হিন্দি চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র। তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অ্যাকশন, রোমান্স ও নিখাদ মানবিকতার অভিনয়শৈলী। ‘হি-ম্যান’ উপাধিতে ভূষিত এ তারকা পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন অগণিত হিট চলচ্চিত্র। তার অভিনীত নানামুখী চরিত্র, সহজাত অভিনয় দক্ষতা ও চার্ম আজও দর্শককে মুগ্ধ করে। এখানে উল্লেখ করা হলো ধর্মেন্দ্রর পাঁচটি সর্বাধিক বিখ্যাত চলচ্চিত্র, যেগুলো তাকে অমর করে রেখেছে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে।

শোলে (১৯৭৫)

36

ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ারের সেরা সিনেমার কথা উঠলে শোলের নাম প্রথমেই আসে। রমেশ সিপ্পি পরিচালিত এ চলচ্চিত্র ভারতীয় সিনেমার এক মাইলফলক। ছবিতে ধর্মেন্দ্র ‘বীরু’ চরিত্রে অভিনয় করেন। আনন্দপ্রিয়, হাস্যরসাত্মক ও একই সঙ্গে সাহসী এক দস্যুর চরিত্র এটি। বীরু-জয়ের (অমিতাভ বচ্চন) বন্ধুত্ব এবং ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনীর রসায়ন আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। অ্যাকশন, ড্রামা ও কমেডির চমৎকার মিশেলে শোলে আজও কালজয়ী।

চুপকে চুপকে (১৯৭৫)

34

হৃদয়গ্রাহী হাস্যরস ও সূক্ষ্ম অভিনয়ের নিখুঁত উদাহরণ চুপকে চুপকে। হৃষিকেশ মুখার্জির এ কমেডি সিনেমায় ধর্মেন্দ্র প্রফেসর ‘পরিমল ত্রিপাঠী’ চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেন। ভাষা নিয়ে নির্মিত বিভ্রান্তি, পরিচয়ের গোপন খেলা ও মজাদার পরিস্থিতি ধর্মেন্দ্রকে এক নতুন রূপে উপস্থাপন করে সিনেমাটিতে। অ্যাকশন হিরো ধর্মেন্দ্রর কমেডি টাইমিং কতটা শক্তিশালী হতে পারে, এ সিনেমাই তার প্রমাণ।

আনপড় (১৯৬২)

35

ধর্মেন্দ্রর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অন্যতম সফল ছবি ‘আনপড়’। সত্যেন বোস পরিচালিত এ সিনেমায় তিনি মালা সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেন। সিনেমাটিতে তার চরিত্রে ছিল সংযম, সংবেদনশীলতা আর গভীরতা। এখানে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে ধর্মেন্দ্র নতুন এক পরিচয় পান, যা পরে তার ক্যারিয়ারের বড় ভিত্তি তৈরি করে। ছবির গান ও সুরসংগীত সমান জনপ্রিয়তা পায়, যা ধর্মেন্দ্রর জনপ্রিয়তা আরো বাড়িয়ে তোলে।

সত্যকাম (১৯৬৯)

এ চলচ্চিত্র ধর্মেন্দ্রর অভিনয় দক্ষতার শিখর বলা যেতে পারে। হৃষিকেশ মুখার্জি পরিচালিত সত্যকাম একটি গভীর মানবিক গল্প, যেখানে ধর্মেন্দ্র ‘সত্যপ্রিয় আচার্য’ চরিত্রে অভিনয় করেন। সত্যের অনুসন্ধান, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে নির্মিত এ ছবিতে ধর্মেন্দ্রর পারফরম্যান্স ছিল তীক্ষ্ণ, সংযত ও হৃদয়স্পর্শী। অনেক সমালোচকই মনে করেন, এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়।

ইয়মলা পাগলা দিওয়ানা (২০১১)

37

ধর্মেন্দ্র,–সানি দেওল,–ববি দেওল এ তিন প্রজন্মের পিতা-পুত্রের জুটি দর্শকের সামনে তুলে ধরে এ মজাদার বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র। কমেডি ও অ্যাকশনের মিশেলে গড়া এ সিনেমায় ধর্মেন্দ্রর উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত। সিনেমাটির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা। এ সিনেমায় তার তারুণ্য, রসবোধ ও স্ক্রিন প্রেজেন্স আগের মতোই অটুট।

ধর্মেন্দ্র এমন এক অভিনেতা, যার ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্য তাকে কিংবদন্তির আসনে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছে। শোলের অ্যাকশন, চুপকে চুপকের হাস্যরস, সত্যকামের মানবিক গভীরতা সব মিলিয়ে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক চিরসবুজ আইকন।