১৫ বছরের বৈবাহিক জীবনের আনুষ্ঠানিক ইতি টানলেন বলিউড অভিনেতা আমির খান ও কিরণ রাও। ২০০৫ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। আশুতোষ গোয়াড়িকরের লাগান ছবিতে সহকারী পরিচালকের কাজ করেছিলেন কিরণ রাও। আর আমির খান ছিলেন ছবির মুখ্য চরিত্রে। দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের অন্যতম আলোচিত দম্পতি আমির-কিরণ।
যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের বিচ্ছেদের খবরটি প্রকাশ করেছেন আমির ও কিরণ—‘এ সুন্দর ১৫ বছরে আমরা ভাগ করে নিয়েছি চিরকালীন অনেক অভিজ্ঞতা, আনন্দ, হাসি, পারস্পরিক সম্মান। আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়। এবার আমরা দুজনই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই—স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং যৌথ অভিভাবক হিসেবে। পরিকল্পিত বিচ্ছেদের বিষয়ে আমরা বেশ আগে থেকেই ভাবছিলাম। তাই এখন স্বস্তিদায়কভাবেই বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে যাচ্ছি। আমরা পৃথক থাকলেও যৌথ পরিবারের মতো জীবন ভাগ করে নেব।’
এ দম্পতি তাদের ছেলে আজাদের ব্যাপারে বেশ সংবেদনশীল। তারা জানিয়েছেন, নিজেরা আলাদা হয়ে গেলেও আজাদের দেখাশোনা তারা যৌথভাবেই করবেন। এছাড়া, চলচ্চিত্র, পানি ফাউন্ডেশন ও তাদের অন্যান্য যৌথ প্রকল্পেও তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন।
তাদের পাশে থাকার জন্য তারা পরিবার ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন, ‘পরিবার ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই আমাদের সম্পর্কের এ বিবর্তনে সমর্থন দেয়ায়। তাদের ছাড়া এমন পদক্ষেপ আমরা এত নিশ্চিন্তে নিতে পারতাম না। শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ, আমাদের প্রতি শুভকামনা ও আশীর্বাদ অব্যাহত রাখবেন।’
বিবাহ বিচ্ছেদকে আমির ও কিরণ সম্পর্কের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন না; বরং এটাকে তারা তাদের নতুন যাত্রাপথের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
অভিনেতা আমির খানের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল কিরণের সঙ্গে। এর আগে আমির ১৬ বছর সংসার করেছেন রিনা দত্তের সঙ্গে। রিনা ও আমির দম্পতির আছে দুই সন্তান—ইরা ও জুনায়েদ।
দুবার বিবাহ বিচ্ছেদের পর শুনতে ট্র্যাজিক লাগলেও স্মরণ করা যায় আমিরের একটি বক্তব্য। ২০১২ সালে দ্য হিন্দু পত্রিকায় এক কলামে আমির তরুণ প্রজন্মকে বিয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছিলেন।
আমির লিখেছিলেন, বিয়ের অনুষ্ঠান বা হানিমুনে অনেক খরচ না করে বরং নিজেদের মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করে রাখা উচিত। উদযাপনের চেয়ে বৈবাহিক জীবনে আবেগকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মত দিয়েছিলেন আমির। তিনি লিখেছিলেন, ‘জীবনে আরো সামনের দিকে তাকানো উচিত শুধু সে দিনটি (বিয়ের দিন) নিয়ে। বিয়েকে তার উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া উচিত—সব পরিপ্রেক্ষিত থেকেই—অর্থনৈতিক, আবেগ, মানসিক। বিয়ের পর সামনের বছরগুলোর পরিকল্পনায় সময়, আবেগ খরচ করা উচিত। তাই সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে আপনার জীবনসঙ্গী। এ সিদ্ধান্ত খুব ভেবেচিন্তে নেবেন, অনেকটা সময় নিয়ে। ভালো বোঝাবুঝি, যাচাই-বাছাই করা এবং গভীরে গিয়ে সিদ্ধান্তটি নেয়া উচিত। সঙ্গীর চরিত্র ও মেজাজ নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’
সূত্র: বলিউড হাঙ্গামা










