সিনেমার তারকাদের তারকাখ্যাতি কমে যাচ্ছে। এ ধরনের কথা এখন অনেকেই বলছেন। সে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী নাটালি পোর্টম্যানও। সম্প্রতি তাকে ফিচার করা হয়েছিল ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যায়। সে ম্যাগাজিনের সূত্র ধরেই তিনি বলেন, ‘আজকালকার ছেলেমেয়েরা সিনেমার তারকাদের চেনে না। বরং তারা চেনে ইউটিউবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের।’
ইউটিউবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে এ কথা সত্য। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউটিউবে ভিডিও দেখতে থাকেন। এর কারণ হিসেবে নাটালি বলেন, ‘সিনেমাকে এখন আর বিনোদনের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে ধরা হয় না। নির্দিষ্ট কিছু মানুষই কেবল এখন সিনেমাকে আগের মতো করে দেখে। আমার সন্তানদের বয়সী কাউকে সিনেমা নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা তারকাদের তুলনা করে ইউটিউবারদের সঙ্গে।’
কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসে—এতে দোষ কোথায়? উত্তরও দিয়েছেন নাটালি। তিনি বলেন, ‘আপনার শিল্প জনপ্রিয় হবে কিনা বা তা গ্রহণ করবে কারা, এ নিয়ে ভোক্তার স্বাধীনতা আছে। ব্যক্তির যা পছন্দ, তিনি তা দেখতে বা গ্রহণ করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এটা বাণিজ্যের চেয়ে বেশি প্যাশনের ব্যাপার। কিন্তু একটা পর্যায়ে, শিল্পের কোনো ক্ষেত্র যখন কম জনপ্রিয় বা অজনপ্রিয় হয়, আমরা ভাবতে বাধ্য হব—তার জন্য এসব তৈরি করব?’
অবশ্য ভিন্ন ধারার কনটেন্ট জনপ্রিয় হওয়ার বিষয়ে নাটালি নেতিবাচক মনোভাব রাখেন না। তিনি বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন সব। অভিনেত্রী বলেন, ‘একদিকে ভালো যে শিল্পের এ বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। কেউ চাইলেই নিজের মতো করে কিছু বানাতে পারে। প্রকাশ করতে পারে। তাকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না।’
নাটালি হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সেরার তালিকায়ও আছে তার নাম। কাজ সহজ হওয়ার বিষয়ে ব্ল্যাক সোয়ান অভিনেত্রী বলেন, ‘মানুষ সহজেই এখন অনেক কিছুতে যুক্ত হতে পারছে। একটা ছোট শহরের কোনো ব্যক্তিও সিনেমাকে দেখতে পারে তার বেড়ে ওঠার সময়কার বিনোদন মাধ্যম হিসেবে। আগে ইন্টারনেট এত সজলভ্য ছিল না। এখন যে কেউ যুক্ত হতে পারে সিনেমা কিংবা ইউটিউবে কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে। ভালো-মন্দ দুটো দিকই দেখছি আমি।’
সূত্র: ইয়ন










