এ ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো প্রিয়াম অর্চি অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র। লন্ডনের উৎসবে প্রদর্শিত হবে সিনেমা দুটি। এগুলো হলো ‘নির্বাণ’ ও ‘দি আনএক্সপেক্টেড’। মস্কো ও ইউরেশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা নির্বাণ। এটি লন্ডনের বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়েছে। সেন্ট্রাল লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ব্লক সিনেমা হলে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াম অর্চি।

অন্যদিকে দি আনএক্সপেক্টেড চলচ্চিত্রটি লন্ডনেই নির্মিত। সিনেমাটি গত বছর শিকাগো সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইউএস প্রিমিয়ার হয়েছিল। আগামী ৩ মে ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এর ইউকে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া প্রিয়াম অর্চি অভিনীত দেশলাই চলচ্চিত্রটিও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

লন্ডন-বেঙ্গলি ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে নির্বাণের স্ক্রিনিং প্রসঙ্গে প্রিয়াম অর্চি বলেন, ‘স্ক্রিনিংটা ভালোই হয়েছে। দর্শক সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। ফেস্টিভ্যালটি এখনো নতুন, তবে প্রদর্শনী শেষে দু-একটি অর্থবহ প্রশ্ন পেয়েছি, যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

অভিনয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কাজের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্বতন্ত্র করেছেন প্রিয়াম। টেলিভিশন, ওয়েব কনটেন্ট ও চলচ্চিত্র বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও তিনি কাজের সংখ্যার চেয়ে বেছে নেয়া কাজের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন। তার অভিনীত কনটেন্টগুলো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রিয়াম অর্চি জানান, তিনি প্রাসঙ্গিক থাকতে চান। প্রতিটি কাজ তার জন্য একটি দীর্ঘ যাত্রার অংশ। প্রতিটি গল্পে তিনি সময় নিয়ে চরিত্র ও গল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেন।

স্বাধীন ও বিকল্পধারার সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন প্রিয়াম। তিনি মনে করেন, কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীন সিনেমা বিদেশে নিয়ে যাওয়া বা তা নিয়ে কাজ করা কঠিন। কেননা এ বাজার তৈরি করা হয় পরিকল্পিতভাবে। বাংলাদেশ সে কাঠামোকে এখনো শক্ত করতে পারেনি। প্রিয়াম মনে করেন, এ ঘরানার দর্শকের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্লাটফর্ম তৈরি করা জরুরি। দর্শক ও নির্মাতাদের মধ্যে সেখানে সংযোগ তৈরি হবে। অন্যথায় এ ধারার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন।

স্বাধীন ও বিকল্প ধারার সিনেমা নিয়ে ভাবিত হলেও প্রিয়াম সব ধরনের সিনেমা দেখার অভ্যাস করছেন। চলচ্চিত্র দেখার পর তা নিয়ে ভাবা, বিশ্লেষণ করা প্রক্রিয়াটিকেও তিনি নিজের চর্চার অংশ করে তুলছেন। প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। তার জন্য শেখার নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি এক্সপেরিমেন্টাল স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন। গত বছর ঢাকায় চলচ্চিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে পোস্ট-প্রডাকশনের পর্যায়ে রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, ইংল্যান্ডের শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা যেকোনো মানুষকেই গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে, সেই সঙ্গে তুলনামূলক সমান সুযোগের একটি পরিবেশ শিল্পচর্চা ও মুক্ত চিন্তার জন্য অনুকূল।