রেখার মতো বলিউড সেনসেশনের সিনেমায় আসার গল্পটা অদ্ভুত। দর্শকপ্রিয় ও সমালোচকদের মতে, বলিউডের অন্যতম সেরা এ অভিনেত্রী কখনো অভিনয় করতে চাননি। এ কথা শুনলে বিস্মিত হতে হয়। এ সময়ে এসে বলিউড বা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত সবারই ইচ্ছা থাকে সিনেমায় আসার পর জনপ্রিয় হওয়ার। কিন্তু রেখা ছোটবেলা থেকেই তেমন কিছু চাইতেন না। অথচ তার বাবা দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত অভিনেতা জিমিনি গনেশ। জিমিনির জনপ্রিয়তা তখন আকাশচুম্বী। রেখার বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি অভিনেত্রী হন। বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে রেখা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ-ছয় বছর তিনি অভিনয়ে কোনো আগ্রহ পেতেন না। কাজটা রীতিমতো অপছন্দ করতেন।

রেখার অভিনয়ের ক্ষেত্রে জিমিনির তেমন কিছু বলার ছিল না। রেখার ভাষায়, ‘আমার বাবা তেমন জোর দিতেন না, তবে আমার মা চাইতেন আমি সিনেমায় অভিনয় করি। কিন্তু প্রায় ছয়-সাত বছর পর্যন্ত আমি এ কাজকে ভালোবাসতে পারিনি। আমাকে জোর করে শুটিংয়ে নিয়ে যাওয়া হতো। আমাকে ডাবল শিফটেও কাজ করতে হয়েছে। আমি আসলে কখনই অভিনেত্রী হতে চাইনি। যদি অভিনেতা অভিনেত্রীদের প্রশ্ন করা হয় তাদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে তারা বলবে তারা অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইতেন। আমি কখনই চাইনি। আমাকে মেরেধরে অভিনেত্রী বানানো হয়েছে।’

রেখা মূলত একজন শিশুশিল্পী হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। তখন তার বয়স তিন বছর। ১৩ বছর বয়সে তিনি হিন্দি সিনেমায় কাজ শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে ‘ঘর’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি নজর কাড়েন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে তাকে অভিনেত্রী তৈরি করার পেছনে তার মা পুষ্পাবল্লীর চেষ্টার সঙ্গে  জিমিনি গনেশের পারিবারিক জীবনের প্রভাবও হয়তো কিছুটা রয়েছে। জিমিনির একাধিক বিয়ে ও বড় পরিবারের মধ্যে পুষ্পা নিজের জায়গা তৈরি করতে পুষ্পার এ ছিল এক ভিন্ন ধরনের সংগ্রাম।

 

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস