কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে তার চলচ্চিত্র যাত্রা। তারপর গল্পটা ঠিক যেন ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’। অপুর সংসারের মিষ্টি বালিকা বধূ শর্মিলা ঠাকুরকে আপন করে নিয়েছিল দর্শক। একে একে তিনি উপহার দিতে থাকেন দর্শকপ্রিয় সব সিনেমা। অভিনয় ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকার সময়ই প্রেম হয় পতৌদির নবাব ক্রিকেটার মনসুর আলী খানের সঙ্গে। ১৯৬৮ সালে তাদের প্রণয় পরিণয়ে গড়ায়। তারপর থেকে ভাটা শুরু হয় ক্যারিয়ারে। 

মূলত পরিবারকে সময় দিতেই ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর। অভিনয় একেবারেই যে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তা নয়। সাংসারিক দায়িত্ব পালন করার ফাঁকে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। সর্বশেষ ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া ব্রেক কি বাদ সিনেমায় তাকে দেখা গিয়েছিল। এ বছর গুলমোহর সিনেমার মাধ্যমে ১৩ বছর পর পর্দায় ফিরবেন বর্ষীয়ান এ অভিনেত্রী। আগামী মার্চে ওটিটি প্লাটফর্ম ডিজনিপ্লাসহটস্টারে মুক্তি পাবে এ সিনেমা।

পারিবারিক জীবনেও সফল শর্মিলা ঠাকুর। সম্প্রতি বলিউড হাঙ্গামাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আমরা প্রায়ই নিজেদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিই না। পরিবারকে একত্রে রাখার একটি প্রচেষ্টা সবসময় থাকে। সংসার করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর আমি অনেক সিনেমা ছেড়ে দিয়েছি। আমি তখন ক্যারিয়ারের তুঙ্গে ছিলাম। অনেক সিনেমার প্রস্তাব আমি ফিরিয়ে দিয়েছি, যেগুলো হিট হতো।’

নিজের ক্যারিয়ারে ছাড় দিয়ে পরিবারকে দারুণভাবে আগলে রেখেছেন এ অভিনেত্রী। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পেরে তিনি গর্বিত। এ সাফল্যের রহস্য প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে খাবার টেবিলেও সবাইকে একত্র করা বেশ দুরূহ। কেউ ফোন নিয়ে ব্যস্ত। কেউ কোনো কিছুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু এটি অসম্ভব নয়।’ তিনি জানান, তার সন্তানদের দুপুরের খাবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে একত্রে খেতে হতো। এ সময় নিজেদের মধ্যে কথা বলা বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি আরো বলেন, ‘এখনো খাবার টেবিলে আমি তাদের ফোনে কথা বলতে নিষেধ করি। টেলিফোন বাইরে রাখা হয়। কারণ, এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। কিছু নিয়ম থাকা উচিত। সবাই একত্রিত হওয়ার মতো একটি জায়গা থাকা দরকার।’

মায়ের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করছেন সাইফ আলী খান। পরবর্তী প্রজন্মকে তিনি পতৌদি পরিবারের এ ঐতিহ্য শিক্ষা দিচ্ছেন। এ নিয়ে বেশ খুশি শর্মিলা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘আমি এ ঐতিহ্য বজায় রাখতে চাই। সাইফও একই কাজ করছে দেখে আমি আনন্দিত।’

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস