ভারতীয় বিখ্যাত গীতিকার ইরশাদ কামিল। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় গণমাধ্যম স্ক্রলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পরিচালক ইমতিয়াজ আলীর চলচ্চিত্র ও তার লেখা গান কীভাবে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি বলিউডের বেশকিছু জনপ্রিয় গান আছে ইমতিয়াজ আলীর সিনেমায় যেগুলো কামিল লিখেছেন। সেসব গানই দর্শক মনে দাগ কেটেছে। বলা হয়, ইমতিয়াজের সিনেমায় কামিলের গানের কথা বড় ভূমিকা রাখে। এবার কামিল ও ইমতিয়াজ একসঙ্গে ফিরছেন অমর সিং চামকিলার বায়োপিক সিনেমার মধ্য দিয়ে। কথা বলেছেন এ বিষয়েও।
অমর সিংয়ের গানের কণ্ঠ ও সুরের চেয়েও তার গানের কথাগুলো বেশি শক্তিশালী বলেই মনে করেন ইরশাদ কামিল। তার গানের কথায় মধ্যবিত্ত জীবনের নিপীড়নের গল্প ছিল। সাক্ষাৎকারে কামিলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অমর সিং চামকিলাকে তার কোন বিষয়টি সমাজে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে?
কামিল বলেন, ‘সমাজে এমন কিছু বিষয় আছে, যে বিষয়ে আমরা বিচারের ভয়ে কথা বলতে পারি না। তবে তিনি সে বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলতেন। তিনি এক দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলেন এবং তার গানের কথাগুলো ছিল বাস্তব, সেভাবেই তিনি গেয়েছেন। তিনি সব গোত্র ও আধ্যাত্মবাদ নিয়েও গান গাইতেন। তার অন্যতম গান “নাম জপ লে” একটি আধ্যাত্মিক গান। “কি জো গরিবা দা” গানের মধ্য দিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন গরিবদের আদৌ কি ক্ষমতা আছে? অর্থাৎ সমাজের নিম্ন স্তরের মানুষ নিয়ে তার ভাবনা ছিল।’
এছাড়া কামিল যুক্ত করেছেন, চামকিলার পরিচিতি পেতে হলে ‘লাক মেরা কাছ ওয়ারগা’, ‘হিক উত্তে সোজা ভে’ ও ‘পানি দেয়া বুলবুলেয়াও’ গানগুলো শোনা উচিত।
এ চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক সম্পর্কে কামিলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। সিনেমায় ছয়টি গানের মাধ্যমে শিল্পী চামকিলার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। গানের পাশাপাশি আশির দশকের পাঞ্জাবের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চামকিলা বেড়ে উঠেছিল সে সবকিছুই থাকছে সিনেমায়।
এছাড়া ইমতিয়াজ আলীর প্রতিটি ছবিতেই কামিলের গান রয়েছে। সে অর্থে কামিলই ইমতিয়াজের ভেতরের কণ্ঠস্বর কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কামিল বলেন, ‘একাধিক ব্যক্তি ও বিভাগের অবদানের মধ্য দিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়। আমরা সবাই সিনেমায় আমাদের যার যার কাজ করি। দর্শক সিদ্ধান্ত নেয়, কে কতটা অবদান রাখছে। কারণ দর্শক আমাদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান।’ এছাড়া কামিল আরো যোগ করেছেন, ‘নিজেদের কাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্মাতাদের পক্ষে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। ’
ইমতিয়াজের সিনেমার যে গানগুলো ইরশাদ কামিলের পছন্দ সেগুলো নিয়ে বলেন, ‘আমি আমার তিনটি গান নিয়ে আলোচনা করতে চাই, দুটি হলো “রকস্টার” সিনেমার “জো ভি ম্যায়” ও “তামাশা” সিনেমা থেকে “সফরনামা”। এ গানগুলো আমাকে অনেক টানে। প্রতিটি মানুষই সম্ভাবনার গুচ্ছ। আমরা কী হয়ে উঠব, তা নির্ভর করে কোন সম্ভাবনার ওপর আমরা ফোকাস করছি এবং কীভাবে আমরা তা প্রকাশ করি। এটিই আমাদের জীবনকে পরিবর্তন করে।’
‘জাব হ্যারি মেট সেজাল’ সিনেমার ‘সাফার’ গানও কামিলের পছন্দের তালিকায় আছে। তিনি জানান, এ গানগুলোর প্রতিটি লাইন তিনি ভালোবাসেন।
গান ও গীতি নিয়ে ইরশাদ কামিল বলেন, ‘আপনি দুটি উপায়ে একটি গান লিখতে পারেন। হয় আপনি শব্দকে গুরুত্ব দেবেন বা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেবেন অথবা একটি দৃঢ় চিন্তা করবেন। আমি বিশ্বাস করি, শব্দের গুরুত্ব ফাঁকিবাজদের জন্য। আপনার চিন্তাশক্তি শক্তিশালী হলে আপনাকে শব্দভাণ্ডারের সামনে ভিক্ষা করতে হবে না। শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখতে ভারী শব্দের প্রয়োজন নেই।’
ইরশাদ কামিলের গানের কথা জনপ্রিয়, কিন্তু তবুও কোনো গান হয়তো কম মনোযোগ পেয়েছে। এ নিয়ে গীতিকার বলেন, ‘আমি “রাঞ্ঝানা” সিনেমার ‘অ্যায়সে না দেখো’ গানটি অনেক পছন্দ করি। “লাভ আজ কাল’ দ্বিতীয় সিকুয়াল, “অউর তানহা”ও। সেই সঙ্গে “ফাটা পোস্টার নিখলা হিরো” সিনেমা থেকে আমার ভালো লেগেছে “জনম জনম” গানটিও।’ তবে এসব নিয়ে বেশি ভাবনার জায়গা নেই। পছন্দ আর বাস্তব ভিন্ন। ইরশাদ কামিল বলেন, ‘আপনারা নিজের হৃদয়কে অনুসরণ করবেন না, এটি আপনাকে মেরে ফেলবে।’
স্ক্রল ডটইন অবলম্বনে ফারিহা আজমিন










