উপস্থিতি সম্ভব। অর্থাৎ থিয়েটার শুধু উপভোগের বিষয় নয় বরং কখনো কখনো থিয়েটার সম্ভোগেরও বিষয়। যুদ্ধপুরাণ উপস্থাপন কৌশলের মাধ্যমে থিয়েটারে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ সম্ভব হয়েছে। কাজটিতে সহযোগিতার জন্য আমার সব সহকর্মী, শিল্পকলা একাডেমি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’ ১৯৭১ সালে মিরপুর এলাকার গণ্যমান্য ১৯ ব্যক্তির জীবনকাহিনী নিয়ে নির্মাণ হয়েছে নাটকটি। এর মধ্যে একটি চরিত্র শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানের। পরিবেশ থিয়েটারের সাড়া জাগানো এ নাটক ২০১৪ সাল থেকে মঞ্চস্থ হয়ে আসছে।