অভিনেত্রী জয়া বচ্চন সোজা কথা বলার জন্য বলিউডে পরিচিত। শুরু থেকেই তিনি এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। বর্তমানে অমিতাভ বচ্চন একটি ব্র্যান্ড হলেও তার আগে জয়া বচ্চন বলিউডে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন। সে সময় জয়ার সঙ্গে অমিতাভের ভালো বন্ধুত্ব হয়। এ সময় অমিতাভকে অপমান করার কারণে জয়া বচ্চন (সে সময় ভাদুড়ী) রাজেশ খান্নাকে ডেকে পাঠান।

১৯৭২ সালের কথা। জয়া ও রাজেশ সে সময় বাওয়ার্চি (বাবুর্চি) সিনেমায় কাজ করছিলেন। অমিতাভ মাঝে মাঝেই সেটে গিয়ে উপস্থিত হতেন। সেখানে অমিতাভের আড্ডা দেয়ার বিষয়টি রাজেশ পছন্দ করেননি। সম্ভবত তার ধারণা ছিল অমিতাভ এ ইন্ডাস্ট্রিতে বেশিদিন থাকতে পারবেন না। জয়া রেগে বলেছিলেন যে খান্না আজ যাকে নিয়ে মজা করছেন সে একদিন বলিউডে রাজত্ব করতে পারে।

মজার ব্যাপার হলো রাজেশ খান্নার করার কথা এমন একটি সিনেমা করেই অমিতাভ বলিউডে তার জায়গা পোক্ত করেন। ১৯৭৫ সালে সেলিম-জাভেদের চিত্রনাট্যে যশ চোপড়ার পরিচালনায় আসে দিওয়ার। এ সিনেমার জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন রাজেশ খান্না। এ প্রসঙ্গে রাজেশ খান্নার বক্তব্য খানিক ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘সেলিম-জাভেদের সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য ছিল। তারা অমিতাভকে এ সিনেমায় নিতে চেয়েছিলেন এবং এ কারণে যশ চোপড়াকে বাদ দিতেও তাদের আপত্তি ছিল না। যশ চোপড়া দিওয়ারে আমাকে নিতে চাইলেও তার করার কিছু ছিল না। তারপর তারও হয়তো মনে হয়েছিল অমিতাভই এ সিনেমার জন্য ঠিকঠাক। এরপর দিওয়ারের দুটো রিল দেখে আমি নিজেই বলে উঠেছিলাম ‘আরে! কী অসাধারণ।’ নামাক হালাল বা আনন্দ যেখানেই তার সঙ্গে কাজ করেছি আমি তার প্রতিভা দেখেছি। মানে ভাতের হাঁড়ি থেকে একটা চাল তুলে নিয়ে দেখলেই ভাতের অবস্থা বোঝা যায়। কিন্তু প্রতিভা প্রকাশের উপযুক্ত সুযোগটা পাওয়া দরকার। দিওয়ার দেখার পর থেকে আমি তাকে সম্মান করি। কিন্তু যতবার সে কোনো ভুল করেছে আমি তা দেখে হেসেছি। কারণ একই ভুল কখনো আমিও করেছিলাম।”

যেকোনো ইন্ডাস্ট্রিতেই খুটখাট লেগে থাকে সহকর্মীদের মধ্যে। রাজেশ অমিতাভের মধ্যকার বিষয়টিও অনেকটা সে রকম। অন্যদিকে অমিতাভকে নিয়ে জয়ার সচেতনতা তাদের পরবর্তী সময়ের সম্পর্কের সূচনার আভাস ছিল, এমনটা বলাই যায়।

 

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস