রুপালি পর্দায় এল মেরিলিন মনরোর জীবনের কঠিন বাস্তবতা। হলিউডের এ অভিনেত্রীর জীবন ঘিরে নেটফ্লিক্স ‘ব্লন্ড’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে কিউবার অভিনেত্রী আনা দি আরমাস অভিনীত সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।

ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি প্রশংসাও কুড়িয়েছে বেশ। সিনেমায় ২০ শতাব্দীর এ আইকনের যৌন আবেদনময় অবয়বের পেছনে ছোটবেলার যে ট্রমা ও যৌন সহিংসতা ছিল সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ফেস্টিভ্যালের দর্শকরা ১৪ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে হাততালি দেন ব্লন্ডের জন্য।

সিনেমাটির প্রশংসা এসেছে মনরো এস্টেট থেকেও। সেখান থেকে বলা হয়েছে, আরমাস খুব ভালোমতোই মনরোর গ্ল্যামার, মানবতা ও দুর্বলতাকে ধারণ করেছেন। এ সিনেমার ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু ডমিনিক অবশ্য জানিয়েছেন, কাজটি একটি ‘মাস্টারপিস’। সিনেমায় অভিনেত্রীর কণ্ঠ নিয়ে থাকা সন্দেহ দূর করে তিনি বলেন, ‘আমি সতর্ক ছিলাম যত দিন না তার কাজ দেখেছি। তারপর তার কাজ দেখে আমি কী বিষয়ে সতর্ক হব ভেবেছিলাম, সেটাই ভুলে গিয়েছি।’

ডমিনিককে সিনেমার ব্যাপ্তি ৩ ঘণ্টা থেকে কমানোর কথাও বলা হয়েছিল। তবে সে প্রস্তাবে মোটেও রাজি হননি তিনি। বড় পর্দার মনরোর আরেক সমর্থকের নাম অভিনেতা ব্র্যাড পিট। ২০০৭ সালে ডমিনিকের ‘দি অ্যাসেসিনেশন অব জেসি জেমস বাই দ্য কাওয়ার্ড রবার্ট ফোর্ড’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ভেনিসে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। ব্লন্ড সিনেমার প্রযোজনায়ও তিনি যুক্ত ছিলেন। এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইটকে ব্র্যাড পিট বলেন, এখানে তিনি অসাধারণ, এটা পূরণ করা খুব কঠিন।

সিনেমাটি মূলত আমেরিকান লেখিকা জয়েস ক্যারল ওয়েটসের লেখা উপন্যাস থেকে নেয়া। বইটি ২০০০ সালে প্রকাশ হয়। বইয়ের ভূমিকায় ক্যারল বলেছেন, মনরোর জীবনের কথকতা ও প্রচলিত নানা গল্পের মধ্য থেকে তিনি কেবল বাস্তব তথ্যগুলোই গ্রহণ করেছেন। বইয়ের শুরু থেকে মেরিলিনকে নোরমা জেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেমায় আসার পর মেরিলিন নামকরণ হয়। বইয়ের ঘটনাপ্রবাহে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নোরমা একটি রেডিওতে কাজ করেন। এরপর তিনি একজন সাবেক অ্যাথলিট এবং পরে একজন নাট্যকারকে বিয়ে করেন। মনরোর দুই স্বামী জো ডিম্যাগিও ও আর্থার মিলারকে এদের মধ্যে সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়।

এর আগে ডমিনিক নিজেই বলেছিলেন, ‘১৭-ঊর্ধ্ব দর্শকের জন্য যেমন হওয়া উচিত সিনেমাটি ঠিক তেমন। দর্শক যদি সিনেমাটি পছন্দ না করেন তাহলে সেটা তাদের সমস্যা। মি টু আন্দোলন না হলে এ সিনেমা করাও সম্ভব হতো না। গল্পটা একজন মেয়ে ভালোবাসা পায়নি বরং হলিউডের লালসার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, সেই সঙ্গে শৈশবের মানসিক আঘাতের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই তাকে তার মতো তৈরি করেছিল।’

 

সূত্র: ইয়ন