বহু বিলম্বের পর মুক্তি পাচ্ছে ফাওয়াদ খান অভিনীত ‘দ্য লিজেন্ড অব মাওলা-জাট’। সিনেমাটির ট্রেলার প্রায় দুই বছর আগে এলেও কভিড-১৯ ও অন্যান্য কারণে মুক্তি পায়নি। শেষ পর্যন্ত এটি থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল। সিনেমাটি ইউনুস মালিকের ১৯৭৯ সালের ‘মাওলা-জাট’ থেকে অনুপ্রাণিত। পাকিস্তানের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ বাজেটের সিনেমা। পরিচালনা করেছেন বিলাল লাশারী। তার অভিষেক সিনেমা ‘ওয়ার’ (২০১৩) সে সময় বক্স অফিসে সবচেয়ে সফল হয়েছিল।

সিনেমাটি নিয়ে ফাওয়াদ খান উচ্ছ্বসিত। ভ্যারাইটিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি মিডিয়ায় মাওলা-জাট সবসময়ই অন্য উচ্চতা পেয়ে এসেছে। এ সিনেমা নিয়ে সবাই কম-বেশি জানে। জানে না এমন লোক পাওয়া যাবেই না। এতে অভিনয় করা সুলতান রাহি ও মুস্তফা কোরেশি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির দক্ষতম অভিনেতা। তাদের সময়ের অভিনয়ের মতো এ সময় অভিনয় করা যায় না। তাই আমরা সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন করে উপস্থাপন করেছি।’ পৃথিবী বদলে গিয়েছে অনেক। সে কারণে মাওলা-জাট রিমেক করা হয়নি। সাজানো হয়েছে একদম নতুন করে।

মাওলা-জাট ও নূরী নাটের এ গল্পে ফাওয়াদ খানের চরিত্র একজন প্রাইজ ফাইটারের। সে কারণে তার কিছু শারীরিক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা সবাই মাইকেলেঞ্জেলোর ভাস্কর্যের মতো ছিল না দেখতে। অনেকে ছিলেন সুমো রেসলারের মতো। আমরা তাই ঠিক করেছিলাম মডার্ন সময়ের মতো (বডি বিল্ডার) না করে মূল চরিত্রদের সঙ্গে কিছুটা মিল রাখতে। সে কারণে ওজন বাড়াতে হয়েছে।’ সিনেমাটি সব মিলিয়ে ফাওয়াদের ক্যারিয়ারেরই এক ভিন্নতম সংযোজন। কেননা সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করার আগে বেশ কিছুদিন তিনি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর টেলিভিশন সিরিজ ও সিনেমার পর তিনি বলিউডেও জনপ্রিয় হন। অভিনয় করেছিলেন খুবসুরত, কাপুর অ্যান্ড সান্স ও অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিলের মতো দর্শকপ্রিয় সিনেমায়। কিন্তু এরপর রাজনৈতিক কারণে ভারতে পাকিস্তানি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় এ কথা সবারই জানা।

বলিউডে কাজ করা বা ভবিষ্যতে করতে চাওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন ফাওয়াদ। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে বহু মানুষের সঙ্গে মিলে কাজ করার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছি। রাজনৈতিক কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কটা বৈরী হয়েছে, কিন্তু সেটা ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি। তবে সবকিছু মিলিয়ে বলতে গেলে বলিউডে কাজ করার ব্যাপারে এ মুহূর্তে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়া যাচ্ছে না। কেননা ভারতে কাজ করে এসে পাকিস্তানেও আমাকে কিছু বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে।’

ফাওয়াদ খানকে দেখা গিয়েছিল মার্ভেলের সিরিজ মিস মার্ভেলে। তার চরিত্র ও অভিনয় বৈশ্বিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদিকে মাওলা-জাটের পরে তার হাতে রয়েছে ‘নিলোফার’ ও ‘মানি ব্যাক গ্যারান্টি’। জি ফাইভের জন্য একটি অনুষ্ঠান বারজাখও করছেন ফাওয়াদ। বৈশ্বিকভাবে প্রচার হবে এটি, তবে তার আগে মাওলা-জাটের দিকে নজর থাকবে সবার। মহাকাব্যিক আবহের সিনেমাটি ফাওয়াদসহ পাকিস্তানের সিনেমাকেই নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবে বলে সবার বিশ্বাস। এ হতে পারে ফাওয়াদ ও পাকিস্তানি সিনেমার মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন।

 

সূত্র: ভ্যারাইটি