বাংলাদেশের প্রথম সারির নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর। তাদের চতুর্থ প্রযোজনা ‘রক্তকরবী’। আজ এ নাটকের ৫০তম মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে নাটকটির মঞ্চায়ন হবে। এর আগে এটি নিয়মিত মঞ্চায়ন করেছে প্রাঙ্গণেমোর। সে ধারাবাহিকতায় এবারো নাটকটি নিয়ে আসছে তারা।
রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সাংকেতিক নাটক। বাংলা ১৩৩০ সালে শিলংয়ের শৈলবাসে এটি রচনা করেন তিনি। ২০২৩-এ নাটকটি লেখার ১০০ বছর পূর্ণ হলো। এ উপলক্ষে প্রাঙ্গণেমোর নাট্যদলের বিশেষ নিবেদন এবারের ৫০তম প্রদর্শনী।
গল্পের পট যক্ষপুরীতে। পণ্ডিতরা বলেন, পৌরাণিক যক্ষপুরীতে ধনদেবতা কুবেরের স্বর্ণসিংহাসন। কিন্তু নাটকটি একেবারেই পৌরাণিক কালের নয়, একে রূপকও বলা যায় না। যে জায়গার কথা হচ্ছে সেখানে মাটির নিচে যক্ষের ধন রয়েছে। তাই সন্ধান পেয়ে পাতালে সুড়ঙ্গ-খোদাই চলছে, এ জন্যই লোকে আদর করে একে যক্ষপুরী নাম দিয়েছে।
যক্ষপুরীর রাজার প্রকৃত নাম সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতের ঐক্য কেউ প্রত্যাশা করে না। এটুকু জানি, এর একটি ডাক নাম আছে—মকররাজ। যথাসময়ে লোকমুখে এ নামকরণের কারণ বোঝা যাবে। রাজমহলের বাইরের দিকের দেয়ালে একটি জালের জানালা আছে। সে জালের আড়াল থেকে মকররাজ তার ইচ্ছানুযায়ী মানুষের সঙ্গে দেখা করে থাকে। কেন তার এমন অদ্ভুত ব্যবহার, তা নিয়ে নাটকের পাত্ররা যেটুকু আলাপ-আলোচনা করেছে তার বেশি আমরা কিছু জানি না। এ রাজ্যে যারা সর্দার, তারা যোগ্য লোক ও যাকে বলে বহুদর্শী। তারা রাজার অন্তরঙ্গ পর্ষদ। তাদের সতর্ক ব্যবস্থাগুণে খোদাইকররা কাজে ফাঁকি দিতে পারে না এবং যক্ষপুরীর নিরন্তর উন্নতি হতে থাকে। এখানকার মোড়লরা একসময় খোদাইকর ছিল, নিজ গুণে তাদের পদবৃদ্ধি ও উপাধি লাভ ঘটেছে। কর্মনিষ্ঠতায় তারা অনেক বিষয়ে সর্দারদের ছাড়িয়ে যায়। যক্ষপুরীর বিধিবিধানকে যদি কবির ভাষায় পূর্ণচন্দ্র বলা যায়, তবে তার কলঙ্ক-বিভাগের ভারটাই প্রধানত মোড়লদের পড়ে। জেলেদের জালে দৈবাৎ অখাদ্য জাতের জলচর জীব আটকা পড়ে। তাদের দিয়ে পেট ভরা বা ট্যাক ভরার কাজ তো হয়ই না, মাঝের থেকে তারা জাল ছিঁড়ে দিয়ে যায়। এ নাট্যের ঘটনাজালের মধ্যে নন্দিনী নামে একটি কন্যা তেমনিভাবে এসে পড়ে। মকররাজ যে বেড়ার আড়ালে থাকে, সেটিকে এই মেয়ে টিকতে দেয় না। এ নিয়েই এগিয়ে যায় রক্তকরবী।
দর্শক-নন্দিত এ নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী, নাট্যকার ও নির্দেশক নূনা আফরোজ। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন নূনা আফরোজ, অনন্ত হিরা, রমিজ রাজু, আউয়াল রেজা, সাগর রায়, নিজাম লিটন, সবুক্তগীন শুভ, জুয়েল রানা, সুজয়, সুমন, ঝুমুর, বাঁধন, প্রকৃতি, আশা, তমা, আরিফ, পার্থ ও রুমা।










