প্রমোদতরীতে মাদককাণ্ডে শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন বোম্বে হাইকোর্ট। গত ২৮ অক্টোবর জামিন পান আরিয়ান। ২০ নভেম্বর সেই জামিন আদেশেরই বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন বোম্বে হাইকোর্ট।

এদিকে আরিয়ান খান গ্রেফতারের পরই শাহরুখের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেক বলিউড তারকা, পরিচালক ও প্রযোজক। শুরু থেকেই আরিয়ান খান মামলায় সোচ্চার ছিলেন পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত। শনিবার হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্জয় গুপ্ত বলেন, কেবল শাহরুখ খানের ছেলে হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে আরিয়ানকে। কোনো রকম মাদক না থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন জেলবন্দি থাকতে হয়েছে ২৩ বছর বয়সী আরিয়ানকে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত প্রতিবেদন টুইট করে এ পরিচালক লেখেন, বোম্বে হাইকোর্ট জানাচ্ছে আরিয়ান নির্দোষ। তাহলে আরিয়ান ও তার পরিবারকে যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তার খেসারত কে দেবে?

জুয়েলারি ডিজাইনার ফারাহ খান আলীও টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, শাহরুখ ও গৌরী খুশি। ঈশ্বর মহান।

শনিবার আরিয়ানের জামিন আদেশ প্রকাশ করা হয়। সেখানে বোম্বে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, মাদক মামলায় প্রাথমিকভাবে আরিয়ানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া এখনো এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে আরিয়ান খান, আরবাজ মার্চেন্ট ও মুনমুন ধামেচা মিলে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। আদালত জামিন আদেশে আরো বলেন, অভিযুক্তদের কাছে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য মাদক পাওয়া গেছে, তার অর্থ এই নয় যে তাদের অপরাধেরও ইচ্ছা ছিল। আরিয়ানদের বিরুদ্ধে দেশটির কেন্দ্রীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এনসিবি) যে জবানবন্দি জমা দিয়েছিল, আদালত সে সম্পর্কে বলেছেন, পুলিশের নেয়া জবানবন্দির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এটি কেবল তদন্তের প্রয়োজনে ব্যবহার হতে পারে।

এদিকে ছেলে আরিয়ানকে গ্রেফতার করা এনসিবির মুম্বাই জোনাল ডিরেক্টর সামীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলিউড সুপারস্টার শাহরুখকে পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। কিন্তু শাহরুখ সত্যিই এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ব্যাপারে খান পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন জানিয়েছেন, দ্রুতই শাহরুখ এর জবাব দেবেন। আরিয়ানকে যারা কারাগারে পাঠিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শাহরুখকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তাই অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, শিগগিরই বলিউড বাদশাহ সামীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন। তবে এ ব্যাপারে বেশি কিছু জানাননি খান পরিবারের ওই ঘনিষ্ঠজন।

গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের একটি প্রমোদতরী থেকে আরিয়ান খানসহ মোট আটজনকে আটক করে এনসিবির একটি দল। সেই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন সামীর ওয়াংখেড়ে। এরপর কয়েক দফা মামলার শুনানি হয়। তবে জামিন পেতে দেরি হয় আরিয়ানের। ফলে প্রায় এক মাস মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের কারাগারে কাটাতে হয়েছে আরিয়ানকে।

 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইম