বাঙালি সাহিত্যের এক কালজয়ী রচনা ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবার জীবন্ত হয়ে উঠলো বড় পর্দায়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাসটি ৯০ বছর পর এবার সিনেমার আকারে দর্শকের সামনে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে আজ মুক্তি পাচ্ছে সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত চলচ্চিত্র, যেখানে দেখা যাবে আবীর চট্টোপাধ্যায়, জয়া আহসান, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ধৃতিমান ও অনন্যাকে প্রধান চরিত্রে।
২০০৮ সালে এই সিনেমার পরিকল্পনা শুরু হলেও নানা জটিলতায় তা প্রায় সাড়ে এক দশক আটকে ছিল। ২০২২ সালে শুটিং শেষ হলেও মুক্তি পেতে সময় লেগেছে আরও কয়েক বছর। পরিচালক উপন্যাসের সময়কে খানিক এগিয়ে এনে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সমাজকে সিনেমার প্রেক্ষাপটে নিয়েছেন।
ট্রেলারে উঠে এসেছে গ্রামের শান্ত জীবন ছেড়ে শহরের জীবনে আশা নিয়ে ওঠা শশীর চরিত্র, যার জীবনে প্রবেশ করে মুক্তচিন্তার কুসুম। জয়া আহসান বলেন, কুসুম এমন এক নারী যিনি নিজের ইচ্ছা ও বাসনা লুকান না, যা তাকে শশীর থেকে আলাদা ও শক্তিশালী করে তোলে। আবীরের মতে, শশী যুক্তিবাদী হলেও দ্বিধাগ্রস্ত; একটি জটিল চরিত্র যা তাকে অভিনয়ে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
পরমব্রত জানান, সিনেমার একটি পালাগানের দৃশ্য তাঁকে অভিনয়ে অংশ নিতে প্ররোচিত করেছে। পরিচালক স্পষ্ট করেছেন, উপন্যাসের বিতর্কিত সংলাপগুলো সিনেমায় আরও সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ শুধুমাত্র একটি সাহিত্যকীর্তির অনুবাদ নয়, বরং সময় ও মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্বকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকাশ করার প্রয়াস। বাংলা চলচ্চিত্রে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে আগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে দর্শক।










