নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণোৎসব ২০২৬’। ১৪-১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে এ স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবের আয়োজনে থাকছে নাট্যপ্রদর্শনী, স্মরণ শোভাযাত্রা, পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভা ও নাট্যাচার্যের প্রতিকৃতি দিয়ে শিল্পকলা চত্বর সজ্জা। এ উৎসবে মঞ্চস্থ হবে স্বপ্নদলের দেশ-বিদেশে প্রশংসিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’ এবং নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ধ্রুপদী নাটক ‘হরগজ’। দুটি প্রযোজনারই নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যাচার্যের ছাত্র জাহিদ রিপন।
নাট্যাচার্যকে স্মরণ করে স্বপ্নদলের নিয়মিত এ উৎসবের এটি ৩৩তম আসর। এবারের স্লোগান ‘আসুক যতই ঝড়-ঝঞ্ঝা নিকষ অন্ধকার, সেলিম আল দীন-রবীন্দ্রনাথ মোদের বাতিঘর’।
উৎসবের প্রথম দিন ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধির উদ্দেশে স্মরণ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হবে।
দ্বিতীয় দিন ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র ১২১তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। আধুনিক বাংলা নাট্যরীতিতে নির্মিত এ প্রযোজনা এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের নানা উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সমাপনী দিন ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় একই মঞ্চে প্রদর্শিত হবে সেলিম আল দীনের চিরায়ত নাটক হরগজের ৫০তম প্রদর্শনী।
নির্দেশক জাহিদ রিপন বলেন, ‘নাট্যগুরু সেলিম আল দীনের পরামর্শেই তার প্রয়াণের পর চিত্রাঙ্গদা প্রযোজনাটি নির্মাণ করা হয়। নাট্যাচার্য সারা জীবন বাংলা নাট্যরীতি পুনর্নির্মাণ ও গবেষণায় নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই মঞ্চে আনা হয়েছে তারই দুরূহ ও গুরুত্বপূর্ণ রচনা হরগজ। তাই এবারের স্মরণোৎসবে এ দুই প্রযোজনার মঞ্চায়ন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ এলাকায় সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী টর্নেডোর অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেলিম আল দীন রচনা করেন হরগজ। ভয়াবহ ঝড়ের পর উদ্ধারকারী দলের অভিজ্ঞতা, বাস্তব জগৎ থেকে নিরাকৃতির জগতে প্রবেশ এবং তার প্রতিক্রিয়া ও পরিণতিই এ নাটকের মূল বিষয়।
অন্যদিকে মহাভারত অবলম্বনে রচিত চিত্রাঙ্গদা নাটকে মণিপুরি রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের প্রেমকাহিনীর মধ্য দিয়ে নারীর আত্মপরিচয়, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানবোধের বিষয়টি গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলা ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাট্যতাত্ত্বিক ও নাট্যকার নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রয়াত হন।










