‘হ্যাজ নট আ জ্যু আইজ?’—মনোলোগের মাধ্যমে দর্শকের সামনে ধরা দেয় ভিন্ন এক শাইলক। চোখে-মুখে তার প্রতিশোধের বারুদ। দীর্ঘদিন ধরে যে ঘৃণা আর অপমান সহ্য করে এসেছে, এবার তার বদলা নেবে। সে চিত্রকল্প নিখুঁতভাবে এঁকেছেন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার তার অনবদ্য সৃষ্টি ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’-এ। সেটা চূড়ান্ত রূপ পায় ‘দ্য মার্চেন্ট অব ভেনিস’ সিনেমায়। সেখানে আল পাচিনোর মুখে দীর্ঘ মনোলোগের ভেতর দিয়ে দৃশ্যমান হয় শেক্সপিয়ারের সেই শাইলক। অভিব্যক্তির দিক থেকেই হোক আর উচ্চারণে। মনোলোগের ইতিহাসে অনিবার্যভাবেই এটা প্রথম সারিতে। অনবদ্য সংযোজন আল পাচিনোর ক্যারিয়ারের জন্যও।
হলিউডের অনন্য নাম আল পাচিনো। বিশেষ করে ‘ডগ ডে আফটারনুন’, ‘দ্য গডফাদার ট্রিলজি’, ‘সারপিকো’, ‘গ্লেনগারি গ্লেন রস’, ‘হিট’ এবং ‘দ্য ইনসাইডার’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে তার অভিনয় কালজয়ী। গডফাদার পরিণত হয়েছে কাল্ট ক্ল্যাসিকে। সিনেমাগুলোর অভাবনীয় সফলতার পাশাপাশি তাকে পরিণত করে বৈশ্বিক তারকায়। পাচিনো নয়টি অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে ‘সেন্ট অব আ ওম্যান’-এর জন্য পাচিনো ঝুলিতে তোলেন অস্কার।
জন্ম ম্যানহাটনে হলেও আল পাচিনো বেড়ে উঠেছেন ব্রঙ্কসে। কিশোর বয়সেই নাম লেখান অভিনয়ের খাতায়। যুক্ত হন অ্যাক্টরস স্টুডিওতে। সেখানে দীক্ষা নেন মেথড অ্যাক্টিংয়ের পুরোধা লি স্ট্রাসবার্গের অধীনে। ১৯৬৯ সালে ‘মি, নাটালি’ চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশের আগে আল পাচিনো বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় ও প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাচিনো বেড়ে উঠেছেন মায়ের সঙ্গে। তিনি পাচিনোকে ভালোবাসলেও মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। তাই বিচিত্র ছিল পাচিনোর বেড়ে ওঠা। এর মধ্যেই আরো থাকছে ষাট ও সত্তরের দশকের নিউইয়র্ক ও সিনেমার সঙ্গে পাচিনোর যাত্রা। বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা, সিনে দুনিয়ায় প্রবেশ ও এগিয়ে চলাকে তিনি তুলে ধরেছেন স্মৃতিকথায়। গত বছর প্রকাশিত ‘সনি বয়’ নামের স্মৃতিকথাটি প্রকাশ করে পেঙ্গুইন র্যানডম হাউজ। স্মৃতিকথা সম্পর্কে আল পাচিনোর দাবি, ‘আমি আমার জীবনে যা দেখেছি ও যার মধ্যে বেড়ে উঠেছি, সনি বয় বইয়ে তাই লিখেছি। পুরো যাত্রাটা আমার ব্যক্তিগত যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অভিনয় আমার জীবনে কী এনেছে বা কী দিয়েছে তা নিয়েও কথা বলা হয়েছে এ বইয়ে। তবে আমার জীবন ও যাত্রা নিয়ে বলতে পারি—ব্যক্তি হিসেবে আমি সৌভাগ্যবান।’
আল পাচিনোর জীবন বর্ণাঢ্য। তাতে ভাঙাগড়া ছিল; ছিল নাটকীয়তা। অভিনয়ের স্বার্থে নিজেকে দফায় দফায় বদলেছেন তিনি। প্রতিটি চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারার যে দুর্দান্ত ক্ষমতা, তা বার বার প্রমাণ হয়েছে প্রতিটি সিনেমায়। তালিকায় যুক্ত হবে আরো নাম। তার অসাধারণ সব চরিত্র বছরের পর বছর ধরে বিস্মিত করে যাবে দর্শককে। মার্চেন্ট অব ভেনিসের শাইলকের মতো।
সূত্র ও ছবি: দ্য গার্ডিয়ান










