বলিউডে সম্প্রতি সময় খারাপ যাচ্ছে যশ রাজ ফিল্মসের। পরপর বেশ কয়েকটি সিনেমা ফ্লপ হলো তাদের। আলোচানায় থাকার পরও জয়েশভাই জোরদার, সম্রাট পৃথ্বীরাজ এবং সবশেষে শমসেরা ফ্লপ করেছে। এ অবস্থায় একটি সাক্ষাত্কারে প্রাসঙ্গিকভাবে এ নিয়ে কথা বলেন অনুরাগ কাশ্যপ। তিনি বলেছেন যে, একটা সময় ছিল যখন পুরো ইন্ডাস্ট্রি যশ রাজ ফিল্মস ও করণ জোহরের ধর্মা প্রডাকশনের দিকে তাকিয়ে থাকত। এখন সে বিষয়টি আর নেই। এ সময় যশ রাজ একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্যালাটা প্লাসে একটি সাক্ষাত্কারে অনুরাগ বলেছেন যে, পুরো বলিউডই এখন খারাপ সময় পার করছে।
অনুরাগ বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি এমন একটা জায়গা যেখানে মানুষ আসবে-যাবে। বর্তমানে যারা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত তারা সবাই দ্বিতীয় প্রজন্মের। এরা জীবনকে দেখেনি। ট্রায়াল রুম দেখেছে। তাই তাদের সিনেমায় যা আসে তা মূলত সিনেমায় দেখা বিষয়ের পুনরাবৃত্তি। যশ রাজ ফিল্মস এ ট্রায়াল রুম এফেক্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আপনি একটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান বানাতে গিয়ে সেটা থাগস অব হিন্দুস্তান হয়ে যায়। এখানে ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড বানাতে গিয়ে শমসেরা বানানো হয়। সিনেমায় যা দেখেছে সেখান থেকে সিনেমা বানাতে গেলে এমনই হয়। এ রকম করে সিনেমা তৈরি করতে গেলে নিজের সঙ্গেই প্রতারণা করা হয়।’
সোজা কথা বলার জন্য অনুরাগের সুনাম ও বদনাম দুই-ই আছে। তিনি বলেছেন যে, শমসেরার মতো সিনেমা দু-তিন বছর আগে তৈরি হলে সেটা ভালোই করত। কিন্তু দর্শক আজকাল সব ধরনের সিনেমার সঙ্গে পরিচিত। তাদের ঠকানো সহজ না। আবার বাস্তব জীবন ফুটে না ওঠার ব্যাপারে তিনি বলেন, জয়েশভাই জোরদারে গুজরাটকে ঠিক গুজরাট বলে মনেই হয়নি।
অনুরাগ আরো স্পষ্ট করে বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট জায়গায় যদি কেউ বসে থাকে, দুনিয়ার কিছু সে দেখেনি, কিন্তু সে যদি বলে সিনেমা কীভাবে বানাতে হবে, এর মানে হলো নিজের কবর খোঁড়া। প্রযোজকের কাজ মানুষকে শক্তিশালী করা, তাদের চালনা করা না। আদিত্য চোপড়া যদি একটি টিম নিয়ে কাজ করেন তাহলে তার উচিত এদের শক্তিটা ঠিকভাবে কাজে লাগানো। তাদের নিজেদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া উচিত যেটা সে (আদিত্য) দেয় না।’
কাশ্যপ আদিত্যর উদাহরণ দিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রির কথাই বলতে চেয়েছেন। বলিউডে বলিউডের মতো করে সিনেমা নির্মাণ করা উচিত। সেখানে সবাই মার্ভেল হতে গেলে সেটা শেষ অবধি কিছুই হয়ে ওঠে না। সিনেমা নির্মাতারা নিজেদের স্বকীয়তা হারাচ্ছেন বলে কাশ্যপ কিছুটা শঙ্কিত। তিনি এটুকুই বলতে চান যে, নতুনত্ব আনা উচিত স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে।
সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










