ভারতের জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। বলিউড তারকাদের অনেকেরই পোশাকের ডিজাইনার তিনি। মনীশ নিজেই ভারতের আলোচিত ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছেন। আর বলিউডের সঙ্গে তার সম্পর্ক প্রায় অবিচ্ছেদ্য। শুধু সিনেমার পোশাক নয়, তারকাদের ব্যক্তিগত নানা উৎসব-আয়োজনের পোশাকও সাধারণত মনীশের ডিজাইন করা।

১৯৯৬ সালে ‘রঙ্গিলা’ সিনেমার জন্য ফিল্মফেয়ারের সেরা পোশাক ডিজাইনারের পুরস্কার জিতে নেন গুণী এ ডিজাইনার। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সিনেমায় কাজলের পোশাক থেকে বলিউডের জনপ্রিয় তারকা আলিয়া ভাটের মেহেদির লেহেঙ্গার ডিজাইন করেছেন তিনি। মনীশ মালহোত্রার হাত ধরেই বলিউড ফ্যাশন যে অন্য মাত্রায় চলে গিয়েছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিছুদিন আগে মনীশ মালহোত্রা ফিল্মফেয়ারকে এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে বলিউডের ও ফ্যাশন দুনিয়ার নানা অজানা তথ্য। জানা গেল, মনীশের পছন্দ-অপছন্দের অনেক বিষয়ও।

বলিউড তারকাদের মধ্যে সেরা ফ্যাশন সেন্সের অধিকারী কে, এ প্রশ্নের জবাবে মনীশ মালহোত্রা বলেন, ‘প্রত্যেকে অনন্য স্টাইল ও ব্যক্তিত্বের অধিকারী। আমি নির্দিষ্ট কারো নাম বলতে চাচ্ছি না, কারণ তারা সবাই সেরা। তবে আলাদা করে বলতে গেলে আমার কাছে রেখা অসাধারণ স্টাইলিশ নারী, যিনি সবসময় সুন্দর।’

তারকাদের নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই, বিশেষ করে প্রিয় তারকা কোন পোশাক পরছেন, কীভাবে ক্যামেরার সামনে হাজির হচ্ছেন, এ নিয়ে ভক্তরা সদা ব্যস্ত। অন্যদিকে তারকাদের নজরকাড়া লুকের পেছনে অনেকটাই অবদান রয়েছে মনীশের। নিজেকে সবার থেকে আলাদা আর সুন্দর দেখাতে বলিউডের বেশির ভাগ তারকা সাজেন তাদের ডিজাইনার যেভাবে চান সেভাবে। তবে কি বর্তমানে তারকাদের নিজস্ব স্টাইল সেন্স লোপ পেয়েছে? এ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে মনীশ মালহোত্রা বলেন, ‘পোশাকের ডিজাইনার হিসেবে আমার যাত্রা। শুরু থেকেই আমি সৃজনশীলতা ব্যবহার করে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। প্রথমে ক্লায়েন্টের স্টাইল বা শৈলী বুঝতে হবে, তার পরই একজন ডিজাইনার তার নিজস্ব চিন্তার সংমিশ্রণ করে কাজ করবেন। যার জন্য কাজ করা হচ্ছে, তার ব্যক্তিত্ব আর ফ্যাশন যেন প্রকাশ পায়, সেই সঙ্গে তিনি যেন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন সেটাও দেখতে হয়। মূলত এভাবেই একজন তারকার অভিব্যক্তিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে অনেক ডিজাইনার খুব ভালো কাজ করছেন।’

বর্তমান সময়ের তারকারা কি নতুন নতুন ডিজাইন গ্রহণে বেশি আগ্রহী, এমন প্রশ্ন করা হয় মনীশ মালহোত্রাকে। জবাবে এ ডিজাইনার বলেন, ‘শুধু তারকা নয়, বর্তমানে সবাই নতুন কিছু করতে চেষ্টা করেন এবং নতুন জিনিস গ্রহণ করছেন। নিজস্ব সৃজনশীল ভাবনা দিয়ে তরুণরা সবার থেকে এগিয়ে। বর্তমানে আঙুলের ইশারায় গুগল কিংবা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করতেই চলে আসছে নানা নতুন বিষয়। প্রত্যেকের নিজস্ব ভালো লাগা রয়েছে। অনেকে নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সারা আলি খান কুর্তা-স্যুট পছন্দ করলেও নতুন নতুন লুক নিয়ে নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন। আলিয়া ভাট ও দীপিকা পাড়ুকোন শাড়ি পরতে ভালোবাসলেও অন্যান্য পোশাকে নিয়মিতই হাজির হচ্ছেন। বর্তমানে আমরা সবাই নিজের পছন্দকে প্রাধান্য দিচ্ছি, পাশাপাশি নতুন নতুন জিনিস গ্রহণ করছি।’

অতীত কিংবা বর্তমানের কোন তারকার জন্য পোশাক ডিজাইন করতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে মনীশ মেরিল স্ট্রিপের নাম নিয়েছেন।

ভালো-সুন্দর পোশাক মানুষের মন ভালো রাখে—এমন একটি ধারণা প্রচলিত আছে পৃথিবীতে। প্রশ্নটা করা হয়েছিল মনীশকেও। উত্তরে বললেন, ‘ব্যক্তির বাহ্যিক সৌন্দর্য নির্ভর করে তার স্টাইলের ওপর। আর ভেতরে থাকে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস। পোশাক যেমনই হোক, কেউ যদি তার অ্যাপিয়ারেন্স নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে তিনি ভালো বোধ করবেনই। সুন্দর পোশাক মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।’